NAVIGATION MENU

জয়নুল হক সিকদারের মরদেহ শরিয়তপুরে


দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগ্রুপ সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর কর্ণধার ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক জয়নুল হক সিকদারের মরদেহ শরিয়তপুরে তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজস্ব হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ যোহর তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে।

জানাজা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে মরদেহ ফের ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। তারপর রাজধানীর রায়েরবাজারে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নিজ হাতেগড়া জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে তাকে সমাহিত করা হবে।

এর আগে শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ যোহর রাজধানীর রায়েরবাজারে জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিক্যাল কলেজের পাশে সিকদার রিয়েল এস্টেটের ফাঁকা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে মরহুম জয়নুল হক সিকদারের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমসহ সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের মানুষ।

জানাজার আগে জয়নুল হক সিকদারের মেয়ে সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদার, চার নাতি-নাতনি মনিকা সিকদার, ম্যান্ডি সিকদার, শন হক সিকদার এবং জোনাস সিকদার পরিবারের পক্ষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

তারা জানাজায় শরিক হওয়া সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, 'জয়নুল হক সিকদার সর্বদা জনগণ ও জনকল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি কখনও নিজের জন্য কিছু ভাবেননি।  তারপরও উনি যদি কোনো ভুল-ত্রুটি করে থাকেন, তাহলে সবাই উনাকে ক্ষমা করে দেবেন।'

জানাজার সময় মরহুম জয়নুল হক সিকদারের স্ত্রী মনোয়ারা হক সিকদার, তাঁদের দুই ছেলে রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার-সহ তাদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানির সমস্ত পরিচালকবৃন্দ এবং গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনজায় অংশ নেন।

জানাজার নামাজ শেষে হাজার হাজার মানুষের মাঝে তোবারক (খাবার) বিতরণ করা হয়।

জানাজার আগে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকষ দল বালুরমাঠে চত্বরে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

গত বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

দেশের অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি জেড এইচ শিকদার মৃত্যুকালে স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম শিল্প উদ্যোক্তা জয়নুল হক সিকদার ১৯৩০ সালের ১২ আগস্ট ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সাথে বাংলাদেশে চলে আসেন।

জয়নুল হক সিকদার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অন্যতম অংশীদার হিসেবে দীর্ঘ সাত দশকের বেশ সময় ধরে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পর্যটন, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।  এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকের তাদের ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে জয়নুল হক সিকদারের সহায়তা পেয়েছেন।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও একজন দানশীল মানুষ হিসেবে জয়নুল হক সিকদার বিশেষভাবে সুপরিচিত। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ব্যক্তিগত আগ্রহে তিনি দারিদ্র দূরীকরণ এবং সমাজের পিছিয়েপড়া প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সহায়তা করেছেন।

জয়নুল হক সিকদার সেই ১৯৪৫ সাল থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাঁর পাশে থেকেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার চারদিন পর ১৯ আগস্ট রায়েরবাজারে কুলখানির আয়োজন করেন। এজন্য সে সময়ের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে নানানভাবে হয়রানি করে এবং ভয়-ভীতি দেখায়, এমনকি তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত এই লম্বা সময় জয়নুল হক সিকদার তাঁর প্রিয় “মুজিব ভাই” এর প্রতি ভালবাসা থেকে খাটে না ঘুমিয়ে ঘরের মেঝেতেই ঘুমাতেন।

এডিবি/