NAVIGATION MENU

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং: প্রধানমন্ত্রী


অতীতের চেয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুশীলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত ৪ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরভানে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সেনা সদস্যদের পাশাপাশি ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সেনা সদস্যরাও এই অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত ও সিঙ্গাপুর থেকে সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাসের মতো অদৃশ্য শত্রুর আবির্ভাব, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার এবং সময়ের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সাম্প্রতি শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৫৮ জন শান্তিরক্ষী প্রাণোৎসর্গ করেছেন এবং ২৩৭ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে আগামী দিনের নতুন সংকটগুলো মোকাবেলায় শান্তিরক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদি দিয়ে প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সাম্প্রতিক সময়ের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে কিছু ঘটনা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের ভবিষ্যত শান্তিরক্ষীরা সুপ্রশিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। এই অনুশীলনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে নারীদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি।

এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ নারী শান্তিরক্ষীসহ ১ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৫টি মহাদেশের ৪০টি দেশের ৫৪টি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমানে ৭ হাজারের অধিক বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য ১০টি মিশনে শান্তিরক্ষার উদ্দেশ্যে মোতায়েন আছে।

তিনি বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীগণ যে মিশনেই গেছেন, সেখানে জাতিসংঘের পতাকাকে সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছেন। একারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনো দেশের জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য। তেমনি, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা যাচাইয়ে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। ২০২০-২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পাশাপাশি সমগ্র বাঙালি জাতি গৌরবের সঙ্গে উদযাপন করছে আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বিশ্বের ১১৬টি দেশের নেতারা ভিডিও এবং লিখিত অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন। এসব বার্তায় অত্র অঞ্চলসহ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদানের স্বীকৃতি মিলেছে।

এমআইআর/এডিবি/