NAVIGATION MENU

বসন্ত উৎসবে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে চিনের নানামুখী উদ্যোগ


চলতি বছরের বসন্ত উত্সব উপলক্ষে চিনের সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বিদেশে করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়া এবং চিনের অভ্যন্তরে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে চিনের রেলপথ, সড়ক, বিমান চলাচল ইত্যাদি বিভাগ মহামারী নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার ও সুবিধা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে কেউ কেউ বলেন, “টিকেট কিনেছি, কিন্তু অবশেষে গন্তব্যে যাইনি।” কেউ আবার জানান, পরিবারের কথা তাদের খুব মনে পড়ছে। কিন্তু ফিরে গিয়ে অনেক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হতে পারে, সেটা ভেবে শেষ সময়ে এসে যাত্রা বাতিল করেছেন।

বসন্ত উত্সবের ছুটিতে চিনের জনগণ প্রতি বছরই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে। যাতায়াতের বাড়তি চাপ সামলাতে ব্যবস্থা করা হয় বিশেষ পরিবহনের। পরিবহন খাত ওই সময়টাতে খুব ব্যস্ত সময় পার করে। এ বছরের যাতায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও মহামারীর কারণে এবারের বসন্ত উত্সবের যাতায়াত একটু ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে।

রেলপথ বিভাগ থেকে জানা গেছে, এ বছরের টিকেট বিক্রি আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। জাতীয় রেলপথ গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারা দেশে এবারের বসন্ত উত্সবের সময় যাত্রীর সংখ্যা ১৯ কোটি ৬০ লাখ কমে যেতে পারে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় পরিষদ এবারের মহামারী প্রেক্ষাপটে বসন্ত উত্সবের পরিবহন নিয়ে বিশেষ একটি কর্মসূচি প্রকাশ করেছে। এতে পরিবহনের ব্যস্ত সময় এড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত সময় এড়ানো এবং পর্যটন স্থলে প্রতিদিন টিকেটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার কথা উল্লেখ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবহন বিভাগের উচিৎ চাহিদা ও সামর্থ্যের সমন্বয় করা এবং বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এবং গ্রামাঞ্চলে পরিবহন সামর্থ্য বাড়ানো।

পরিবহন পরিসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক ওয়াং সিউ ছুন বলেন, “পরিবহন বিভাগের লক্ষ্য হলো পরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিবহন বিতরণ করা এবং একসাথে বেশি মানুষের যাতায়াত এড়ানো। তাছাড়া, মানুষের সমাবেশ কমাতে হবে এবং মহামারী প্রতিরোধের মান উন্নত করতে হবে। তার প্রধান উপায়গুলো হলো রেলস্টেশন এবং যানবাহনকে জীবাণুমুক্ত করা এবং সেখানে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, প্রত্যেকের নিজের নামে টিকেট কেনা, নিজের টিকিটের নম্বর অনুসারে আসনে বসা, তাপমাত্রা মাপা, মাস্ক পরা, এক মিটার দূরত্ববজায় রাখা, যাত্রীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ম মেনে চলা ইত্যাদি।”

রেলপথ বিভাগ খুব কঠোরভাবে যাত্রীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের তাপমাত্রা মাপা, দুটি আসনের মাঝে খালি রাখা, যাত্রীদের মাস্ক পরা এবং রেলগাড়িকে জীবাণুমুক্ত করা এবং বায়ু চলাচল ব্যবস্থা জোরদার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাছাড়া, ই-টিকেট, অনলাইন বুকিং ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হুহ্য হাওথ্য রেলপথ ব্যুরোর পাওথৌ অংশের পরিচালক সু লি শা বলেন, “জ্বরে আক্রান্ত যাত্রীদের জন্য আমরা রেলগাড়িতে বিশেষ আসন সংরক্ষণ করেছি। যদি জ্বরে ভোগা কোনও যাত্রী থাকে, আমরা প্রয়োজনীয় সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাছাড়া, গাড়িতে ভাইরাস প্রতিরোধ জরুরি প্যাকেজ আছে। সেখানে মাস্ক, চশমা, দস্তানা ইত্যাদি জিনিস থাকে জরুরি অবস্থায় যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য।”

এছাড়া, যাত্রীদের সুবিধার জন্য টিকেট ফেরত দেওয়া বা পরিবর্তন করার ব্যবস্থাও সহজ করা হয়েছে। - সূত্র: সিএমজি