NAVIGATION MENU

জাতীয় কবির ৪৪তম প্রয়াণ দিবস আজ


আজ ২৭ আগস্ট। সাম্যের গায়ক, বিপ্লবের উদ্দীপক আর মানবতার বাহক জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ৪৪তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৬ সালের এই দিনে (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) ঢাকায় তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) ৭৭ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন বাঙলির চেতনার এই কবি। 

তিনি পৃথিবী ছেড়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টিশীলতার চেতনা আজও জীবন্ত। বাংলা ও বাঙালি জাতি যতদিন থাকবে, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রাসঙ্গিক হয়ে বেঁচে থাকবেন। দ্রোহের, বিদ্রোহের, মানবতার কবি বিভিন্ন নামে বাংলা সাহিত্যে নজরুলের সৃষ্টিশীলতা দ্যুতি ছড়িয়েছে দিকে দিকে।

যেখানেই অন্যায়-অবিচার, সেখানেই চলেছে তাঁর প্রতিবাদী কলম। মুক্তি আন্দোলনে তাঁর বজ্রকণ্ঠ ও লেখনি ইতিহাসের অংশ। তাঁর চেতনাদীপ্ত কাব্য, সঙ্গীত, নাটকসহ সকল সাহিত্যসৃজন বাঙালির আজন্মের উদ্দীপক শক্তি, প্রেরণার উৎস। বিদ্রোহী দুর্বার লেখনীর অপরাধে তাঁকে দীর্ঘ কারাবাসও করতে হয়েছিল।তাতেও দমেননি নজরুল। উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামাজিক বৈষম্য ছাড়াও স্বদেশপ্রেমের প্রতীক নজরুল পরাধীনতার জিঞ্জির ভেঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমি মানি না কোন আইন, আমি ভরা তরি করি ভরা ডুবি, আমি ভীম, ভাসমান মাইন।’ 

সুরের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তাঁর বিচরণ ঘটেনি। একাধারে গজল, শ্যামাসংগীত, ঠুমরীর পাশাপাশি লিখেছেন অসংখ্য ইসলামী গানও। আবার সব ছাপিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন প্রেমিক কবিও। নানা চরাই উৎরাই পেরিয়ে এই ক্ষণজন্মা তাঁর কর্মময় জীবনে দিয়ে গেছেন আলোর ঝলক। তিনি লিখেছেন - ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।’

বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মেছিলেন। তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। কাজী ফকির আহমেদ ও জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন নজরুল। ১৯০৮ সালে পিতার মৃত্যুর পর মাত্র দশ বছর বয়সেই রোজগারে নামতে হয় দুখু মিয়াকে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। 

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। পরে তাঁকে দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় একুশে পদক। কবির জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সব আনুষ্ঠানিক আয়োজন বন্ধ থাকলেও জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবসে কিছু আয়োজন থাকছে। কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। বাংলা একাডেমিও আয়োজন করেছে আলোচনা অনুষ্ঠানের।

এর মধ্যে রয়েছে কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও আলোচনা। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলা একাডেমি আজ সকাল ১১টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনারকক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একক বক্তব্য দেবেন এ এফ এম হায়াতুল্লাহ।

নজরুল ইনস্টিটিউট সকাল ১০টায় আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এডিবি/