ন্যাভিগেশন মেনু

পঞ্চগড়ে বারি চীনা বাদামের বাম্পার ফলন বাজারে ভাল দাম পেয়ে চাষীরা খুশি


পঞ্চগড়ে বারি চীনা বাদামের বাম্পার ফলন। বাজারে ভাল দাম পেয়ে চাষীরা খুশি। পঞ্চগড় জেলার আবহাওয়া বাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় এবছর বেঁলে দোঁআশ মাটি বারি চীনা-৬ জাতের বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় এবছর পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলায় বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হেক্টর। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বাদাম লাভজনক অর্থকরী ফসল হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পর আরও ১৭ হেক্টর জমিতে বাদাম হয়েছে। ফলে পঞ্চগড় জেলায় এবছর ৯ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে ৯টি জাতের বাদাম চাষ হয়েছে। বাদামের জাতের মধ্যে রয়েছে বারি চীনা-৬, বারি চীনা-৮, ঢাকা-১, বিনা-৪, বিনা-৮, বারি চীনা-৮, বারি চীনা-৯, ঝিঙ্গা, ও ঢাকা-২ সহ মোট ৯টি জাতের মধ্যে বারি চীনা-৬ উচ্চ ফলনশীল বাদামের  বাম্পার ফলন ভাল হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জাতের বাদামের ফলনও বেশ ভাল ছিল।

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মানিকপীর গ্রামের বাদাম চাষী সুমন (৩৫) এ প্রতিবেদকে জানান ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। বাদামের বীজ রোপনে কিছুটা দেরি হওয়া এবং বর্ষা মৌসূম চলে আসার কারণে বাদাম তুলে ফেলতে হয়েছে। যে কারণে আমার কিছুটা ফলন কম হয়েছে। তবে যারা মৌসূমের শুরুতে বীজ রোপন করেছে তাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাদাম চাষী সুমন আরও বলেন এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি একরে ৪০ মণ ফলনের আশাবাদী। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদামের দাম ৩ হাজার ৮শত টাকা থেকে ৪ হাজার ৫ শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই চাষীর মতে, রোপন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত সার বীজ ও পরিচর্যা সহ প্রতি একরে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে ভাল দাম থাকা তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।  

বেংহারী গ্রামের বাদাম চাষী যোগেশ রায় (৪০) জানান বাদাম একটি অর্থকারী ও লাভজনক ফসল। অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষাবাদে খরচ কম এবং তেমন কোন রোগ বালাই নাই। তিনি ২ বিঘা জমিতে বাদাম চাষবাদ করে ২৩মণ ফলন পেয়েছি। বাজারে বাদামের ভাল দাম থাকায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলে জানান।

বাংলাবান্ধা গ্রামের বাদাম চাষী নকিবুল ইসলাম বলেন, ৫৫ শতক জমিতে হাইব্রিড বাদাম করেছি। ফলন ভাল হয়েছে। আশা করি ১৫মণ ফল পাবো। চাষী বলেন, ৫৫ শতক জমি চাষাবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।  বর্তমান বাজার দাম থাকলে তার সব খরচ বাদ দিয়ে ৪০ হাজার টাকা মুনাফা হবে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার, তামান্না ফেরদৌস বলেন, বাদাম একাধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ অর্থকারী ফসল। বাদাম প্রচুর কেলোরি, ক্যাসিয়াম, ভিডামিন ডি, ভিটামিন এ ও প্রটিন সমৃদ্ধ খাবার। অন্যান্য ভোজ্য তেলের তুলনায় বাদামের তৈরি তেল স্বাস্থের জন্য বেশ উপকারি। খালি বাদাম ও বাদামের তেল শিশুদের হাড় গঠন ও মেধা শক্তি বৃদ্ধি সহ হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য বেশ উপকারী।  এবছর তেঁতুলিয়া ১৫০ থেকে ১৮০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের বাদাম চাষ হয়েছে বলে জানান। 

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক, কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, বাদাম একটি অর্থকারী ফসল। পঞ্চগড় জেলার মাটি বেলে দোঁআশ এবং হিউমাসযুক্ত নরম। ফলে সব ধরণের ফসল উৎপাদনে এ অঞ্চলের জমি উপযোগী। বিশেষ করে আলু চাষাবাদ উত্তোলনের পর একই জমিতে চাষীরা স্বল্পখরচে লাঙ্গল টেনে পরিবার পরিজন নিয়ে বাদামের বীজ রোপন করতে পারে। বাদাম চাষাবাদে তেমন রোগ বালাই নাই। শুধুমাত্র বাদাম তোলার সময় পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি বাহিরের কিছু শ্রমিক লাগে। কৃষিবিদ বলেন, বাদাম চাষীদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছে এ মৌসূমে প্রতি বিঘায় ১১ থেকে ১২মণ করে বাদামের ফলন পেয়েছে। ফলন ও বাজারে ভাল দাম পেয়ে জেলার চাষীরা বাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।