NAVIGATION MENU

জেলাগুলোতে আছড়ে পড়েছে করোনার ঢেউ, ১দিনে মৃত্যু ৬৭


বেশ জোরালোভাবেই দেশের জেলাগুলোতে আছড়ে পড়েছে বৈশ্বিক করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। আর সেই ঢেউয়ে দেশে লাগাতারভাবে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ১৩ হাজার ৪৬৬ জনের মৃত্যু হলো।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৫৭ জনের।  দেশের উত্তর জনপদ জেলা রাজশাহীতে চলতি মাসের ১৯ দিনে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ১৯ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৯৩ জন। নাটোর পৌরসভা ও সিংড়া পৌরসভায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৫ জনের দেহে সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

সংক্রমণের হার ৭০.৬৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান। রাজশাহীতে আরও এক সপ্তাহ বাড়লো সর্বাত্মক লকডাউন। রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলায় করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।

তাছাড়া বেড়েছে মৃত্যুর হারও। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (১৯ জুন) সকালে বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। গতকাল শুক্রবার ১৮ জুন মারা গেছেন ১২ জন।

আগের দিন ১৭ জুন করোনায় মারা গেছেন ১০ জন ও ১৬ জুন মারা গেছে ১৩ জন। রাজশাহী বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ১০ জনের বেশি। এর মধ্যে সর্বাধিক ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ১৪ জুন। সীমান্তবর্তী জেলা রাজশাহীতে করোনার প্রাদুর্ভাব যাতে বেড়ে না যায়, সেজন্য ১১ জুন (শুক্রবার) থেকে 'বিশেষে লকডাউন' চলছে।

যা চলবে আগামী ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত। এছাড়া রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগও বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে ২২ জুন থেকে সাত দিনের জন্য দেশের দক্ষিণ জনপদ জেলা খুলনা মহানগরীতে কঠোর লকডাউন আরোপ করা হচ্ছে। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচামাল ও ওষুধ বহনকারী যানবাহন ছাড়া কোনো গণপরিবহণ খুলনায় প্রবেশ করতে বা বের হতে পারবে না।

কেননা খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু এবং আক্রান্তের হার বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু।   

উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, শুক্রবার (১৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে শনিবার (১৯ জুন) সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময় তারা মারা যান। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর পাঁচজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচজন রয়েছেন। মৃতদের বেশিরভাগেরই বাড়ি ভারত সীমান্তবর্তী উচ্চ সংক্রমিত এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলায়। বর্তমানে এ দুই জেলায় 'বিশেষ লকডাউন' চলছে। এর পরও এই দুই জেলা সংক্রমণের চূড়ায় পৌঁছেছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এস এস