NAVIGATION MENU

সুকুমার সরকার

সুকুমার সরকার
Sep 01, 2020

সম্পাদকীয়

আমার শিকড় বাংলাদেশের মাটিতে গাঁথা: প্রণব মুখোপাধ্যায়

আমার শিকড় বাংলাদেশের মাটিতে গাঁথা: প্রণব মুখোপাধ্যায়

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শুধু ভারত নয়- বাংলাদেশের মানুষও শোকে কাতর। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোকদিবস ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের রাষ্ট্রপতির আসন অলংকৃত করে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন। আর বাঙালির মুখ উজ্জল করেছিলেন। বিশ্বে পরম গর্বিত হয়েছিল বাঙালিরা।অপরদিকে বিয়ের সূত্রে প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশের আদরের জামাই। তাই বাংলাদেশের আত্মার বন্ধনে জড়িয়ে আছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।তাঁর প্রাণপ্রিয় স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায় বাংলাদেশের নড়াইলের সন্তান। শুভ্রা মুখ্যার্জী ভদ্রবিলা গ্রামের স্বর্গীয় অমরেন্দ্র ঘোষের মেয়ে শুভ্রা। তারা চার ভাই ও চার বোন।নড়াইলের জামাই প্রণব মুখার্জীর মৃত্যুতে চিত্রা নদীর পাড়ের ভদ্রবিলা গ্রামে গভীর শোক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর আত্মীয়-স্বজনসহ নড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।  ২০১৩ সালের ৫ মার্চ সকালে শ্বশুরবাড়ি বেড়ানোর উদ্দেশে স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জীসহ নড়াইলে বেড়াতে আসেন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী।  এরআগে ১৯৯৬ সালে মেয়ে শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়িয়ে যান শুভ্রা। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী শুভ্রা পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের গ্রাম নড়াইলের ভদ্রবিলায় কাটিয়েছিলেন। এরপর দাদা বাড়িতে থেকে স্থানীয় চাঁচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারত চলে যান।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই শুভ্রা ঘোষের  সঙ্গে প্রণব মুখার্জীর বিয়ে হয়। ওই সময় তারা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। অভিজিৎ মুখার্জি ও সুরজিৎ মুখার্জী নামের দুই ছেলে ও শর্মিষ্ঠা মুখার্জী নামে এক মেয়ে রয়েছে তাঁদের।শ্বশুর বাড়ি ঘুরে যাওয়ার পর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে স্ত্রীর নামে একটি তিনতলা ছাত্রী হোস্টেল করে দিয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এছাড়া শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের দাদাবাড়ি চাঁচড়ায় একটি মন্দির ও একটি হাইস্কুলে ভবনও নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। আত্মীয়তার এই বন্ধনকে স্মরণ করে ২০১৩ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমার শিকড় বাংলাদেশের মাটিতে গাঁথা এবং আমি এর ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আত্মভূত করেছি। আমার স্ত্রীর জন্ম নড়াইলে এবং এখানেই তিনি লেখাপড়া শুরু করেন।তিনি আরও বলেন, “আমি বড় হয়েছি আপনাদের মতো একই সাহিত্যিক ও কবিদের লেখা পড়ে, সেসব গান শুনে যা আমাদের উভয় দেশের জনগণ ভালোবাসেন, ঘুরে বেড়িয়েছি একই নদীর তীরে,...


Aug 14, 2020

সম্পাদকীয়

জাতির পিতাকে হারানোর মহাশোকের দিন ১৫  আগস্ট

জাতির পিতাকে হারানোর মহাশোকের দিন ১৫ আগস্ট

আজ বাঙালী জাতির জীবনে মহাশোকাবহ দিন ১৫  আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে পাকিস্তানপন্থী কিছু সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন জামার্নিতে স্বামী পরমাণুবিজ্ঞানী ড: ওয়াজেদ মিয়ার কাছে ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ছিলেন আজকে সোনারবাংলা গড়ার কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।কপাল জোরে দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরে দুইবোন ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী  ইন্দিরা গান্ধীর উদ্যোগে ভারতে গিয়ে নিশ্চিতে অবস্থান করেন। ইন্দিরা গান্ধী তাঁদের দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন।পাকা ছয় বছর অবস্থানের পর জীবনের ঝুঁকি বুঝেও দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে ছিল সুগভীর ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ১৯৭১ সালে তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।১৫ আগস্ট বাঙালী জাতির জীবনে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়।  সাড়ে তিন বছর বয়সী সদ্যস্বাধীন দেশটিকে পুনরায় পাকিস্তান বানাতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১২ বছরের পুত্র শেখ রাসেলসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। প্রশ্ন আসে- ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশের সামরিক সদস্য বাদে বেসামরিক ব্যক্তি বিদেশের কারা জড়িত ছিল । প্রথমেই চলে নাম চলে আসে পাকিস্তানের। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে সাহস পায়নি। কিন্তু এদেশের কুলাঙ্গার সন্তানদের দিয়ে হত্যা করিয়েছে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কিছু সময়ের মধ্যে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এর একদিন পর অর্থাৎ সাড়ে তিন বছর পর চিন বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে চিন-যুক্তরাস্ট্রসহ ইসলামি কয়েকটি দেশ পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা অপরদিকে ভারত তাঁর মিত্রদের নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। এক কোটি বাঙালী উদ্বাস্তুকে ভারতে আশ্রয় ও খাদ্য সংস্থান করে। যুদ্ধে ভারতের সাড়ে ১৭ হাজার সৈন্য শহীদ হন। যা শেখ হাসিনা সরকার সব সময় কৃতঙ্গতা ভরে স্মরণ করেন।      ব্ঙ্গবন্ধুকে হত্যার বেনিফিসারি হয়েছিল তাঁর সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা পাকিস্তানপন্থী খন্দকার মোশতাক আহমেদ, উপ সেনা প্রধান জেনারেল  জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। প্রশ্নে আসে বঙ্গবন্ধুকে...


Jul 29, 2020

শিল্প ও সাহিত্য

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ (২৯ জুলাই) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যুবার্ষিকী। ঈশ্বরচন্দ্র সম্পর্কে আরেক পণ্ডিত, সনেট কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন:- ‘বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে।করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,দীন যে, দীনের বন্ধু !- উজ্জল জগতেহেমাদ্রির হেম-কান্তি অম্লান কিরণে।কিন্তু ভাগ্য-বলে পেয়ে সে মহা পর্বতে,যে জন আশ্রয় লয় সুবর্ণ চরণে,সেই জানে কত গুণ ধরে কত মতেগিরীশ। কি সেবা তার সে সুখ সদনে !দানে বারি নদীরূপ বিমলা কিঙ্করী।যোগায় অমৃত ফল পরম আদরেদীর্ঘ-শিরঃ তরু-দল, দাসরূপ ধরি।পরিমলে ফুল-কুল দশ দিশ ভরে,দিবসে শীতল শ্বাসী ছায়া, বনেশ্বরী,নিশায় সুশান্ত নিদ্রা, ক্লান্তি দূর করে।’মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর মধ্যে দেখতে পেয়েছিলেন প্রাচীন ঋষির প্রজ্ঞা, ইংরেজের কর্মশক্তি ও বাঙালি মায়ের হৃদয়বৃত্তি।বাঙালি সমাজে বিদ্যাসাগর মহাশয় আজও এক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান ঈশ্বচন্দ্র  নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান। যার তৈরী বর্ণপরিচয় একটা শুধু বই নয়, একটা আন্দোলনের নাম। লেখক, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা ভগবতী দেবী।পাঁচ বছর বয়সে সনাতন বিশ্বাসের পাঠশালায় বিদ্যাসাগরের পড়াশোনা শুরু। আট বছর বয়সে বাবার সঙ্গে হেঁটে তিনি কলকাতা যান এবং শিবচরণ মল্লিকের পাঠশালায় এক বছর পড়েন।সংস্কৃত কলেজে ১২ বছর অধ্যয়ন করেন এবং ব্যাকরণ, কাব্য, অলংকার, বেদান্ত, স্মৃতি ন্যায় ও জ্যোতিষশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এসব বিষয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তিনি ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ করেন।পড়ালেখা শেষে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড পণ্ডিত পদে যোগ দেন। পাঁচ বছর পর সংস্কৃত কলেজের সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার।এ বছর বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী। রাজ্য সরকারের তরফে বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উদযাপনে বিবিধ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।১৮৪৬ সালের এপ্রিল মাসে সংস্কৃত কলেজে সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত কলেজের শিক্ষকগণের রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে ১৮৪৭ সালের জুলাই মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের কাজে ইস্তফা দেন এবং ১৮৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে, ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের হেড রাইটার ও কোষাধ্যক্ষ...


Jul 10, 2020

অপরাধ

এক ল্যাপটপেই মিলল ১৫ হাজার ভূয়া করোনা রিপোর্ট

এক ল্যাপটপেই মিলল ১৫ হাজার ভূয়া করোনা রিপোর্ট

কভিড-১৯ যেন প্রতারকদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে! করোনার পরীক্ষা নামে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।এরই মধ্যে এ চক্রের সদস্যরা হাজারো মানুষের হাতে করোনা টেস্টের নামে ভুয়া সনদ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। ‘জেকেজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বিশদ তদন্ত করে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা বিস্ময়কর।ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনার টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করেছে। ঢাকার অভিজাত ও কূটনৈতিক পল্লি হিসেবে খ্যাত গুলশানে তাদের অফিসের  একটি জব্দ করে এই ভূয়া রিপোর্ট সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে।মনগড়া করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেলে পাঠায় তারা। টেস্টের জন্য তারা জনপ্রতি নিয়েছে সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। বিদেশি নাগরিকদের কাছে জনপ্রতি একশ' ডলার।এ হিসাবে করোনার টেস্ট বাণিজ্য করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা। করোনা মহামারিতে মানুষের জীবন নিয়ে এমন নির্মম বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত জেকেজির চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী প্রতারক আরিফ চৌধুরী।জেকেজির কেলেঙ্কারিতে আরিফসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও সাবরিনা পলাতকে এরআগে করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত ‘রিজেন্টে’ র অপকর্ম ঘিরে যখন নানামুখী আলোচনার মধ্যেই জেকেজির চারটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মিলল এমন তথ্য।জেকেজির কার্যালয় থেকে ল্যাপটপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।জেকেজি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৭ হাজার রোগীকে করোনার টেস্টের সনদ দেয়। তার মধ্যে আইইডিসিআরের মাধ্যমে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনার সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল।বাদ বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট তারা গুলশানের তাদের কার্যালয়ের ১৫ তলার একটি ফ্লোরে বসে ল্যাপটপে তৈরি করেছিল। ওই ফ্লোরে একটি ল্যাপটপ, একটি বিছানা আর টেবিল ছাড়া কোনো সামগ্রী ছিল না।জেকেজির ৭/৮ জন কর্মী দিনরাত ওই ল্যাপটপে বসে ভুয়া রিপোর্ট বানাতো। জেকেজির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে করোনা উপসর্গ রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করত। এরপর পরীক্ষার নামে কারো পজিটিভ আর কারো নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়া হতো।বখশিশ :করোনার এই ভুয়া...


Jun 07, 2020

জাতীয়

অফিস খোলার প্রথমদিনেই দেশজুড়ে কড়া লকডাউন

অফিস খোলার প্রথমদিনেই দেশজুড়ে কড়া লকডাউন

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে লকডাউন আরোপ করার ফলে মহামারির বিস্তার তেমন ঘটেনি। কিন্তু জীবীকার তাগিদে গামের্ণ্টস খুলে দেওয়া ও লকডাউন ঢিলেঢালা করায় তর তর করে বাড়তে থাকে মৃত্যু ও সংক্রমণ। এ অবস্থায় সরকার ফের লকডাউন আরও কঠোরভাবে আরোপের উদ্যোগী হয়েছে। আজ রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি শেষে অফিস খেলার প্রথম দিনেই ঢাকার ৪৩টি এলাকা আগারগাঁ, তালতলা, শের-ই-বাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএসএইচ, ওল্ড ডিওএসএইচ, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী বন্ধ থাকছে।করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আক্রান্তের আধিক্য বিবেচনায় রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোনে চিহ্নিত করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়ন হবে স্বাস্থ্যবিধি ও আইনি পদক্ষেপ।সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ কথা জানানোর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হচ্ছে ৭৫টি। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শনিবার (৬ জুন) সর্বশেষ আপডেট করা তালিকায় বরিশাল বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন বলা হচ্ছে বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরকে। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন ভোলা ও ঝালকাঠি।চট্টগ্রাম বিভাগে পুরোপুরি লকডাউন বলা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীকে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে পুরোপুরি লকডাউন বলা হচ্ছে গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইলকে। এই বিভাগে শুধু ঢাকা ও ফরিদপুর আংশিক লকডাউন। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ঢাকার দুই এলাকা ওয়ারি ও রাজাবাজার লকডাউনের আওতায় আনার চিন্তা চলছে।করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে দুই মাসের বেশি সময় সারা দেশে লকডাউন জারি রাখার পর ৩১ মে থেকে বেশিরভাগ বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সরকার।তবে দেশে প্রতিদিন যেখানে সংক্রমণ বাড়ছে, সেখানে সব অফিস খোলার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন অনেকে।এই...


May 25, 2020

সম্পাদকীয়

ব্যতিক্রমী ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, নেই দাওয়াত রক্ষা ও ঘোরাঘুরি

ব্যতিক্রমী ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, নেই দাওয়াত রক্ষা ও ঘোরাঘুরি

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। সংখ্যাগুরু বাংলাদেশে এ এক ব্যতিক্রমী ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। যা আগে কখনো দেখা যায়নি বা চিন্তাও করা যায়নি। এমনকি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ অকাতরে পাকিস্তানি সেনা গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন, তারপরও দেশ স্বাধীন হবে এই স্বপ্নে ঈদ উদযাপন করেছেন। ঈদুল ফিতর তো ৭১-এর নভেম্বর মাসের শেষের দিকে এক কোটি শরনার্থী ও মুক্তিযোদ্ধারা ঘটা করে পালন করেছেন। এবাবের করোনাকালে ব্যতিক্রমী ঈদ পালিত হচ্ছে। নেই আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের বাড়ি গিয়ে জমপেশ আড্ডার পাশাপাশি খানাপিনা ও ঘোরাঘুরি-কোলাকুলি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করার জন্য গ্রামের বাড়ি ফেরার জন্য দৌড়াদৌড়ি থাকে। ঈদের আগে আগে তাই বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে ঠাঁই হয় না মানুষের। শহর ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামে ফেরে লাখ লাখ মানুষ। খোলা মাঠের ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায় করে কোলাকুলি করে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। কিন্ত এবারের ঈদ পালিত হচ্ছে একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। করোনার তীব্র হানার মধ্যেই আমফানের তাণ্ডবলীলা দেশের সিংহভাগ কৃষককে নিঃস্ব করে দিয়েছে।রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে গণজমায়েত এড়িয়ে ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বারতা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। এদিকে, বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ঈদ শান্তি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। হিংসা ও হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। গত বছরের পরিসংখ্যাণে দেখা গেছে, ইদের অর্থনৈতিক লেনদেন দেড় লাখ কোটি টাকা। আমাদের মতো নিম্নমাধ্যম আয়ের দেশে একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে এত টাকার লেনদেন ভাবা যায়! করোনায় দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনে মানুষ শুধু কর্মহীনই হয়নি, হয়েছে উপার্জনহীন, সর্বোপরি স্বপ্নহীন। সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি যারা সম্মান,...


May 23, 2020

করোনা

২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত সচিব ও পুলিশসহ মৃত্যু ২০, আক্রান্তেও রেকর্ড

২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত সচিব ও পুলিশসহ মৃত্যু ২০, আক্রান্তেও রেকর্ড

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সারি ক্রমেই বড় হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের রেকর্ড সৃষ্টি হলো।আর মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো আরও ২০ জন। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৮৭৩ জনের। এ নিয়ে মোট মারা গেছেন ৪৫২ জন।শনাক্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৮ জন।করোনা ভাইরাসকরোনায় এবার মারা গেলেন অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ মো. তৌফিকুল আলম।   ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইরত বাংলাদেশ পুলিশে আরও একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে ১২ জন পুলিশ মারা মারা গেলেন। শুক্রবার রাতে রাজশাহীর খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।  মারা যাওয়া ওই পুলিশ সদস্যের নাম এসআই মোশাররফ হোসেন। নতুন করে পুলিশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৮ জন। এ নিয়ে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৭৪ জন।করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালে মারা গেছেন মৌলভীবাজারের সাবেক সিভিল সার্জন আব্দুল মতিন। শুক্রবার (২২ মে) দিনগত রাতে তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে সিলেটের ড. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর রাতেই তার মৃত্যু হয়। হয়, এই পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ১০ জন রোগী করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।তিনি বলেন, দেশে ৪৭টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৭৭টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৩৪টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৫টি।তিনি আরও বলেন, একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ২৯৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ৬ হাজার ৪৮৬ জন।এদিকে শনিবার পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত ১ হাজার ২০ জন, পরিবারবর্গ ৯২ জন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেসামরিক ও অন্যান্য ২৫২ জনসহ মোট ১ হাজার ৩৬৪ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন ও ৪২১ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্ব-স্ব আবাসস্থলে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এ ছাড়া ভর্তিরত অপর রোগীরা সুস্থ আছেন। আইএসপিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই...


May 23, 2020

জাতীয়

যথেষ্ট হয়েছে, এবার রোহিঙ্গাদের আপনারা আশ্রয় দিন: পশ্চিমাদেশগুলোর প্রতি মোমেন

যথেষ্ট হয়েছে, এবার রোহিঙ্গাদের আপনারা আশ্রয় দিন: পশ্চিমাদেশগুলোর প্রতি মোমেন

 ‘আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে।এবার আপনারা ওদের আশ্রয় দিন।আমাদের ঘাড়ে আর চাপাবেন না।’ এমন করেই পশ্চিমা দেশগুলোকে ঝাড়লেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী  ড. এ কে আব্দুল মোমেন । তিনি নতুন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশকে চাপ না দিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহবান জানান। আব্দুল মোমেন একই সঙ্গে  বাংলাদেশে আশ্রিত সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে আশ্রয় দিতে পরামর্শ দেন। বিদেশ মন্ত্রক থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বিদেশমন্ত্রী ওই আহবান জানান।সম্প্রতি এক ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপের কথা তুলে ধরে মোমেন বলেন, ‘সেদিন ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন। তাঁকে বললাম, দেখেন, আমাদের দেশে মাথাপিছু বার্ষিক আয় হলো দুই হাজার ডলার। আর আপনাদের হলো ৫৬ হাজার ডলার। আর আমার এখানে এক হাজার ২০০ লোক প্রতি বর্গমাইলে থাকে। আর আপনার দেশে ১৫ জন লোক প্রতি বর্গমাইলে থাকে। আপনি নিয়ে যান না কেন রোহিঙ্গাদের? আপনার যদি অত দরদ থাকে, আরো ভালো জীবন দেবেন, নিয়ে যান আপনারা। অসুবিধা কী? আমরা কাউকে আটকাব না। অন্যত্র স্থানান্তর করুন। যেকোনো দেশে নিয়ে যান।’রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁদের দেশে নিয়ে যান না কেন? ক্যালিফোর্নিয়া অভিবাসীদের ভূমি। সেখানে নিয়ে যান আপনারা। কাউকে দিতে আমাদের আপত্তি নেই।’রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের ওপর চাপের সমালোচনা করে মোমেন বলেন, ‘আন্দামান সাগর, ভারত মহাসাগরে যখনই ঝামেলা হয় তখন সবাই খালি বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে। আপনারা ওদের আশ্রয় দেন। ভাবখানা এমন, যেহেতু আমরা আগে ১১ লাখকে দিয়েছি, বাকিগুলোরও দেব। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি যে আমরা পারব না। আমাদের আর কোনো জায়গা নেই। আর অন্যদের একটা দায়িত্ব আছে।’তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা আমাদের একার সমস্যা না। এটা বিশ্বের সমস্যা। বড় বড় যাঁরা মাতব্বর, যাঁরা সারাক্ষণ আমাদের উপদেশ দেন, আদেশ করেন, তাঁরাও নিতে পারেন। তাঁদের জায়গার কোনো অভাব নেই।’ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নিয়ে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর বিরোধিতার সমালোচনা করে মোমেন বলেন, ‘তাঁদের উদ্বেগ হলো, ভাসানচর একটু দূরে। তাঁরা সহজে যেতে পারবেন না। কক্সবাজারে তাঁরা কুতুপালংয়ে থাকলে ১৫ মিনিটের ড্রাইভ (গাড়ি চালানোর পথ) হচ্ছে কক্সবাজার। সেটি একটি রিসোর্ট সিটি। সেখানে চার-পাঁচতারা হোটেল...


May 21, 2020

জাতীয়

আমফান প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে প্রাণ কাড়লো ৮ জনের

আমফান প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে প্রাণ কাড়লো ৮ জনের

ফনি, আইলা ও সিডরের ক্ষতটাকে বাংলাদেশের মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিল এবার ‘আমফান’। মূলত: পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সুন্দরবন ঘেঁষে ‘আমফান’ বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাসমূহসহ দেশের মধ্যভাগের কয়েক জায়গায় আঘাত হেনেছে।বৃহস্পতিবার ভোর অবধি ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।ভয়াবহ ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে আজ দুপুরের মধ্যেই।উপকূল পেরিয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে আমফান স্থলভাগের দিকে এগিয়ে যায়। তার আগে পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। রেহাই ছিল না ঢাকাবাসীর। রাতভর ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়েছে প্রায় সারারাত। ভোরের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে এলেও মাঝে মাঝেই দমকা হাওয়া বইছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। আইলার থেকেও বেশি গতি নিয়ে তা আছড়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে।  সেই তাণ্ডব দেখে থমকে গেছেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। ভারতের গণমাধ্যমে তিনি এই ঝড় সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বলেন, সর্বনাশ হয়ে গেছে। ধ্বংস করে দিয়ে গেলো সব। কলকাতায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।আর বাংলাদেশে ৮ নিহতরা হলেন- যশোরের চৌগাছায় গাছ চাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। সাতক্ষীরায় আম গাছের ডাল ভেঙে কহিনুর বেগম (৪০)মারা গেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে এর নিচে চাপা পড়ে রাসেদ নামে ৬ বছরের একটি শিশুর ঘটনাস্থলেই  মৃত্যু হয়। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জন সচেতনতার প্রচার কাজ চালাতে গিয়ে ধানখালীর ছৈলাবুনিয়া এলাকায় খালে নৌকা ডুবে সিপিপি’র দলনেতা শাহ আলম মারা গেছেন।ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণে গাছ চাপা পড়ে ছিদ্দিক ফকির (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।ওই বৃদ্ধ বয়স্ক ভাতা আনার জন্য ভাড়া করা মোটরসাইকেলে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দেয়াল চাপা পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার নাম শাহজাহান মোল্লা (৬০)। রাত সাড়ে আটটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে জোয়ারের জলে ডুবে মো. সালাউদ্দিন (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। দুপুরের দিকে সন্দ্বীপ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সন্দ্বীপ থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. সোলাইমান জানান, উপকূলে ঘাস কাটতে গিয়ে ওই যুবক জোয়ারের জলে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তার...


May 16, 2020

জাতীয়

লকডাউনে ব্যবসায়ীদের প্রতিবছরের মওকা এবার হাতছাড়া

লকডাউনে ব্যবসায়ীদের প্রতিবছরের মওকা এবার হাতছাড়া

রোজা মানুষের কাম-লোভ সংযম থেকে বিরত রাখতে সহায়তা করে। আর এক মাস রোজা শেষে ঈদের খুশির বিষয় তো আছেই। কিন্তু আমাদের দেশের এক শ্রেণির ব্যবসায়ী রোজার মাসটিকে বা ঈদকে মওকা হিসেবে বেছে নেয়।বাড়িয়ে দেয় পণ্য সামগ্রীর দাম। মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নআয়ের লোকেরা পড়েন চরম সংকটে। কিন্তু ওই শ্রেণির ব্যবসায়ীরা তো জনবান্ধব নয়। তাদের চাই কাড়ি কাড়ি টাকা। আর তাই পণ্যের দাম বাড়িয়ে অবৈধ আয়ের পথ বেছে নেয়। পক্ষকাল পরেই বাংলাদেশে খুশির ঈদ। অসাধু ব্যবসায়ীদের নিত্যপণ্যর দাম বাড়িয়ে দেওয়া এ চরিত্র দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এতে যে তারা ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করছে তা তাদের মাথায় থাকে না। তারা ভাবে ফেতরা ও কোরবাণীর মাংস বিলিয়ে দিয়ে সোয়াব কামাবেন।দাম বাড়িয়ে যদি বেশি দাম না পেলেও ব্যবসায়ীরা কখনো বাজারে পণ্য মূল্য হ্রাস করে না। ধরে রাখে আগামীতে আরো বেশি দামে বিক্রি করার আশায়। এবারও অবশ্য রোজা শুরুর আগেই নিত্যপণ্যের দাম  বেড়েছিল বটে। তবে কয়েক রোজা যেতেই চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে।এ বছর ওইসব ব্যবসায়ীর চরিত্র কিছুটা অন্যরকম দেখা গেল। দাম বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় দেখা গেল না্।হয়তো বা বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের ভয়ে। তারপর আবার ঢাকার সিংহভাগ মানুষ লকডাউনের কারণে গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছেন। সব হোটেল-রেস্টুরেন্টও বন্ধ। এমনকি রাজধানীর সবগুলো ক্লাবও বন্ধ। যেখানে দিন-রাত খাবার গ্রহণ করতেন ওই সব ক্লাবের সদস্যরা।এ কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিক্রিবাট্টা কমে গিয়েছে। এছাড়া এবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বেশ কিছু খোলাট্রাকে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রভাবে দাম কমতে পারে বলে অধিকাংশের ধারণা।সাধারণত: দেখা যায়- খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে টিসিবি’র পণ্য কেনেন। সেখানে মধ্যবিত্তরা লাইন দিতে লজ্জা বোধ করেন। আপনজন দেখে ফেললে লজ্জায় পড়তে হবে এই ভেবে। কিন্তু লকডাউনে লোক কম থাকায় এবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিদিনই দেখা যায় প্রাইভেট কার দাঁড় করিয়ে রেখে অনেকে টিসিবি’র ট্রাক থেকে পণ্য কিনছেন। অবশ্য সাহেব ভেতরে বসে রয়েছেন পণ্য কিনতে এসেছেন কার চালক। তারপরও বলতে হবে কিনছেন তো।আবার প্রেসক্লাবের সামনে টিসিবির পণ্য বিক্রি হওয়া দেখেও সাংবাদিকরা সেখানে ঘেষেন না লজ্জায়। এবার প্রেসক্লাবের ভেতরে টিসিবির পণ্য বিক্রি হওয়ায় সকালেই...


May 14, 2020

জাতীয়

ড: আনিসুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধকালে সীমান্তে যাতায়াতের জন্য কারটি দিয়েছিলেন

ড: আনিসুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধকালে সীমান্তে যাতায়াতের জন্য কারটি দিয়েছিলেন

বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান না ফেরার দেশে চলে গেলেন। বৃহস্পতিবার বিকাল  ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা গিয়েছেন। আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তাঁর ছেলে আনন্দ জামান, আজ সকালে তাঁর জ্বর আসে। বুকে ব্যাথাও বাড়ে। চিকিৎসকরা তাকে সিসিসি (ক্রিটিকাল কেয়ার সেন্টার) এ স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন। সকালেই এসব তথ্য দিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। রক্তে সংক্রমণের সঙ্গে পূর্বের নানা জটিলতা নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল ৮৩ বছর বয়সী এই অধ্যাপককে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান-এর মৃত্যুতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।  এক শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী।তিনি ছিলেন প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনার একজন অসাধারণ গুণী ব্যক্তি। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ড. কুদরাত-এ-খুদা জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও উপাচার্য উল্লেখ করেন।উপাচার্য আরও বলেন, জাতির যে কোন সংকটকালে ও দুর্যোগময় মুহুর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের আন্দোলনে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন সামনের সারির একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। জাতির বাতিঘর হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান-এর মৃত্যুতে দেশ ও জাতির যে ক্ষতি হল তা কখনই পুরনীয় নয়। দেশের শিক্ষা, শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।গত  ৯ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল হৃদরোগ সমস্যার পাশাপাশি কিডনি ও ফুসফুসে জটিলতা, পারকিনসন্স, প্রোস্টেটের সমস্যা ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে রাজধানী ঢাকার...


Apr 19, 2020

সম্পাদকীয়

করোনা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল সময় পার করছে

করোনা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল সময় পার করছে

বৈশ্বিক করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশে যে আশঙ্কাটা করা হয়েছিল তা সহসাই সামনে চলে এলো। গত কয়েকদিনের মৃত্যুর পরিসংখ্যাণ তাই বলে দিচ্ছে। বাড়তে বাড়তে শনিবার অবধি মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ জনে। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২২৪১ জন।না জানি রবিবার আবার শোকাবহ কি খবর মেলে?সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞমহলের ধারণা ছিল এপ্রিলের মাঝামাঝি অবধি বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে গিয়ে আমরা মোটামুটি স্বস্তির শ্বাস নিতে পারবো। কিন্তু এই মুহূর্তে আপাতত তার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা্। বরং এখন আগের দিনের মৃত্যুর রেকর্ড পরেরদিন ভেঙ্গে দিচ্ছে।বৃহস্পতিবার করোনায় মারা গেল ১০ জন, শুক্রবার ১৫জন, তবে শনিবার কমে ৯জন মারা গেল। ছোট বাংলাদেশে করোনা হানায় প্রাণ গেল ৮৪ জনের। করোনার হানা যে বেড়ে যাবে তা গত বুধবার সরকারি তরফ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে হুশিয়ারী দিয়ে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। এতে কিছুটা কাজ হলেও ব্যাপক সফলতা মিলছে না। মৃত্যুর খতিয়ান তাই বলে দিচ্ছে কিন্তু।সরকারের কড়া হুশিয়ারীর পরেও পত্র-পত্রিকায় খবর মিলছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে মানুষ আড্ডাবাজী করে যাচ্ছেন। ফল যা তাই- এতে করে কভিড-১৯  রোগীর সংখ্যা  ও সেইসঙ্গে মৃত্যুর তালিকাও দিন দিন বাড়তে শুরু করেছে। বিবিসি বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে হুশিয়ারী করে বলেছে, বাংলাদেশের জন্য করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এপ্রিল মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একদিকে যেমন সামাজিক সংক্রমণ দেখা দিতে শুরু করেছে, তেমনি সেটা ঠেকিয়ে রাখার জন্য ছুটি/ লকডাউনসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তারপরেও রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় মাত্র সোয়া ঘণ্টার সংসদ অধিবেশনে উদ্বেগের সঙ্গেই বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে এরকম একটা ঝড় উঠবে তা কল্পনার অতীত ছিল। আসলে ভাইরাস-সহ সংক্রামক রোগের কোনও পূর্বের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইডলাইন অনুসরণ করে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা থেকে আমরা কতগুলো পদক্ষেপ সঙ্গে সঙ্গে নিতে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুল, কলেজ-সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। প্রত্যেকের যাতায়াত আমরা সীমিত করে দিয়েছি। আমরা বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর বন্ধ...


Apr 17, 2020

সম্পাদকীয়

পাকিস্তানের কবর রচনা করে আজ গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার

পাকিস্তানের কবর রচনা করে আজ গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার

নিরাপরাধ বাঙালীদের ওপর পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে। অবশ্য তার আগে থেকেই তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্নস্থানে স্বাধীনতাকামী বাঙালীদের ওপর পাকিস্তানিরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আসছিল সুপরিকল্পিতভাবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকার পরেই ঢাকাসহ বাংলাদেশে হত্যা-নির্যাতন শুরু করে পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারের দল। মানুষ তখন প্রাণ বাঁচাতে সীমান্তের ওপারে ভারতে ছুটছেন। পলায়ন পথেও পাকিস্তানি সৈন্যদের বেপরোয়া গুলিবর্ষণের কাণ্ডে বাঙালী প্রাণ হারাচ্ছেন। এদিকে মুক্তিযুদ্ধ চালাতে কৌশলগত কারণে ভারতে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অনুধাবন করেন পশু শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে আর কালক্ষেপণ না করে সিদ্ধান্ত হয় প্রবাসী সরকার গঠনের। তার আগেই বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্ত হয়, শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্র প্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদেও অধিষ্ঠিত থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধানই সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন-প্রণয়নের ক্ষমতা অধিকারী।...’। ভারতে অবস্থান নেওয়া প্রবাসী সরকার গঠনকল্পে বেছে নেওয়া হয়, তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকানন এলাকাকে। দিনটি ছিল ১৭ এপ্রিল। আজ সেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে একাত্তর সালের এই দিনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ আর মুক্তির সনদে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে কবর রচিত হয় পাকিস্তানের। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। বাংলা, বাঙালী, মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর যেন অভিন্ন নাম। আর আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথে ১৭ এপ্রিল এক ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত দিন। পাকিস্তানের অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে। একাত্তরের অগ্নিঝরা এদিনেই বাঙালীর হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভিত্তিমূল রচিত হয়। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস।পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর হাতে...


Apr 14, 2020

জাতীয়

বৈরি পরিবেশে এলো নববর্ষ, শপথ হোক অশুভশক্তিকে পরাস্ত করা

বৈরি পরিবেশে এলো নববর্ষ, শপথ হোক অশুভশক্তিকে পরাস্ত করা

করোনার নখড় আঁচড়ে যখন বিশ্ব কম্পমান, তার মাঝে হাজির হলো বাঙালির প্রিয় নববর্ষ- পয়লা বৈশাখ। এমন এক বৈরি পরিবেশে বাঙালী আজ আর প্রকাশ্যে খোলা মাঠে মাঠে-ময়দানে উৎসবে যোগ দিতে পারছে না।তবে নববর্ষের ধর্মই হলো সকল অশুড়, অমানবিক অশু অপশক্তিকে হটিয়ে দিয়ে মানুষের মনে সুখ-শান্তি-প্রশান্তি এনে দেওয়া।আমাদের আজ শপথ হবে- অশুভ করোনাকে পরাস্ত করার জন্য লকডাউনসহ সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলা।আমাদের আজ নববর্ষের কাছে প্রার্থণা হবে অশুড়শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে বিশ্ববাসীর ঘরে ঘরে আগের মতো ফিরে আসুক সুখ-শান্তির সুবাতাস।আজ মঙ্গলবার ১৪২৭ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। পয়লা বৈশাখ। কিন্তু প্রতি বছরের মতো বাঙালীর বর্ষবরণের মহোৎসবটি এবার আর উদযাপনের সুযোগ নেই।বিশ্বজুড়ে হানা দিয়েছে অশুভ শক্তি নভেলা করোনাভাইরাস। অথচ বিশেষ এই দিনটিতে  হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির আলোয় এবার বাঙালীর নতুন করে জেগে ওঠার সুযোগে থাবা বসিয়েছে খলনায়ক করোনা।তবে এ বছর বাঙালী ঘরের বাইরে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে হাতে হাত ধরে না হোক অন্তত: ঘরের ভেতর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলে তাঁর নিজস্ব ঐতিহ্যের শেকড়ের শক্তি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেবে।নববর্ষ নতুন সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের দ্বারে হাজির হয়।শভ্রতার প্রত্যাশায় মানুষ সুস্বাগতম জানায়।প্রভাতের প্রথম আলোয় বরণ করে নতুন বছরকে। কেননা তা নব আনন্দে জেগে ওঠার দিন।প্রতি বছর ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠান থেকে জন্ম নিয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। কিন্তু এবার তা থাকছে অনুপস্থিত।এ বছর ছেলে তার বাবার কাঁধে উঠে,  প্রাণপ্রিয় স্ত্রী তাঁর স্বামীর হাত ধরে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ নেই। আড়ম্বরপূর্ণ না হোক, অন্তত ঘরেই নিজেদের আয়োজনে উদযাপন করতে হবে নববর্ষ।বাঙালীর নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসবে। চিরাচরিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে পয়লা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠার দিন।কিন্তু আজ দেশজুড়ে নানা অনুষ্ঠানে গানে গানে, আনন্দ আয়োজনে নতুন বছরটিকে বরণ করে নেওযার সুযোগ নেই বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষেরও।বাঙালীর গর্ব ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবার তাও থাকবে অনুপস্থিত।করোনা হানার মধ্যেও তারপরেও বছর শুরুর এই শুভক্ষণে নতুন নতুন স্বপ্ন বুনবে বাংলার কৃষক। বাঙলীর নববর্ষের সঙ্গে সবচেয়ে নিবিড় সম্পর্ক কৃষির।বাংলা সাল প্রবর্তন করেছিলেন সম্রাট...


Apr 13, 2020

সম্পাদকীয়

মাজেদকেও পুরষ্কৃত করেছিল জিয়া,  খুনিদের বিচারে বাঁধাও সৃষ্টি করে

মাজেদকেও পুরষ্কৃত করেছিল জিয়া, খুনিদের বিচারে বাঁধাও সৃষ্টি করে

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সব থেকে বেশি বেনিফিসিয়ারি হয়েছিল জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা শুধু নয় - তাদের পুরষ্কৃত করেছিল সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। অবশ্য  তাকেও অপঘাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে।অথচ বঙ্গবন্ধুর বদৌলতে একদা মেজর থেকে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে পদোন্নতি লাভ করে। জিয়ার নিহতের পর দলের কিছু চামচার বদলে একেবারে ঘরের গৃহবধূ থেকে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে চলে আসে।ওই সময়ে বাংলাদেশের অস্থির রাজনীতির সুযোগে প্রধানমন্ত্রীও বনে যান।জিয়া বঙ্গবন্ধুর দানের কৃতজ্ঞতা স্বীকার তো দূরের কথা বরং উল্টোটা দেখিয়ে আজ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।এখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় তোলার দাবি উঠেছে।ইতিহাস বলে ‘পাপ করে রেহাই পাওয়া যায়না, তা আবার প্রমাণ মিলল জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে।এই জিয়াই অন্যান্য খুনিদের মতো মাজেদকেও পুরষ্কৃত করেছিল। জিয়ার নিহতের পর পলাতক জীবন শুরু হয় মাজেদের।একের পর এক নানা দেশে পালিয়ে  ২৩ বছর আগে কলকাতায়ে এসে ঘাঁটি গাড়ে মাজেদ। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত এতোদিন সে কলকাতায় অবস্থান করছিল। মাজেদ গত ১৬ মার্চ ঢাকায় ফেরে।কলকাতার অভিজাত পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আয়েশেই থাকতো বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আবদুল মাজেদ। সেখানে সে মাস্টারমশাই হিসেবেই পরিচিত ছিল।পৃথিবীর ইতিহাসের ঘৃণ্যতম এই হত্যাকারীকে মহল্লায় কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি কেউ। বেডফোর্ড রোডে মাস্টার সেজে তার অর্ধেক বয়সী এক নারীকে বিয়ে করে সংসার পেতেছিল সত্তোর্ধ বঙ্গবন্ধুর এই খুনি।গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মিরপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা। তারা ভয়ে শিউরে উঠছেন খুনি কিভাবে রঙ পাল্টে দীর্ঘ সময় নিজেকে আড়াল করে রেখেছিল মাস্টার সেজে।পার্ক স্ট্রিটে আবদুল মাজেদ পরিচিত ছিল আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টার হিসেবে। এলাকার লোকে জানতো, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে পাশ করেছে আলি আহমেদ (আবদুল মাজেদ)। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতো সে। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতো মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে যায়।২০১১ সালে তার থেকে ৩২ বছরের ছোট...


Mar 26, 2020

মার্চ ১৯৭১

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আজ ২৬ মার্চ বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির দিন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি।  রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহঙ্কারের দৃপ্ত শপথের দিন আজ। ভয়াল ‘কালরাত্রি’র পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ভীতবিহ্বল মানুষ দেখল লাশপোড়া ভোর। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ। আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া।  হায়েনাদের পৈশাচিক হানায় বাঙলার মানুষের চোখে জল। বুকে আগুন। হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জ্বলে উঠল মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ল প্রতিরোধ। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ তীব্র স্লোগান তুলে ট্যাংকের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক।  আজ থেকে ৪৯ বছর আগের ঠিক এমনি এক ভোররাতে পাক বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি।  ঘোরতর ওই অমানিশা ভেদ করেই দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য। বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছিল একাত্তরের আজকের এই দিনে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহার্ঘ স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী। বাংলাদেশের স্বাধিকার আদায়ের দৃঢ় মনোবল নিয়ে পশুশক্তিকে পরাজিত করে ঘোর অন্ধকার-অমানিশা কাটিয়ে বাংলার চিরসবুজ জমিনে রক্তে রাঙানো লাল-সবুজ পতাকার ভ্রূণ জন্ম নেয় আজকের ঐতিহাসিক দিনটিতেই। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দু’শ বছরের ব্রিটিশ-বেনিয়া শাসনের অবসানের পর ২৪ বছর ধরে চলে বিজাতীয় ভাষা, গোষ্ঠীর শাসন ও শোষণ। এ পরাধীনতার শৃংখল ভেঙে আজকের দিনে মুক্তিকামী মানুষের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশে বাংলার মানুষের স্বপ্ন-সাধ ও কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ সূচনা ঘটে। বাঙালী জাতি জীবনবাজি রেখে মরণপণ লড়াই-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ’৪৭-এ দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভক্তির পর থেকেই উর্দু শাসকদের নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাঙালির রক্ত সংগ্রামের চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। মাতৃভাষার দাবিতে সেই ’৪৮ সাল থেকে...


Mar 25, 2020

মার্চ ১৯৭১

বাঙালির ইতিহাসে ভয়াল রাত ২৫ মার্চ

বাঙালির ইতিহাসে ভয়াল রাত ২৫ মার্চ

যতোদিন বাঙালি বিশ্বে টিকে থাকবে, ততোদিন তাঁদের কাছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্ ‘র রাতটি  ভয়াল কালো রাত হয়ে বিবেচিত হবে।  এদিন একরাতে ঢাকায় ঘুমন্ত অর্ধ লাখ বাঙালিকে হত্যা করা হয়।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালির জীবনে সে এক দুঃস্বপ্নের ‘কালরাত’।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের জেনারেল ইয়াহিয়া খানের রক্ত পিপাসু সেনাবাহিনী ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত ও কাপুরশোচিত গণহত্যা ঘটায়।ভয়াল এই দিনটি বাঙালির জাতীয়জীবনে অন্যতম একটি বেদনাময় দিন। বিভিষীকাময় সেই ঘটনায় ২৫ মার্চের রাতটি ‘কালরাত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। শুধুমাত্র ২৫ মার্চই নয়, মুক্তিযুদ্ধের ৯মাস ধরে গণহত্যা হয়েছে।আর এ গণহত্যা কেবল  ৩০লাখে সীমাবদ্ধ নয়। এরচেয়ে বেশি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা করা হয়েছে। ইতিহাসের এইদিনে বাংলার শান্তিকামী মানুষের ওপর নেমে আসে পাশবিকতা, নৃশংসতা আর হিংস্রতার কালো থাবা।১৯৭১সালের ২৫ মার্চের রাতে তৎকালীন পূর্ববাংলার স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনী হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে।পাক হানাদার বাহিনী পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাত ১০টার পর সারাদেশে অপারেশন সার্চলাইট নামে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালায়। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।ইতিহাসের এইদিনের রাতে বাংলার শান্তিকামী মানুষের ওপর নেমে আসে পাশবিকতা, নৃশংসতা আর হিংস্রতার কালো থাবা।২২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সাবেক বাঙালি সৈনিকদের সঙ্গে বৈঠকে কর্নেল ওসমানী সাহেব বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ডু ইউ থিংক দ্যাট টুমরো উইলবিএ ক্রুসিয়ালডে?’বঙ্গবন্ধু জবাবে বলেন, ‘নো, আই থিংক, ইট উইল বি টুয়েন্টিফিফথ্।তখন ওসমানী সাহেব আবারও তীক্ষ্ম স্বরে তার কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘কালতো তেইশে মার্চ।পাকিস্তান দিবস।সে উপলক্ষে ওরা কি কিছু করতে চাইবেনা?’ বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ওরা যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কিছু করতে পারে। তার জন্য কোনো দিবসের প্রয়োজন হয়না। আসলে আমরা যতটা এগিয়ে গিয়েছি এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে শংকাও বোধ করছি,সে কারণে ওরাও কম শংকিত নয়।ওরা জানে অ্যাডভান্স কিছু করার অর্থই সবশেষ করে দেয়া।কী নিখুঁত হিসাব বঙ্গবন্ধুর।হিসাব করেই তিনি বলেছিলেন ২৫ মার্চেই পাকিস্তানিরা ক্র্যাকডাউন করবে। এটা আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠল দুপুর ১২টায় যখন আমরা জানতে পারলাম প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া তার দলবলসহ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে চলে গেছেন।এদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় আলোচনা করতে আসা সব রাজনৈতিক দলের নেতারাও ইতিমধ্যে ঢাকা...


Mar 10, 2020

স্বাস্থ্য

তাপমাত্রা বাড়লেই কাবু হবে ভয়ংকর ভাইরাস

তাপমাত্রা বাড়লেই কাবু হবে ভয়ংকর ভাইরাস

তাপমাত্রা বাড়লেই কাবু হবে ভয়ংকর ভাইরাস। করোনা  আতঙ্কে কাঁটা গোটা বিশ্ব। কীভাবে যে মারণ চিনা ভাইরাসকে প্রতিহত করা যায়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রায় সকলেই। তবে চিকিৎসকরা মনে করছেন, তাপমাত্রা বাড়লেই কাবু হবে ভয়ংকর ভাইরাস। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অযথা গুজবে কান দিয়ে মাস্ক না পরে, বেশি করে জল খান তাতেই মারণ চিনা ভাইরাস নিধন করা সম্ভব।গোটা বিশ্বের ৯৪ টি দেশে থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। তার জেরে আতঙ্কিত প্রায় সকলেই। সমস্যা একটাই মারণ চিনা ভাইরাস কীভাবে রোখা সম্ভব, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই কারও। তার জেরে দুশ্চিন্তায় চিকিৎসক থেকে আমজনতা প্রায় সকলেই। করোনা ভাইরাস নিয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি বাইপাসের ধারে একটি পাঁচতারা হোটেলে ন্যাশনাল সেমিনারের আয়োজন করা হয়। তাতে উপস্থিত ছিলেন সাতটি দেশের এবং রাজ্যের অন্তত পাঁচশো চিকিৎসক। ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক কোল্ড ফিল্ড ব্রাঞ্চ চিকিৎসক অতনু ভদ্র জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে এই ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয়েছে । আর এর দ্বারা সৃষ্ট রোগের নাম দেওয়া হয় ।করোনা ভাইরাস নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সর্দি-কাশির মতো এটি একটি ভাইরাস। তার থেকে মারাত্মক ক্ষতিকারক ডেঙ্গু। গরম বাড়লে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ অনেকটাই কমে যাবে। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির বেশি হয় হলে এই ভাইরাস কাবু হবে। দেশবাসীর আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। এই ভাইরাস কিন্তু মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে না। মাত্র ২-৩ শতাংশ মানুষের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি ঘটেছে। এর থেকে অন্যান্য ভাইরাস মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত শিশু, বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস রোগীদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং প্রচুর জল খান এবং বিশ্রাম নিন।চিকিৎসকের পরামর্শ, অযথা আতঙ্কিত হয়ে নোভেল করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্কের ব্যবহারের এখনই প্রয়োজন নেই। একমাত্র বিশেষ ধরনের মাস্ক ছাড়া অন্য মাস্ক ব্যবহার করে তেমন কোনও লাভই হবে না। বাইরে বেরনোর সময় সাবধনতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নিজেকে জীবাণুমুক্ত রাখতে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।করোনা ভাইরাসকে ঠেকাতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার ব্যাপারেও আলোচনা হয় ওই সেমিনারে। এস এস...


Mar 10, 2020

ভারত

পড়াশোনা করতে চাই- নরেন্দ্র মোদির  কাছে আবদার ৯৮ বছরের বৃদ্ধার

পড়াশোনা করতে চাই- নরেন্দ্র মোদির কাছে আবদার ৯৮ বছরের বৃদ্ধার

৯৮ বছর বয়সেও পড়শোনা অদম্য ইচ্ছে কার্থিয়ানি আম্মার। সদ্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ পেয়ে আপ্লুত।তাঁকে হার মানাতে পারেনি বয়সের ভার। তাঁকে নিয়ে গিয়েছে সাফল্যের শিখরে। তাই তো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর, ”আরও পড়াশোনা করতে চাই” বলে নিজের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন কার্থিয়ানি আম্মা।বয়সের সংখ্যার বিচারে তিনি প্রবীণ। জীবন সায়াহ্নে এসে যেখানে সব ইচ্ছে ত্য়াগের পথে হাঁটেন সকলে, সেখান থেকেই তিনি শুরু করেছেন নতুন পথ চলা। ইচ্ছাপূরণে বয়স যে কোনও বাধাই নয়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন কেরলের কার্থিয়ানি আম্মা । এই বয়সে উপনীত হয়েও চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করেছেন তিনি।৯৮ বছরের কার্থিয়ানি আম্মা রবিবারই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে ‘নারী শক্তি পুরস্কার  পেয়েছেন । আর এই পুরস্কার তাঁকে ভবিষ্যতের পথে আরও এগিয়ে চলার শক্তি জোগাবে বলেই দাবি করেছেন তিনি। পুরস্কার পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির   সঙ্গে আলাপচারিতার সময় আরও পড়াশুনো করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। আবদারের সুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানান,”আমি সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করেছি, এখন আমি আরও পড়াশোনা করতে চাই।এখন সবেমাত্র কম্পিউটার শিখতে শুরু করেছি।” এরপরেই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে প্রণাম জানান।  তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদও নেন। কেরলের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধাকে দেখে পড়াশুনোয় উৎসাহ পেয়েছেন ১০৫ বছরের আরেক বৃদ্ধা ভাগীরথী আম্মাও। রাজ্য সাক্ষরতা অভিযানের অধীনে পড়াশুনো করে তিনিও চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র   আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ”নারী শক্তি পুরস্কার” তুলেদেন দেশের কৃতী নারীদের হাতে।দেশের প্রথম নাগরিকের হাত থেকে এবার ওই সম্মান পান কার্থিয়ানি আম্মাও। গোটা দেশে নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রাখেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর ৮ মার্চ তাঁদের আলাদা করে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ব্যতিক্রমী কাজের স্বীকৃতি হিসাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক ”নারী শক্তি পুরস্কার” নামে এই জাতীয় পুরস্কার দেয় কৃতী মহিলাদের।এস এস...


Feb 20, 2020

সম্পাদকীয়

একুশের পথ বেয়ে এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা

একুশের পথ বেয়ে এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালীর জাতীয় জীবনে একটি ঐতিহাসিক দিন। তদুপরি  সামনেই ‘মুজিববর্ষ’। তাই এবাবের একুশে ফেব্রুয়ারি অনন্য মাত্রা পেয়েছে।একুশের আন্দোলনের বীজের মধ্যে অঙ্কুরিত ছিল বাঙালী স্বাধীনতার মন্ত্র। একুশের মধ্য দিয়ে এসেছে স্বাধীনতা সংগ্রাম। সে এক মহা ইতিহাস। যার নায়ক জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালীর অকাতরে প্রাণ দেওয়ার ঘটনা বিশ্বকে তাঁক লাগিয়ে দিয়েছে।  অনন্য দিন একুশে  ফেব্রুয়ারি। এদিন বাঙালী রক্ত দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে তাঁর মাতৃভাষার মর্যাদা লাভ করেছে।  বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু’র জীবনের বেশির ভাগ কেটেছে দখলদার পাকিস্তানের কারাগারে। কারাগারে বসেই তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনকে বেগবান করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন।আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়- একুশে  ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিরল মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। সারাবিশ্বে শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিল অকুতোভয় দামাল বাঙালী ছেলেরা। মায়ের ভাষার জন্য দখলদার পাকিস্তানের পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, আবদুলজব্বার, আবদুস সালাম, রফিক,  শফিকসহ নাম না জানা অনেকে। প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে মহা ইতিহাস গড়েছেন।সেই থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও প্রাণের আকুতি দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস। আজও সকলের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় সাহিত্যিক-কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত- চির বেদনার গান… আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...।চির বেদনার গান হলেও একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতি বছর বাঙালীর কাছে নতুন আবেগ আর নব চেতনায় জাগ্রত হয়ে আসে। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাবার সাহস ও শক্তি জোগায়। অগ্রগতির পথে ধাবিত হওয়ার শক্তি পায় বাঙালী। বিনত মাথা নত করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় জাতি। অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।কেননা একুশে  ফেব্রুয়ারির পথ বেয়ে বাঙালী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। বুঝতে পারে আমরা ভীন জাতির পরাধীনভাবে বাস করছি। এর থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। বাঙালীর হৃদয়ের কথা অনুধাবন করে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বাণী দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি এবং  প্রধানমন্ত্রী। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১ মিনিটে  ঢাকায়...