NAVIGATION MENU

কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অংশ হিসেবে হারভেস্টার থেকে শুরু করে সব ধরনের যন্ত্র সরকার ধীরে ধীরে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেবে। আমরা দেশের কৃষিকে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।‘

তিনি বলেছেন, ‘কৃষি অর্থনীতির সাথে সাথে আমরা শিল্পের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছি। কারণ উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ব্যাবস্থা এবং দেশে-বিদেশে পণ্য যেন আমরা রপ্তানী করতে পারি তার ব্যাবস্থা করে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।’

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই বক্তব্য প্রচার করা হয়।

সরকার প্রধান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেই সবসময় কৃষদের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে, তখনই কৃষকদের আর কোনও কষ্টে থাকতে হয়নি। কারণ আমরা তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকেই কৃষকদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তাঁদের কষ্ট লাঘব হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বর্গাচাষীরা যাতে বিনা জামানতে ঋণ পায় আমরা কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের বিনা জামানতে ঋণের ব্যাবস্থা করে দিয়েছি। সারের দাম যা বিএনপি সরকারের আমলে ৯০ টাকা ছিল, তা আজ ১২ টাকায় আমরা নামিয়ে এনেছি। গবেষণার মাধ্যমে উন্নত বীজ আমরা উৎপাদন করছি এবং সেই বীজ আমরা সরবরাহ করছি।’

কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ- যেটা জাতির পিতার লক্ষ্য ছিল- তাঁর সরকার সেই লক্ষ্য কার্যকর করে দিচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেছেন, আমরা ৭০ শতাংশের উপর ভর্তুকি দিচ্ছি এবং কৃষি-যান্ত্রিকীকরণ করে যাচ্ছি যাতে আমাদের কৃষকরা আরও অধিক পরিমান খাদ্য উৎপাদন করতে পারে।

তিনি বলেছেন, আমরা উন্নতমানের বীজ সরবরাহ ও প্রতিটি কৃষি-উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার ব্যাবস্থা নিচ্ছি। সেই সাথে সেচ কাজে কৃষক যে বিদ্যুৎ ব্যাবহার করেন সেখানে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি এবং কৃষকের বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে নিশ্চিত হয় তার ব্যাবস্থা আমরা নিয়েছি এবং বর্তমানে সেচ কাজে আমরা সোলার-প্যানেল ব্যাবহারও আমরা শুরু করে দিয়েছি।

ন্যায্য মূল্য যাতে আমাদের কৃষকরা পায়, তার জন্য সরকার যথাযথ দাম নির্দিষ্ট করেছে এবং কৃষকদের সহায়তা দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কৃষকের গুদামে যাতে খাদ্য সংরক্ষিত থাকে, প্রত্যেক কৃষকের ঘরে খাদ্য যেন থাকে- কারণ যারা উৎপাদন করবে তারা খাবার পাবে না বা তাদের ছেলে-মেয়েরা খাদ্যে কষ্ট পাবে এটা হতে পারে না। আমরা সে ব্যবস্থাও নিয়েছি।

তিনি বলেছেন, আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার ব্যাবস্থা নিয়েছি এবং সেই সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি সাম্প্রতিক ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কথা উল্লেখ করে আরও বলেছেন, এবারও ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সে ধরনের সহযোগিতা পাবেন। তার জন্য থোক বরাদ্দ রাখছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। কৃষক একটা মোবাইল ফোন ধরে ছবি তুলে তার ফসলের কী অবস্থা, মাটির কী অবস্থা বা মাটি পরীক্ষা করা এবং কী ধরনের সার ব্যাবহার করবেন, কতটুকু ব্যাবহার করবেন বা কীটনাশক ব্যাবহার করবেন কীনা বা কতটুকু করবেন সেই ধরনের কৃষি তথ্য যাতে তারা পেতে পারেন সে তথ্যকেন্দ্রসমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। সেখান থেকে কৃষক তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কারন আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর মোবাইল ফোনও আমরা সকলের হাতে তুলে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বাংলাদেশের সকল কৃষক-কৃষাণীকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। কারণ, তাঁরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাদ্য উৎপাদন করেন। সেই খাদ্য খেয়েই আমরা বেঁচে থাকি। কাজেই তাদের প্রতি আমাদের সব সময় সমর্থন রয়েছে এবং তাদের সহযোগিতা করা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের কর্তব্য মনে করে। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতা দখল করে এদেশের কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করল। সার চাইতে গিয়ে ১৮জন কৃষককে জীবন দিতে হলো- এ ধরনের ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে।

তিনি বলেছেন, আমি কৃষকলীগকে ধন্যবাদ জানাই। আজকের এই দিনে আমার দুঃখ একটাই- করোনা ভাইরাসের কারণে আমি নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। সকলের সাথে দেখাও আমার হলো না।

প্রধানমন্ত্রী করোনার সম্পর্কে পুনরায় সতর্ক করে বলেছেন, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, মাস্ক পড়তে হবে। গার্গল করা, ভাপ নেওয়া, যেখানে বেশী জনসমাগম সেখানে না যাওয়া, দুরত্ব বজায় রেখে চলা এবং আমরা যে স্বাস্থ্য-সুরক্ষার নির্দেশাগুলো দিয়েছি- অবশ্যই সে নির্দেশনাগুলো মেনে নিজেকে ও অপরকে সুরক্ষিত করুন ।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে যেন দেশ ও জাতি মুক্তি পায়- তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে সবাই দোয়া করেন- বাংলাদেশ এই মহা-দুর্যোগ থেকে যেন দ্রুত মুক্তি পেতে পারে।

এমআইআর/এডিবি