NAVIGATION MENU

বন্য হাতির দল লোকালয়ে; নিরুপদ্রবে জঙ্গলে ফেরাতে কাজ করছে কুনমিংয়ের প্রশাসন


পনেরটি হাতির একটি দল জঙ্গল ছেড়ে উত্তর দিকে এগিয়ে আসছে। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলছে তাদের এই পথচলা। এক পর্যায়ে তারা চলে আসে কুনমিং শহরের কাছাকাছি। শহর থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে ইউনান প্রদেশের একটি জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল থেকে হাতিগুলো চলে আসে লোকালয়ে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

বৃহৎ এ প্রাণীগুলো দ্বারা সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানোর জন্য সেগুলোকে আবাসিক এলাকায় প্রবেশে বাধা দিতে সড়ক অবরোধ করে চব্বিশ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে কুনমিংয়ের সরকারী প্রশাসন।

পাঁচ শয়ের অধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৬৪ টি ট্রাক, ৫২ টি ইমারজেন্সি গাড়ি রাখা হয়েছে ৩টি প্রবেশদ্বারে। চৌদ্দটি ড্রোনসহ একটি দল পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে হাতিগুলোর গতিবিধি।

ট্রাক ড্রাইভারদের একজন বলেন, “আমরা এখানে হাতিগুলিকে আটকাতে এসেছি। ট্র্যাফিক পুলিশ আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। যতক্ষণ প্রয়োজন আমরা এখানেই থাকব।” 

হাতির এই দলকে যেন কোন রকম ভয়-ভীতি দেখানো না করা হয় সেজন্য স্থানীয় গ্রামবাসীদের সচেতন করার কাজ করছে একটি দল। পাশাপাশি তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার রাখার ব্যবস্থা এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে আসার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, “আমি প্রথমে ৩ মিটার লম্বা হাতি দেখে অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে আসি। পালানোর আগে একটি হাতির বাচ্চাকে আমাদের বাসার দেয়াল ঘেঁষে ছুটাছুটি করতে দেখেছি।”

কেন হাতিগুলো জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে এসেছে তা নিয়ে চলছে প্রচুর জল্পনা। কিন্তু এর প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। অনেকে মনে করছেন, তাদের দলনেতার ভুলের কারণে তারা ভুল পথে চলে এসেছে, আবার কেউ কেউ বলছেন, হাতিগুলো নতুন আবাসভূমি বা খাবারের সন্ধানেও লোকালয়ে চলে আসতে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, হাতিগুলো যেখানে এখন অবস্থান করছে সেখানকার তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন তাপমাত্রায় এশিয়ান এই বন্য হাতিগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। এই তাপমাত্রার কারণেই তারা খুব দ্রুত জঙ্গলে ফিরে যেতে পারে। 

তবে যেভাবে এই বন্যপ্রাণীগুলোকে সামাল দেওয়া হচ্ছে সেটাকে স্বাগত জানিয়েছে অনেকেই। স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি চীনের গণমাধ্যমগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ঘটনাটি। - তথ্য ও ছবি: সিএমজি