ন্যাভিগেশন মেনু

ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দর চালু রেখেও কন্টেইনার ডেলিভারি সুফল মেলেনি


এবারেও ঈদুল আজহার ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দর চালু রাখার সুফল মেলেনি। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন (১৮ ও ১৯ জুন) একটি কনটেইনারও ডেলিভারি সুফল মেলেনি চটগ্রাম বন্দরে।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকা ছাড়া বাকি সময় চালু ছিল বন্দরের কার্যক্রম। বিশেষ ব্যবস্থায় সবরকম জনবল নিয়োজিত রেখে বন্দর চালু রাখার পরও কনটেইনার ডেলিভারি হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঈদের দিন ৮ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও ওইদিন ৩৮৯ একক কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে।  এরপরের ১৮ ও ১৯ জুন ডেলিভারি হয়নি কোনও কনটেইনার। 

ঈদের বন্ধের আগে ১৪ ও ১৫ জুন ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ঈদের আগে গত ১৪ জুন বন্দরে ৫ হাজার ৩৬০ একক এবং ১৫ জুন ৩ হাজার ৯৯ একক কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছিল। এছাড়া ঈদের আগেরদিন ১৬ জুন ডেলিভারি হয়েছিল ২ হাজার ২৩৯ একক কনটেইনার। অন্যদিকে, ঈদুল ফিতরের দিন ডেলিভারি হয়নি একটিও কনটেইনার। এছাড়া অন্যান্য ছুটির দিনে ডেলিভারি নেমে এসেছিল ১ হাজার এককের নিচে।

এর আগে গত ঈদুল ফিতর এবং পহেলা বৈশাখের ছুটিতেও শতভাগ চালু ছিল চট্টগ্রাম বন্দর।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে বন্দরে ৪ থেকে ৫ হাজার একক কনটেইনার ডেলিভারি হয়। গড়ে কনটেইনার ডেলিভারির সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ একক। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরে ৭ থেকে ৮ হাজার একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং বা জাহাজে ওঠানামা হয়। ঈদের দিন কোন রপ্তানি কনটেইনার জাহাজে উঠেনি। 

ঈদের দিন জাহাজ থেকে শুধুমাত্র আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার নামানো হয় ৩৪৭ একক। ঈদের পরদিন জাহাজে আমদানি এবং রপ্তানি কনটেইনার ওঠানামা হয় ৮ হাজার ২৭৪ একক

জানা যায়, ঈদুল আজহার ছুটিতে বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি নিতে স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কনটেইনার ডেলিভারি নিতে বিজিএমইএ’র প্রতি বিশেষ নির্দেশনা ছিল বন্দর কর্তৃপক্ষের। সুফল পেতে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে দুটি মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছিল। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও চালু ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। এবার বিশেষ নির্দেশনা ছিল বন্দরের স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি। আমদানিকারকরা পণ্য ডেলিভারি না নেওয়ায় কারণে সুফল পাওয়া যায়নি। তবে একদিন প্রায় বন্ধ থাকলেও ছুটির পরবর্তী দুইদিন জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামা কিছুটা স্বাভাবিক ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি দিতে আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি ছিল। স্টেকহোল্ডারদের প্রতি এবার বিশেষ নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু আমদানিকারকরা ডেলিভারি নেননি।