NAVIGATION MENU

ন্যাশনাল ব্যাংক ও পরিচালনা পর্ষদকে হেয় করতেই এই মামলা


সিকদার গ্রুপের দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও অতিরিক্ত এমডি নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগে যে মামলা দায়ের হয়েছে তার সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। 

সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ওই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত দোষী মিথ্যা মামলার বাদী এবং এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আইনের ও ন্যায় বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের আইন উপদেষ্টা ও সিনিয়র আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার বুধবার এক লিখিত ব্যাখ্যায় বলেন, এক্সিম ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণের আবেদন নিয়ে সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মামলা করেছেন ব্যাংকটির পরিচালক লেঃ কর্নেল (অবঃ) সিরাজুল ইসলাম।

অথচ রন হক সিকদার এক্সিম ব্যাংককের কাছে ৫০০ কোটি টাকার ঋণের কোন লিখিত আবেদনই করেননি। বরং মামলার বাদী এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক ও তাঁর মেয়ে বিভিন্ন সময়ে ঋণ সুবিধা নিয়েছেন সিকদার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে। 

সর্বশেষ গত ১৩ মে এক্সিম  ব্যাংকের পরিচালক ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। গত ৭ মে  দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা  সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঘটনার মিথ্যা বিবরণ দেখিয়ে সিকদার গ্রুপের দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে কর্নেল (অবঃ) সিরাজুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন।

বরং এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক এবং তাঁদের আত্মীস্বজনরা বিভিন্ন সময়ে ঋণের  উপযুক্ত জামানত ব্যতিরেকেই ঋণ নিয়েছেন। 

সর্বশেষ দেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এক্সিম ব্যাংকের  একজন পরিচালক ও তাঁর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিপুল অঙ্কের ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করেন সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানির মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের কাছে।

অথচ মামলায় রন হক সিকদারকে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার আবেদন উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়। এ ধরণের কোন প্রমাণ বাদী দেখাতে পারবেন না।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৭ মে রন হক সিকদার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তা এক্সিম ব্যাংকের গুলশান এভিনিউ শাখায় গিয়েছেন। এই অভিযোগেরও কোন ভিত্তি নেই। 

বাস্তবে ওই দিন রন হক সিকদার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তা এক্সিম ব্যাংকের গুলশান শাখায় যাননি। ফলে কথিত ৫০০ কোটি টাকার  ঋণ এবং এই সংক্রান্ত জামানত নিয়ে দর কষাকষির বিষয় একেবারেই হাস্যকর।

তাছাড়া এই মিথ্যা মামলার বাদী উল্লেক্ষিত ঘটনার সাক্ষী নয়। মামলার এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডির সাথে আলোচনা না করে ব্যাংকের শুধু নির্বাহীদের সাথে কথা বলে কথিত ঘটনার ১২ দিন পর উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে তিনি মামলা দায়ের করেছেন।

অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে,  এক্সিম ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যবসা প্রসারের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ নিয়েছেন। নিজের পাশাপাশি ঋণ সুবিধা নিয়েছেন তার মেয়েও। ওই পরিচালক বেনামে ঋণ সুবিধা গ্রহণেরও প্রস্তাব দিয়েছেন।

ব্যাংক, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, নির্মাণ, এভিয়েশনসহ বিভিন্ন  খাতে সিকদার গ্রুপের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সিকদার গ্রুপের ব্যবসা রয়েছে।

রন হক সিকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড  এবং এর বোর্ড অব ডিরেক্টররা বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন দীর্ঘদিন  ধরেই। 

মামলাটি শুধু দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ এবং এর  পরিচালকদের সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এস এস