NAVIGATION MENU

আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এখন শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা


পনর জুন হলো ‘শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’ প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত ও সর্বাধিক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী আঞ্চলিক সংস্থা। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এ সংস্থাটি আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে অনেক অবদান রাখতে পারে। 

বিশ বছর ধরে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবশালী সংস্থা, যেটা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। চীনের সমাজবিজ্ঞান অ্যাকাডেমির রাশিয়া, পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া গবেষণালয়ের মহাপরিচালক সুন চুয়াংচি বলেন, গত ২০ বছরে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন চিন্তাধারার সূচনা ঘটিয়েছে। 

তিনি বলেন, “সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দেশের বিবাদ মীমাংসা করা হলো নিরাপত্তা ক্ষেত্রে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নতুন অর্জন। নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় এবং সদস্য দেশগুলোর গুরুতর চ্যালেঞ্জের বিষয়ে গুরুত্ব দেয় সংস্থাটি। যেমন, মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও অপরাধ দমন, প্রভৃতি। তাছাড়া, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থ নিরাপত্তাসহ নানা ধরনের নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে সংস্থাটি। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা না করা। সংস্থাটি সামরিক ও রাজনৈতিক জোট হয়ে উঠবে না।”

দ্রুত গতিতে উন্নয়নের ২০ বছরে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা পারস্পরিক আস্থা, কল্যাণ, সম্মান ও আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সভ্যতার প্রতি সম্মান করা এবং অভিন্ন উন্নয়নের পক্ষপাতী এই সংস্থা। ‘শাংহাই চেতনার’ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান এবং বেসরকারি কূটনীতি ও বিনিময় বেগবান করাসহ নানা ক্ষেত্রে বরাবরই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এই সংস্থা। 

চুন চুয়াং চি বলেন, বহু বছরের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশের সংখ্যা আগের ৬টি থেকে বেড়ে ৮টি হয়েছে। আরও আছে ৪টি পর্যবেক্ষক দেশ এবং ৬টি সংলাপের অংশীদার দেশ।

তুরস্ক হলো শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সংলাপের অংশীদার একটি দেশ। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইউপ সারিতাস মনে করেন, সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের চেতনা পালন করলে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আরো সফল হবে। 

তিনি বলেন, “পশ্চিমা সংস্থার ‘একক জয়ের’ চিন্তাভাবনার চেয়ে ভিন্ন রকম চিন্তাধারা লালন করে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা। ‘উভয়ের জন্য লাভজনক’ চিন্তাধারা দিয়ে সব সদস্য দেশ বা সহযোগী অংশীদারের উদ্বেগ বিবেচনা করে থাকে এই সংস্থা।”

আর্থ-বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বর্তমানে শাংহাই সহযোগিতার অর্থনৈতিক সমষ্টি প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ পরিমাণ ২০ বছরের আগের তুলনায় শতগুণ বেশি।

ভারতের গ্লোবাল থিংকট্যাংকের চীন-বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান প্রসুন শর্মা বলেছেন, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করেছে এবং সদস্য দেশসমূহের আর্থ-বাণিজ্যিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 

তিনি বলেন, “২০ বছর ধরে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বিভিন্ন সদস্য দেশ সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালিয়েছে। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ইউরেশিয়ার দেশ ও অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। বিশেষ করে চীনের ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প চালু হয়েছে এবং উন্নত হচ্ছে।”

ভবিষ্যতে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে গণতান্ত্রিক করে তোলার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করেন সু চুয়াং চি। সূত্র: চায়না মিডিয়া গ্রুপ