NAVIGATION MENU

দেশে পৌঁছেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মরদেহ


বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগ্রুপ সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর কর্ণধার ও বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক জয়নুল হক সিকদারের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তার মরদেহ বহনকারী কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিকেল ৫টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গত বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ রাজধানীর গুলশানে জয়নুল হক সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তাঁর গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরে দাফন সম্পন্ন হবে।

দেশের অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি জেড এইচ শিকদার মৃত্যুকালে স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম শিল্প উদ্যোক্তা জয়নুল হক সিকদার ১৯৩০ সালের ১২ আগস্ট ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সাথে বাংলাদেশে চলে আসেন। 

জয়নুল হক সিকদার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অন্যতম অংশীদার হিসেবে দীর্ঘ সাত দশকের বেশ সময় ধরে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পর্যটন, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।  এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। 

শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকের তাদের ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে জয়নুল হক সিকদারের সহায়তা পেয়েছেন।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও একজন দানশীল মানুষ হিসেবে জয়নুল হক সিকদার বিশেষভাবে সুপরিচিত। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ব্যক্তিগত আগ্রহে তিনি দারিদ্র দূরীকরণ এবং সমাজের পিছিয়েপড়া প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সহায়তা করেছেন।

জয়নুল হক সিকদার সেই ১৯৪৫ সাল থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাঁর পাশে থেকেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার চারদিন পর ১৯ আগস্ট রায়েরবাজারে কুলখানির আয়োজন করেন। এজন্য সে সময়ের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে নানানভাবে হয়রানি করে এবং ভয়-ভীতি দেখায়, এমনকি তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত এই লম্বা সময় জয়নুল হক সিকদার তাঁর প্রিয় “মুজিব ভাই” এর প্রতি ভালবাসা থেকে খাটে না ঘুমিয়ে ঘরের মেঝেতেই ঘুমাতেন।

সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শরিফ আহমেদ, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। আরও শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

>  বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

> বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

এমআইআর/এডিবি