NAVIGATION MENU

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে টাইগাররা। রবিবার (১৮ জুলাই) খেলার শুরুতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।

জবাবে ১৪১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪৯ ওভার ১ বলে খরচ করে ৩ উইকেট হাতে রেখে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

এ দিন দলের জন্য একাই লড়াই করে গেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ৯৬ রানে অপারাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ে। এছড়া সাইফুউদ্দিন খেলেন ২৮ রানের অপারাজিত ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুবই খারপ হয় বাংলাদেশের। ৩৯ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ১১ রান যোগ করতে আরও ২ উইকেট হারিয় বাংলাদেশ। শুরুটা হয়েছিল তামিম ইকবালকে দিয়ে। এরপর লিটন ও মিঠুন তার দেখানো পথ হাঁটেন। ১৪ ওভারে তখন বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৫০।

লুক জংওয়ের অফস্টাম্পের বাইরের বল চালাতে গিয়ে পয়েন্টে মাধবেরের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন মিঠুন। প্রথম ম্যাচে ১৯ রান করা মিঠুন দ্বিতীয় ম্যাচেও হতাশ করলেন। আর সুযোগ পাবেন কী তিনি? এই প্রশ্নটা থেকেই যায়। ৫০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর যখন বাংলাদেশ ধুঁকছে তখন ক্রিজে সাকিবের সাথে দারুণ জুটি করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। কিন্তু তাদের জুটি বড় হওয়ার আগেই ভেঙে গেল ২৫ রানে। নিজের ভুলে মোসাদ্দেক রান আউট হয়ে ফিরে সাজঘরে।

রিচার্ড এনগাবারার বল যায় উইকেটরক্ষক চাকাবার হাতে। বল ঠিকমতো গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি চাকাবা। ওই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মোসাদ্দেক ১ রান নেওয়ার জন্য ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকাবা দ্রুত রিকোভার করে সরাসরি থ্রোতে উইকেট ভাঙেন। আউট হওয়ার আগে করে ৯ বলে ৫ রান। ৭৫ রানে বাংলাদেশ হারাল চতুর্থ উইকেট। এরপর সাকিবের সঙ্গী হিসেবে ক্রিজে আসেন মাহমুদুল্লাহ। এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল করে। তবে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। ৩৫ বলে ২৬ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন রিয়াদ।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন তখন একাই লড়ে গেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বিপর্যয়ের মাঝে সাকিব তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি। তার ফিফিটির পর সাজঘরে ফিরে মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি অফস্পিনার মাধভেরের বল সুইপ করে সীমানার বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু মাঠের সবচেয়ে বড় দিক টার্গেট করে বিপদ ডেকে আনলেন তিনি। তার এলোমেলো শট সোজা যায় ডিয়োন মায়ার্সের হাতে। দলকে বিপদে ফেলে মিরাজ আউট হলেন ৬ রানে। এরপর খুব দ্রুত ফিরে যায় আফিফ। শেষ দিকে সাকিব ও সাইফুউদ্দিনের ব্যাটে ৩ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

জিম্বাবুয়ে: ২৪০/৯ (৫০ ওভার) বাংলাদেশ: ২৪২/৭ (৪৯.১ ওভার)

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদুল্লাহ, আফিফ হোসেন, সাইফউদ্দিন, মেহেদী মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: টিনাশে কামুনহুকোয়ামে, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, রেজিস চাকাবভা, ব্রেন্ডন টেইলর, ডিও মায়ার্স, সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, লুক জঙ্গওয়ে, টেন্ডাই চাটারা, ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভা।

ওআ/