NAVIGATION MENU

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন সিএমজি মহাপরিচালক


চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)’র মহাপরিচালক শেন হাই স্যিয়ং সবাইকে খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০২১-এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর শুভেচ্ছা বার্তাটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো:

প্রত্যাশিত ২০২১ সাল আসছে। নতুন বছর হলো চিনা চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী ষাঁড় বর্ষ। প্রাচীনকাল থেকে ষাঁড় মানুষের গৃহপালিত প্রাণী। কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় এ প্রাণীর অবদান অনেক। চিনাদের চোখে ষাঁড় পরিশ্রম ও শক্তির প্রতীক। আমি বেইজিং থেকে আপনাদের খ্রিস্টীয় নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই। আগামী বছর আপনাদের জীবন ষাঁড়ের মতো পরিশ্রমী ও শক্তিমত্তায় পরিপূর্ণ হোক, সেই প্রত্যাশাকরছি।

২০২০ ছিল অসাধারণ একটি বছর। ওই বছর বিশ্ব অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। আকস্মিক কোভিড-১৯ মহামারী নতুন বছরও আমাদের তাড়া করে ফিরছে। 

প্রেসিডেন্ট সি’র সুযোগ্য নেতৃত্বে গোটা চিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। পৃথিবীতে একমাত্র চীনের অর্থনীতিই মহামারির ধকল কাটিয়ে উঠে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। 

কোভিড-১৯ মহামারি এখনও গোটা বিশ্বে তার তাণ্ডব অব্যাহত রেখেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ সংকট থেকে পৃথিবী মুক্ত হোক এবং সবাই সুস্থ থাকুক সেই কামনা করছি। 

সংবাদকর্মী হিসেবে সঠিক খবর প্রকাশ করা ও প্রচার করা হলো আমাদের দায়িত্ব। কোভিড-১৯ মহামারি সংক্রমণের প্রথম দিকে সিএমজি’র দুই হাজারেরও বেশি কর্মী মহামারি প্রতিরোধে সম্মুখ সারিতে কাজ করেছেন। 

বিপজ্জনক ‘রেড জোনে’ আমাদের প্রতিবেদকরা নিয়মিত যাতায়াত করেছেন, বিভিন্ন ভাষায় তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন এবং বিশ্বের কাছে চীনের মহামারি প্রতিরোধের গল্প তুলে ধরেছেন।

সিএমজি’র উদ্যোগে ‘কোভিড-১৯ ফ্রন্টলাইন’ নামের অনলাইন সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের চিকিত্সাকর্মীরা মহামারি প্রতিরোধের ঘটনা ও চিকিৎসার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। আমরা মেডিকেল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’র সাধারণ সম্পাদক রিচার্ড হার্টন ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি’র করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত রিপোর্টের প্রথম লেখক পিটার ফস্টারের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। সত্য ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোভিড-১৯ মহামারি সম্পর্কিত বিভিন্ন মিথ্যা ধোঁয়াশা দূর করেছি।

চলতি বছর মানবজাতির ভালবাসার জয় হয়েছে। প্রায় নয় শ’ বছর আগে চীনের উত্তর সং রাজবংশের দার্শনিক চাং জাই বলেছিলেন, কঠোরতা ও কষ্ট মানুষকে তিলে তিলে গঠন করে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনে সহায়তা করে। কঠোরতা ও কষ্টের সময় আমরা উষ্ণতা ও ভালবাসা পাই। মহামারির সময়ে আমরা আরও গভীরভাবে মানবজাতির ‘অভিন্ন ভাগ্যের সমাজের’ অর্থ বুঝতে পেরেছি। মহামারির মাধ্যমে আমরা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি যে, মানবজাতির উচিৎ যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। এতে করে কঠিনতা সহজে জয় করা যায়।

কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের প্রত্যক্ষ যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমাদের হৃদয় আটকাতে পারেনি। ফলে আমাদের হৃদয়গুলো আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এ বছরে আমি রাশিয়ার জাতীয় টেলিভিশন ও বেতার কর্পোরেশন, রাশিয়ার পত্রিকা, বিবিসি, সিএনএন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস, জাপানের সম্প্রচার সমিতি, ইতালীয় সম্প্রচার কর্পোরেশন, ও ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়নের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং চীনে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তিন শতাধিক পত্র বিনিময় করেছি। সিএমজি ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার অনেক দেশের শতাধিকেরও বেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে ‘ক্লাউড ফোরাম’ আয়োজন করেছে এবং অনেক তথ্যমাধ্যমের সঙ্গে নীতিগত সহযোগিতা জোরদার করেছে। 

মহামারি ছাড়াও দারিদ্র্য হলো মানবজাতির এক সর্বনাশা রোগ। চিনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছেন, দারিদ্র্যমুক্তকরণ হলো প্রাচীনকাল থেকেই মানবজাতির অভিন্ন প্রত্যাশা এবং সব দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার। চলতি বছরে চিন সার্বিকভাবে দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে। আট বছর পরিশ্রমের পর ১০কোটিরও বেশি চিনা মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছেন। চিন মানবজাতির দারিদ্র্যমোচনের ইতিহাসে এক অলৌকিক ঘটনার সৃষ্টি করেছে।

সেসব অলৌকিক ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ করে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় বিশ্ব জুড়ে ‘চীনের দারিদ্র্যবিমোচন’ নামের তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছি। এতে করে চীনের প্রতিটি গ্রাম ও প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের দারিদ্র্য বিমোচনের গল্প সারা পৃথিবী জানতে পেরেছে। 

তথ্যমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নতুন নেতৃস্থানীয় গণমাধ্যম এবং ওয়েবসাইট গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমরা ‘৫জি+৪কে/৮কে+এআই’ প্রযুক্তি দিয়ে চমত্কারভাবে চীনের ‘ছাংএ্য ৫’ চন্দ্রাভিযান ও নমুনা সংগ্রহ, চীনের সাবমেরিন ‘ফেনতৌচে’ সমুদ্রের ১০,৯০৯ মিটার গভীরে যাওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছি। তৃতীয় চিন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলার সময় আমরা সরাসরি বাণিজ্যের মাধ্যমে ইউরোপের অনেক ধরনের পণ্য চীনের বাজারে জনপ্রিয় করে তুলেছি। 

আমি মনে করি, যথার্থতা হলো তথ্যমাধ্যমের প্রাণ। সত্য ও প্রমাণভিত্তিক খবর প্রকাশ হলো তথ্যমাধ্যমের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেশ কিছু তথ্যমাধ্যম চিন সম্পর্কিত খবর প্রকাশের সময় অসত্য, অর্ধসত্য ও মিথ্যা এবং গুজবকে খবর হিসেবে প্রচার করে থাকে। মহামারি প্রতিরোধ এবং হংকং ও সিনচিয়াংয়ের বিষয়ে এসব তথ্যমাধ্যম মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা সত্য দিয়ে মিথ্যাকে খণ্ডন করছি। নতুন বছর গোটা বিশ্বের তথ্যমাধ্যমের কর্মীদের মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

নতুন বছর সিএমজি আন্তর্জাতিক প্রধান তথ্যমাধ্যমের দায়িত্ব পালন করবে। বিশ্বের কাছে সত্য তথ্য প্রকাশ করবে। ২০২১ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার একশতম বার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার শুরুতে সিপিসি’রমাত্র ১৩জন সদস্য ছিলেন। বর্তমানে নয় কোটিরও বেশি সদস্য রয়েছে দলটির। সিপিসি সফলভাবে চিনকে নেতৃত্ব দিয়ে শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন করেছে। সিপিসি’র সফলতার সূত্র কী? ১৪০ কোটি চিনা মানুষ কেন সিপিসিকে সমর্থন দেয়? এটি হবে নতুন বছর আমাদের খবরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সবসময় চিন ও বিশ্বের সঠিক খবর প্রকাশ করতে থাকবো।

নতুন বছরের উজ্জ্বলসূর্য উঠেছে। চীনের ষাঁড় বর্ষ আপনার জন্যকল্যাণ বয়ে আনুক। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। 

অনুবাদ: ছাই ইউয়ে মুক্তা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ থেকে