NAVIGATION MENU

করোনাকালে এসএমইকে ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা: চিনের অভিজ্ঞতা


ইয়াং ওয়েই মিং স্বর্ণা

‘স্রেফ মোবাইল ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঋণ পেলাম। ভাবতেও পারিনি বিষয়টা এতো সহজ!’ চিনের ফুচৌ শহরের একটি রেস্তোঁরার মালিক মিস্টার লি খুব উত্তেজিত হয়ে বললেন।

মহামারীর কারণে তার রেস্তোঁরা একমাস ধরে বন্ধ ছিলো। কিন্তু ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন সময়মতো দিতে হয়। তা ছাড়া, ঋণ পরিশোধও করতে হবে। প্রায় ৩০ বছর ধরে রেস্তোঁরার ব্যবসা করে আসা মিস্টার লি ভাবলেন যে, এবার অচলাবস্থায় পড়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকলো না। এমন সময় ব্যাংক তাকে বাঁচিয়েছে। ঋণ-পরিশোধের মেয়াদ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে এবং তাকে নতুন ঋণও দিয়েছে। নতুন ঋণ নেওয়ার সময় কোনো দলিলপত্র জমা দিতে হয়নি এবং কোনো মানুষের সঙ্গে দেখা করাও লাগেনি; স্মার্টফোনের মাধ্যমে সব হয়েছে।

মিস্টার চাও থিয়েনচিনে একটি অফিস নিরাপত্তা সাজ-সরঞ্জাম কম্পানি বহু বছর ধরে চালিয়ে আসছেন। মহামারীর কারণে নিরাপত্তা সাজ-সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে। মিস্টার চাও-এর কম্পানি অনেক অর্ডারও পেয়েছে। কিন্তু কাঁচামাল কেনার অর্থের অভাব। মিস্টার চাও-এর সমস্যা জানার পর চিনের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক-মিনশেং ব্যাংকের থিয়েনচিন শাখা অফিসের কর্মকর্তা তাদের ‘ক্লাউড দ্রুত ঋণ’-এর জন্য আবেদন করার কিউআর কোড উইচেটের মাধ্যমে মিস্টা চাও’কে পাঠান। তিনি কিউআর কোড স্ক্যান করে অনলাইনে আবেদন জমা দেন। মাত্র ২০ মিনিট লাগে। মিস্টার চাও বন্ধকের মাধ্যমে ২৪ লাখ ইউয়ান ঋণ পেয়ে যান, যা বন্ধকের মূল্যের ৬০ শতাংশ। আবেদন গৃহীত হওয়ার বার্তা পাওয়ার পর মিস্টার চাও অবাক হন। তিনি বলেন, ‘ঋণের আবেদন এতো দ্রুত গৃহিত হতে পারে, আমি তা বিশ্বাসই করতে পারছি না! তা ছাড়া, ঋণের পরিমাণও আমার জন্য ঠিকই আছে। সত্যিই অসাধারণ।’

এবার কোভিড-১৯ মহামারী একটি আকস্মিক ঘূর্ণাঝড়ের মতো আঘাত হেনেছে। সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে অপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে প্রধান অবদানকারী মাঝারি-ছোট-ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য এ সময় আরও কঠিন। এ প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উচিত নিজেদের দায়িত্ব পালন করে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা। সক্রিয়ভাবে নিজেদের ভূমিকা পালন করে দ্রুততর সময়ের মধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পদ্ধতি বের করে বিভিন্ন আর্থিক সেবা প্রদান করা উচিত তাদের।

গত কয়েক দশকে মাঝারি-ছোট-ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতির সফলতার প্রধান কারণ। এপেকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ অঞ্চলে ৯০ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান মাঝারি ও ক্ষুদ্র আকারের। তারা মোট কর্মসংস্থানের ৫০ শতাংশেও বেশির যোগানদাতা। চিনের ক্ষেত্রে, এই কোম্পানিগুলো ৬০ শতাংশ জিডিপি এবং ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জিডিপির চার ভাগের এক ভাগ এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোই করে থাকে।

এই কঠিন সময়ে যে ছোট-ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়াবে, সে-ই ভবিষ্যতে অর্থনীতি সুষ্ঠু হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘকালীন আস্থা জয় করবে। মহামারীর প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কী করা উচিত? চিনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তারা অনলাইন সেবার ওপর গুরুত্ব দিতে পারে। যেমন, ই-ব্যাংক সেবা, মোবাইল এপিপি এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে বিভিন্ন ই-পরিসেবা জোরদার করতে পারে। ‘ডিজিটল বাংলাদেশ ভিশন’ পরিকল্পনায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে উত্সাহ দেওয়া হয়। মহামারীর প্রেক্ষাপটে এ ই-পরিসেবা উন্নয়ন জরুরিও ভাল সুযোগও।

ই-পরিসেবা জোরদার করা দীর্ঘমেয়াদে সবারই জন্যই অনুকূল হবে। ই-পরিসেবা জোরদার কয়েকটি দিক থেকে করা যায়:

ই-পরিসেবা পণ্য কী কী হতে পারে?

১. অনলাইন ক্রেডিট প্রডাক্ট। ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পদ, বন্ধক, অ্যাকাউন্ট বন্দোবস্ত, অনলাইন লেনদেন এবং শুল্ক ও করের তথ্যের ভিত্তিতে বিগ ডেটা ও স্কোরিং কার্ড মডেলের প্রযুক্তি দিয়ে ক্লায়েন্টের ক্রেডিট লাইন হিসাব ও নির্ধারণ করা হয়। তারপর ক্লায়েন্ট নিজেই অনলাইনে ক্রেডিট ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ধরনের প্রডাক্টের ক্ষেত্রে মূলত ব্যাংকের নিজস্ব ডেটার ওপরে নির্ভর করা হয়। বাহ্যিক ডেটা কেবল সহায়তা বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, এ প্রডাক্ট দেওয়ার জন্য বাণিজ্য ব্যাংকগুলোর বড় মাপের হতে হবে যার নিজের পর্যাপ্ত ডেটা রক্ষিত আছে।

২. অনলাইন বন্ধক ঋণ। বাণিজ্য ব্যাংকের স্বীকৃত উচ্চমানের স্থাবর সম্পত্তি বা বাণিজ্যিম ব্যাংক থেকে নেওয়া আবাসন বন্ধকী ঋণের ভিত্তিতে ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনের মাধ্যমে ঋণ নিতে পারে। এ ধরনের ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংক ও স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক নিবন্ধন বিভাগ এবং বন্ধক মূল্যায়ন সংস্থার সঙ্গে অনলাইনে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। যার মাধ্যমে অনলাইনে মূল্যায়ন ও বন্ধক নিবন্ধন করা যায়।

৩. অনলাইন প্লাটফর্ম ঋণ। এ ধরণের ঋণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বীকৃত ইন্টারনেট প্লাটফর্ম, শিল্প সমিতি প্লাটফর্ম বা সরকারি পরিসেবা প্লাটফর্মের(আর্থিক ভর্তুকি, কর, শুল্ক, প্রোকিউরমেন্ট, জনসম্পদ লেনদেন, কৃষি ও গ্রাম উন্নয়ন ইত্যাদি) মাধ্যমেপাওয়া ডেটার ভিত্তিতে যোগ্য ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইন ঋণ। এ ধরনের প্রডাক্ট দেওয়ার সময় অংশীদাররা শক্তিশালী অবস্থানে থাকে এবং সাধারণত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রেডিট বর্ধনের পরিসেবা প্রদান করে না। তবু কোন কোন প্লাটফর্ম অর্থ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিতে পারে। উদারণস্বরূপ, বাণিজ্যি ব্যাংক সরকারি ক্রয়ে অংশ নেওয়া ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রেডিট ঋণ দিতে পারে। তারপর সরকারের আর্থিক বিভাগ ব্যাংকের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে ক্রয়ের অর্থ পাঠাতে পারে। এভাবে অর্থ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৪. অনলাইন ঋণ। মূল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এবং অন্যান্য অংশীদারদের সাপ্লাই চেইনের ইকোলোজিকল লেনদেন তথ্য এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিজস্ব বা বাহ্যিক বহুমাত্রিক তথ্যের ভিত্তিতে বড় ডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগ্য ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেয় ঋণ এটি। প্লাটফর্ম ঋণ থেকে পার্থক্য এখানে এই যে, মূল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রেডিট বর্ধন দিতে পারে। তা হয় গ্যারান্টি হিসেবে বা অর্থ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি হিসাবে।

কাকে ঋণ দেওয়া যায়? 

১. মহামারী প্রতিরোধের মূল সংস্থাগুলো। বাণিজ্যিত ব্যাংক দেশের চিহ্নিত মহামারী প্রতিরোধের মূল সংস্থাগুলোর তালিকা তৈরী করতে পারে। তাদের মধ্যে খারাপ ক্রেডিট রেকর্ডযুক্ত সংস্থাগুলোকে বাদ দিয়ে বাকিগুলোর জন্য সরাসরি ডেটা মডেলের মাধ্যমে ক্রেডিট লাইন নির্ধারণ করা যায়।

২. ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে কি না, তা হলো অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। অতএব, তাদের জন্য সহায়তা সক্রিয়ভাবে কিন্তু ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে দেওয়া যায়। তাদের কর্মীদের ফিরে আসা, লজিস্টিক পুনরুদ্ধার, বিদ্যুত ব্যবহারের উপরে ভিত্তি করে তফসিলের ভিত্তিতে প্রদান করা যেতে পারে ঋণ। যাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি চালু না হওয়ার কারণে প্রাপ্ত ঋণ রিয়েল এস্টেট বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ না করে।

৩. মহামারী-উত্তরকালে চিকিত্সা ও স্বাস্থ্যসেবা, নতুন অবকাঠামো, অনলাইন শিক্ষা, অনলাইন অফিস, স্মার্ট শহর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক লজিস্টিক, আধুনিক পরিসেবাশিল্প ইত্যাদির ভাল উন্নয়নের সুযোগ হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া যায়।

ঝুঁকি মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়?

১. মহামারী চলাকালিন ক্রেডিট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা দরকার। অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে মহামারীর প্রভাবে ছোট ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ক্ষতির অবস্থা পুরোপুরি মূল্যায়ন করা উচিত। যেমন, উত্পাদন ও পরিচালনা, আর্থিক আয় ও ব্যয় এবং বিক্রয় ইত্যাদি ক্ষেত্রের অবস্থা; কর্মীদের কাজ শুরু করার অবস্থা; ঋণ পরিশোধের অবস্থা, ইত্যাদি। সব তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ঝুঁকি মোকাবিলা ও সহায়তা দেওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। বিগ ডেটা প্রযুক্তি দিয়ে মহামারী মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা মডেল স্থাপন করা উচিত। যার মাধ্যমে সব তথ্য অনলাইনে তত্ত্বাবধান করা যায়।

২. মহামারী চলাকালে জনমতের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। মহামারীসংক্রান্ত সব তথ্য স্পর্শকাতর। সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা গ্রাহককে সময়মতো জানাতে হবে, বিশেষ করে কল্যাণমুলক ব্যবস্থা, সুদ কমানো বা পরিশোধের সময় পিছিয়ে দেওয়া ইত্যাদি তথ্য। গ্রাহকরা যেসব তথ্যের জন্য আবেদন করেছেন, সেগুলো তাদের জানাতে হবে, যাতে কোন ভুল বোঝাবুঝি বা গ্রাহকদের খারাপ ক্রেডিট না হয়।

৩. মহামারী চলাকালীন অর্থ প্রবাহের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা দরকার। মহামারী চলাকালে ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বাড়বে, ঋণ পরিশোধের সময় অতিক্রান্ত হবে এবং বিভিন্ন কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অর্থ প্রবাহ চাপের সম্মুখীন হতে পারে। সুতরাং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিগ ডেটা মডেল দিয়ে পূর্বাভাস পেয়ে পূর্ব মোকাবিলা পদ্ধতি বের করতে হবে।

৪. অনলাইন ক্রেডিট পণ্যের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। যদিও প্রক্রিয়া সব অনলাইনে, তবুও অংশীদারদের অবশ্যই অফলাইন তদন্ত এবং অফলাইন অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে। অংশীদারের মূল্যায়নের উপরে পুরোপুরি নির্ভর না-করে ব্যাংকের নিজস্ব মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। গ্রাহকদের ঋণ নেওয়ার সময় ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা মোবাইল এপিপিতে করতে হবে। নীতিগতভাবে তৃতীয় পক্ষের ইন্টারফেসে আবেদন করা যায়না। ঋণ আবেদনের লিঙ্ক বিভিন্ন মঞ্চে থাকতে পারে, কিন্তু আবেদনের সময় ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আসতে হবে। গ্রাহকদের অবস্থা নিয়ে অনলাইনে অব্যাহতভাবে তত্ত্বাবধান করতে হবে, বিশেষ করে ঋণ-আমানত অনুপাত, সম্পদ-দায়বদ্ধতার অনুপাত, আয়ের সূত্র, অর্থ-সংগ্রহের সংস্থা ও পরিমাণ ইত্যাদির ওপরে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। ঝুঁকি সন্ধান হলে তখনই অর্থ ফ্রিজ করে দিতে হবে।

সব ঋণের, প্রতিটি গ্রাহকের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী, পরিমাণ, মেয়াদ, সুদের হার ও পরিশোধ পরিকল্পনা নির্ধারণ করা উচিত। ক্লাউট কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, বিগ ডেটা এবং ইন্টারনেট অফ থিংস-এর মত প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও আস্তে আস্তে আধুনিক হচ্ছে। করোনা মহামারী এ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুততর করার চাহিদা সৃষ্টি করছে।

ইয়াং ওয়েই মিং স্বর্ণা চায়না মিডিয়া গ্রুপের একজন সাংবাদিক