NAVIGATION MENU

বীরের মৃত্যু নেই!


মাহবুবুর রহমান মিরাজ

বীরেরা কখনো মরেনা। বীরেরা অমর। তারা অমরত্ব লাভ করে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা জীবন বিসর্জন দিতে ও দ্বিধাবোধ করে না। কখনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের জীবনের ভীষণ সুন্দর মুহূর্তগুলো বিসর্জন দিতে হয়। বিসর্জন দিতে হয় নিজের পরিবার, প্রিয়তমার ভালোবাসা ও নিজের ভালো লাগাগুলো। কারণ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব মহান ও মুখ্য। আজ আমরা আলোচনা করব চীনা সেনাবাহিনী সেই চারজন বীরকে নিয়ে, যারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে এবং মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে গিয়ে গত বছর গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন।

চীনের সরকারি সংস্থা প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই ঘটনার দিন ভারতীয় সৈন্যরা লাইন অব একচুয়াল অতিক্রম করে জড়ো হতে থাকলে চীনা সেনাবাহিনী রেজিমেন্ট কমান্ডার ছি ফাপাও তার কিছু সৈন্য নিয়ে পূর্ববর্তী শর্ত পালনের জন্য ভারতীয় সৈনিকদের সাথে আলোচনা করতে যান। কিন্তু ওই সময়ে ভারতীয় সৈনিকরা দায়িত্বহীন আচরণ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। এতে করে চীনা রেজিমেন্ট কমান্ডার ছি ফাপাও মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই সময় রেজিমেন্ট কমান্ডার ছি ফাপাও-কে উদ্ধার করতে গিয়ে চেন হাংজান নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। বয়সে সবচেয়ে তরুণ চেন শিয়াংগ্রং সামনের সারি থেকে লড়াই করেন। তিনি নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে নিজের মাতৃভূমি ও সহযোদ্ধাদের রক্ষা করেন। শিয়াও সিয়ুয়ান লড়াইয়ের সময় প্রমাণস্বরূপ ভিডিও ধারণ করছিলেন। ওয়াং চুওরান নদী পারাপারের সময় তার সহযোগীদের সাহায্য ও রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।

আঠারো বছর বয়সী চেন শিয়াংগ্রং লিখেছিলেন, “আমার হৃদয় সবচেয়ে পবিত্র অংশটি আমার দেশের জন্য সংরক্ষিত।”

চেনের জন্মদিনে ফুজিয়ান প্রদেশে তার বাড়িতে তার পরিবার তার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। আর চার মাসের মধ্যেই বাবা হবার অপেক্ষায় ছিলেন চীনের শানসি প্রদেশের জন্ম নেওয়া চেন হাংজান। শিয়াও সিয়ুয়ান তার প্রিয়তমাকে বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। আর ২৩ বছর বয়সী ওয়াং চুওরান তার সহযোদ্ধাদেরকে তার মৃত্যুর পর তার মায়ের প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান।

চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন এই বীরদের মহান আত্মত্যাগের জন্য মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার চেন হাংজানকে মরণোত্তর ‘বর্ডার ডিফেন্ডিং হিরো’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আর চেন শিয়াংগ্রং, শিয়াও সিয়ুয়ান ও ওয়াং চুওরানকে প্রদান করা হয় ‘ফাস্ট ক্লাস মেরিট’ উপাধি।

এই বীরেরা চিরজীবী হোক। এই মহান বীরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

  • লেখক ‍সিনয়ু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী