ন্যাভিগেশন মেনু

বগুড়ায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখায় চুরির ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার, দশ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার


বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখায়  সিন্দুক ভেঙে ২৯ লক্ষাধিক টাকা চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় চুরি যাওয়া ১০ লক্ষাধিক টাকা, চুরির টাকায় কেনা একটি মোটরসাইকেলসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত লোহার তৈরি টায়ার লিভার উদ্ধার হয়েছে। ১৯ জুন থেকে একটানা পাঁচদিন ব্যাপী বগুড়া ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি টাকা উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। 

পুলিশ সুপার জানান, গত ১২ জুন বিকেলের পর হতে রাতের বেলায় যেকোনো সময় সিন্দুক ভেঙে চোরেরা ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৬১৮ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। ১৩ জুন সকালে ব্যাংক খোলার পর কর্মকর্তারা সিন্দুক ভাঙ্গা দেখে পুলিশে অবগত করেন। এ ঘটনার পরে পুলিশের একাধিক টিম চোরদের ধরতে অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, বগুড়া সদর উপজেলার বড় টেংরা এলাকার জাহিদুল ইসলাম, সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ আটকরিয়া এলাকার মোঃ পাভেল, আদমদীঘি উপজেলার তালশন কুন্ডুপাড়া এলাকার বিপ্লব সরকার মিথুন ওরফে মিঠু এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ির সিংড়িয়া এলাকার বিমল রাজভর। 
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে পাভেল এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  এদের মধ্যে পাভেলের বিরুদ্ধে দুটি এবং জাহিদুলের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা আদালতে বিচারাধীন। 

ব্যাংকে চুরির ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ইসলাম। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২জুন দিবাগত রাতে মাটিডালী ব্রিজের কাছে রাকিবসহ (ছদ্মনাম) বাকি আসামিরা একত্রিত হয়। এসময় জাহিদুলের নির্দেশে বিমল এবং রাকিব আইএফআইসি ব্যাংকের পিছনে দিয়ে যেয়ে বিল্ডিংটির আশেপাশে পর্যবেক্ষণ করে এবং অপর অভিযুক্তদের ক্লিয়ারেন্স দেয়। পরে জাহিদুল একটি টায়ার লিভারসহ ব্যাংকের বিল্ডিংয়ের পিছনে অবস্থান নেয়। এতে যুক্ত হন মিথুন ও পাভেল। এরপর জাহিদুল প্রথমে ব্যাংকের বিল্ডিংয়ে উঠে এবং পরে বিমল তার সাথে প্রবেশ করে। এসময় বাকি আসামিরা বিল্ডিংয়ের আশেপাশে সতর্ক অবস্থানে থাকে। এরপর জাহিদুল ও বিমল নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে মুখে মাস্ক ও মাথা পলিথিন দিয়ে ঢেকে ফেলে। পরে তারা দুজন ব্যাংকের ভেতরে সিন্দুক ভেঙে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৬১৮ টাকা চুরি করে। এসময় চুরির টাকা তাঁরা ব্যাংকের ময়লা রাখা বস্তায় নিয়ে বের হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার আরও বলেন, ব্যাংকে চুরির আগে গত এক মাসে জাহিদুল একাধিকবার আসে । উপশাখায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল নিশ্চিত হয়ে চুরির পরিকল্পনা করে।  গ্রেপ্তারের পর পাভেলের কাছ থেকে  এক লাখ এক হাজার সাতশ' সত্তর টাকা, বিমলের কাছ থেকে দুই লাখ ৯৩ হাজার ২২০ টাকা, মিথুনের কাছ থেকে ১ লাখ ৯১ হাজার ২৫০ টাকা এবং জাহিদুলের কাছ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং চুরির টাকা দিয়ে কেনা এ লাখ টাকা দামের একটি পুরাতন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন জানানো হবে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

 ব্রিফিংকালে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ ও মোতাহার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরাফত ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ  সাইহান ওলিউল্লাহ, ইন্সপেক্টর ( তদন্ত) শাহীনুজ্জামান, ইন্সপেক্টর রেদোয়ান, ইন্সপেক্টর ফইম উদ্দিন সহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য শহরের মাটিডালি বিমান মোড় এলাকায় দ্বিতল ভবনের উপর তলায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপ শাখার কার্যক্রম রয়েছে।ব্যাংক ম্যানেজারসহ ২ কর্মকর্তা আর একজন ওয়াচ ম্যান, এক কর্মচারী মিলে চারজন এখানে কর্মরত। যতক্ষণ ব্যাংক খোলার ততক্ষন ওয়াচম্যান দায়িত্ব পালন করেন, কোন নৈশ্য প্রহরী নেই, এ উপশাখায়।