NAVIGATION MENU

জীবন নাশের শঙ্কায় ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি


অব্যাহত হামলা-মামলা আর হয়রানির কারণে নিজের ও পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাকিল ইসলাম রাব্বি।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য তরুণ এ ছাত্রলীগ নেতা নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাব্বি বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত। তার রাজনৈতিক মেধাকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য কোন চক্র প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজগ করে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও হামলা চালাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন রাব্বির বাবা সেলিম রেজা, মা-মিসেস মাজেদা পারভীন ও বৃদ্ধা নানি সালেহা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাব্বি বলেন, ‘ঢাকার একটি থানায় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবার পর থেকে তিনি নিয়মিত নিজ গ্রাম বরিশালের উজিরপুর থানার জল্লা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কারফা বাজারে প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জল্লা ইউপির চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু। ওই সময় রাব্বি ছিলেন দেশের বাহিরে।’

তিনি বলেন, ‘অথচ উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামীলীগের এক নেতার ইশারায় রাব্বিকে নান্টু হত্যার আসামি করা হয়। দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নেয়ার মধ্যেই তিনি গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ ৭ মাস পর জামিনে মুক্তি পান। এরই মধ্যে শুরু হয় ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন। স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে তিনি উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও ২৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল ইসলাম রতনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেন। নৌকার পক্ষে কাজ করার পরেও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সামিউল আলিম চৌধুরী তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন শেষে অস্ত্র মামলা দেয়। ৫ মাস পর মুক্তি পান। আড়াই বছর পর গত কোরবানির সময় গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে নিহত চেয়ারম্যানের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালায়। অথচ পুলিশ রাব্বির মামলা না নিয়ে উল্টো তাকে আসামি করে অন্যদের মামলা নেয়।’

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন। রাত ৩টায় হঠাৎ ঘরের দরজায় লাথি এবং জানালায় আঘাতের বিকট শব্দ শুরু হয়। তিনি ভাবেন ডাকাত পড়েছে। ঘরে পুরুষ সদস্য একমাত্র রাব্বি। পরিবারের অন্যরা বিষয়টি মোবাইল ফোনে প্রতিবেশিদের জানান। মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর ভবনের বাইরে অবস্থানরত নিজেদের আইনের লোক বলে পরিচয় দেয়। রাব্বি দরজা খুলে দেয়। দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে তার ঘরের প্রতিটি কক্ষ তল্লাশী করে র‌্যাব-৮ সদস্যরা।

এর আগে রাব্বি ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চান। পুলিশ যাবার পর র‌্যাব ফিরে যায়। যাবার আগে তথ্যদাতাদের গালাগালি করেন র‌্যাব সদস্যরা। ওই রাতের পর থেকে রাব্বি ও তার পরিবারের সদস্যরা আজো স্বাভাবিক হতে পারেন নি। রাব্বি বলেন, সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন কি হয়ে যয়।

রাব্বি বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, আইজিপি ও তেজগাঁও জোনের ডিসি বরাবর লিখিত আবেদন করি। ডিসি হারুন অর রশিদের সঙ্গে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন।

মোহাম্মদপুরে বসবাসকালে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা মামলার বাদি সামিউল আলিম তার লোকজন দিয়ে আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করতে পারছেন না নান্টু বাহিনির হামলা মামলার কারনে। এখন তিনি কি করবেন নিজেও জানেন না।

রাব্বি বলেন, তিনি সকল মামলায় জামিনে রয়েছেন। অথচ মামলা-হামলার আতঙ্কে রয়েছেন। যে কোন সময় গুম কিংবা খুনের শঙ্কা করছেন। তিনি নিজের ও পরিবারের জীবন রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া তার অন্য কোন বিকল্প নেই।

এমআইআর/ওআ