ন্যাভিগেশন মেনু

ট্রেনে চড়ে পদ্মা পাড়ি দিলেন প্রধানমন্ত্রী


ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার পর, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মাওয়া স্টেশন ঢাকা-ভাঙ্গা রেল পথের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাঁশি বাজিয়ে ও সবুজ পতাকা নাড়িয়ে রেল চলাচলের সংকেত দেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।

পরে টিকিট কেটে রেলে চড়েন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীরা। দুপুর একটার দিকে বিশেষ ট্রেনটি পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়াও, বিভিন্ন পেশার আরও ৫০ জন ট্রেনে ভ্রমণ করেন। 

এই ৫০ জনের মধ্যে চারজন মুক্তিযোদ্ধা, চারজন প্রাথমিক ছাত্র, একজন প্রাথমিক শিক্ষক, তিনজন মাদ্রাসার ছাত্র, একজন ইমাম, একজন মাদ্রাসার শিক্ষক, দুইজন জাতিগত সংখ্যালঘু, হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন, একজন বৌদ্ধ, একজন খ্রিস্টান, একজন রিকশাচালক, একজন পুরুষ কৃষক, একজন মহিলা কৃষক, একজন গার্মেন্টস কর্মী, একজন ফেরি চালক, একজন বোটম্যান, একজন মেট্রো-রেল কন্ট্রোলার, একজন টিটিই, একজন লোকো মাস্টার, একজন স্টেশন মাস্টার, একজন পথচারী, একজন বাস চালক, একজন হকার, একজন সবজি বিক্রেতা, একজন পাট মিল শ্রমিক, একজন নার্স, একজন দিনমজুর, একজন জেলা আনসার ও ভিডিপি সদস্য, একজন ভিডিপি সদস্য, একজন পুলিশ সদস্য, একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা, একজন স্কাউট, একজন বিএনসিসি, একজন র‌্যাব সদস্য, একজন রেলওয়ে পুলিশ সদস্য, একজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য, নৌবাহিনীর একজন সদস্য, বিমান বাহিনীর একজন সদস্য, বিজিবির একজন সদস্য, কোস্টগার্ডের একজন সদস্য এবং আরএনবি থেকে একজন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের স্টেশনে তাঁকে স্বাগত জানাতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর মহাসমাবেশ উপলক্ষে ডা. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়াম এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল থেকেই জনগণ তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অপেক্ষা করেছে। এ সময় জনগণকে আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ নির্মাণের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান ঘটায়, প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

ঢাকা-ভাঙ্গা রেল রুট আজ উদ্বোধন করা হলেও এ রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন সার্ভিস এখনই চালু হচ্ছে না, তবে ট্রেন সার্ভিস শিগগিরই চালু হবে।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে বিশেষ ট্রেনের ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্প’র আওতায় ঢাকা ও যশোরের মধ্যে রেল সংযোগ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯,২৪৬.৮০ কোটি টাকা এবং চীনের এক্সিম ব্যাংক ২১,০৩৬.৭০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।