NAVIGATION MENU

উপগ্রহ পরিচালন ও মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা জোরদার করবে চীন ও রাশিয়া


সম্প্রতি প্রকাশিত ‘চীন ও রুশ প্রধানমন্ত্রীর ২৫তম নিয়মিত বৈঠকের যৌথ ইস্তাহারে’ বলা হয়েছে, উপগ্রহ পরিচালন (স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন) ক্ষেত্রে দেশ দু’টি দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং চাঁদে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে সহযোগিতা চালাবে।

এমন সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠলে চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতার প্রাধান্যের পারস্পরিক পরিপূরকতা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। 

চীন ও রাশিয়া মহাকাশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, চাঁদ ও গহীন মহাকাশ গবেষণা, বিশেষ উপাদান বিকাশ, উপগ্রহ ব্যবস্থা, আর্থরিমোট সেন্সিং এবং মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ সনাক্তকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। 

যৌথ ইস্তাহার অনুযায়ী দু’দেশ ‘পেইতৌ’ ও ‘গ্লোনাস’ ব্যবস্থার সমন্বিত সেবার মান বাড়াবে, ভূভাগে পেইতৌ ও গ্লোনাস তত্ত্বাবধানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বেগবান করবে এবং চীন ও রাশিয়ার আন্তঃদেশীয় পরিবহনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রকল্পের বাস্তবায়ন এগিয়ে নেবে। 

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ ফেডারেশন মহাকাশ পরিবহন কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ইয়াং ইউকুয়াং এক সাক্ষাত্কারে বলেন, বিশ্বজুড়ে উপগ্রহ পরিচালন ব্যবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য সৃষ্টি ধারা চলছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আরো ভালো পরিসেবা দেওয়া যাবে। 

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপগ্রহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘প্যাসিভ পজিশনিং প্রিন্সিপাল’ ও ‘সময়ের পার্থক্যমুক্ত অবস্থানের’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তাই স্যাটেলাইটের সংখ্যা যত বেশি হবে, যথাযথ অবস্থান নির্ধারণের যথার্থতা ও গতি তত বাড়বে।তাই উপগ্রহ পরিচালন রিসিভার যত বাড়ানো হবে, বিভিন্ন ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমের সংকেত পেলে নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীরা আরো বেশি সুবিধা পাবে। এটি হলো বিশ্বের বর্তমান ধারা।’

ইয়াং ইউকুয়াং মনে করেন, চীন ও রাশিয়ার উপগ্রহ পরিচালন ব্যবস্থার সহযোগিতা দু’দেশের প্রাধান্যের পরিপূরকতা নিশ্চিত করবে। দু’দেশে পারস্পরিক তত্ত্বাবধানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ফলে উপগ্রহ পরিচালন পদ্ধতির উচ্চমানের নির্ভুল এলাকা বাড়বে এবং পারস্পরিক কল্যাণ ও উভয়ের লাভ নিশ্চিত হবে।

চাঁদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন চন্দ্রানুসন্ধান ও মহাকাশ প্রকৌশল কেন্দ্র সম্প্রতি জানায় যে, ভবিষ্যতে চীন চাঁদে আরো গভীর গবেষণা চালাবে এবং যথাক্রমে ছাংএ্য-৬, ৭, ৮ নংসহ বিভিন্ন মিশন পাঠাবে। সেই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চন্দ্র-বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, চন্দ্রানুসন্ধানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে খরচ কমবে এবং প্রযুক্তি খাতে একের সঙ্গে অন্যের সহযোগিতা বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন প্রকাশিত চাঁদ অনুসন্ধানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাংএ্য-৬ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অঞ্চল থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে। ছাংএ্য-৭ চন্দ্রপৃষ্ঠে সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ চালাবে এবং ছাংএ্য-৮ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে এবং মানবহীন বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রের পরীক্ষা চালাবে। এতে বরাদ্দের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

যৌথ ইস্তাহার অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দু’দেশে আন্তর্জাতিক চন্দ্র-বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা চালাবে। 

ইয়াং ইউ কুয়াং মনে করেন, চাঁদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে রাশিয়ার উচ্চমানের প্রযুক্তি রয়েছে এবং চীনের উন্নয়নের প্রাধান্যও স্পষ্ট। তাই দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র কাজে লাগবে বলে তিনি মনে করেন। 

তিনি বলেন, ‘চীনের মহাকাশ খাতের উন্নয়নের প্রাধান্য অনেক স্পষ্ট। আমাদের শুরুটা অনেক উচ্চ পর্যায়ের। এবার ছাংএ্য-৫ নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে চাঁদের কক্ষ প্রদক্ষিণ ও ডকিং পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এর জটিলতা অনেকটা মানুষবাহী নভোযানের চাঁদে অবতরণের মতো। তাছাড়া, চন্দ্রযানে অনেক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।’ তথ্যসূত্র: চীন আন্তর্জাতিক বেতার