NAVIGATION MENU

আশ্রয়হীনদের মুখের হাসি জীবনের বড় পাওয়া: শেখ হাসিনা


নজিরবিহীন ঘটনা এটি বিশ্বে। কেননা কোনো রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান একসঙ্গে এতো মানুষকে জমিসহ ঘর উপহার দেওয়ার ইতিহাস দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ এই প্রতিশ্রুতির আওতায় উপহার হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫৩ হাজার ৩৪০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও সেমিপাকা ঘর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে প্রথম পর্যায়ে গত ২৩ জানুয়ারি দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে দেশের ১ লাখ ২৩ হাজার ২৪৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পেলেন।

আজ রবিবার ঢাকার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা ঘর পেয়েছেন, তাদের কষ্ট দূর করা এবং তাদের মুখের হাসি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। ক্ষমতা মানে ভোগ বিলাস নয়। ক্ষমতা হলো মানুষের সেবা করা। মানুষের জন্য কাজ করা। শেখ হাসিনা বলেন, করোনার কারণে আমি যেহেতু যেতে পারিনি।

আমার পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ডিসি এবং ইউএনও জমির দলিল ও ঘরের চাবি তুলে দেবেন। দেশের ৪৫৯টি উপজেলা প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তার প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাত থেকে জমির দলিল ও ঘরের চাবি বুঝে নেন ছিন্নমূল এসব পরিবার। দলিলে জমির মালিকানা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে করে দেওয়া হয়েছে।

তাদের নামে স্থায়ী দলিলের পাশাপাশি নামজারি করে খাজনা দাখিলাও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মাহবুব হোসেন বলেন, ‘একসঙ্গে এত মানুষকে জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়া পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল। তিনি মনে করেন, আশ্রয়ণে ছিন্নমূল বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী স্থায়ী আবাসনের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানেরও সুযোগ পাচ্ছে।

এতে দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও একলাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।

একসঙ্গে এত মানুষকে বিনামূল্যে বাড়ি-ঘর দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে নজিরবিহীন উল্লেখ করে আহমদ কায়কাউস বলেন, বিভিন্ন দেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি নির্মাণের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার নজির থাকলেও ভূমিহীন-গৃহহীনদের ডেকে এনে বিনামূল্যে তাদের বাড়ি-ঘর দেওয়ার নজির আর নেই।

অসহায় মানুষকে এভাবে ঘর দেওয়াকে ‘অর্ন্তভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব বলেন, বিশ্বে এটা নতুন মডেল, আগে কখনো কেউ এটা ভাবেনি।এর আগে প্রথম পর্যায়ে গত ২৩ জানুয়ারি দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারাদেশে যারা ঘর পেয়েছেন, তাদের ঘরের সামনে একটি করে গাছ, বিশেষ করে ফলজ গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা থেকে নিজে খাব, নিজে ভালো থাকব, এটা নয়। ক্ষমতা আমাদের কাছে ভোগের বিষয় নয়। কীভাবে মানুষকে ভালো রাখা যায় এটা হলো বড়।

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, বাংলাদেশকে দারিদ্রমুক্ত করব। এর জন্য শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছি, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি গৃহহীন মানুষকে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বস্তিবাসীর জন্য ঢাকায় ভাড়ায় থাকার জন্য ফ্ল্যাট করে দিচ্ছি। অর্থনৈতিক নীতিমালায় আমরা তৃণমূলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এসময় তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, গারোসহ সব সম্প্রদায়েরও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছি বলেও জানান তিনি।

এস এস