NAVIGATION MENU

বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের দ্বিতীয় দোয়া মাহফিল ও কুলখানি অনুষ্ঠিত


দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগ্রুপ সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর কর্ণধার ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক, বিশিষ্ট শিল্পপতি জয়নুল হক সিকদারের দ্বিতীয় দোয়া মাহফিল ও কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শরিয়তপুর মধুপুরের ভেদরগঞ্জে অবস্থিত জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে মরহুমকে স্মরণ করেন। দোয়া মাহফিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জয়নুল হক সিকদারের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীবৃন্দ, শুভাকাক্সক্ষী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজ এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এরআগে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জয়নুল হক সিকদারের নিজ হাতে গড়া প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ঢাকার রায়েরবাজারে অবস্থিত জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ দোয়া মাহফিল ও কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাদেক খান এমপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, এলজিআরডি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আসলামুল হক, ন্যাশনাল ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারি, সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানির আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারি,  বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীবৃন্দ, ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যবৃন্দদের মাধ্যে উপস্থিত ছিলেন-মরহুমের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, কন্যা নাসিম সিকদার, পারভীন হক সিকদার এমপি ও লিসা ফাতেমা হক সিকদার এবং পুত্র রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার এবং তাঁর নাতী-নাতনীসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন।

দোয়া মাহফিলে ন্যাশনাল ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম বুলবুল বলেন, ‘জয়নুল হক সিকদারকে হারিয়ে শুধু ন্যাশনাল ব্যাংক নয়, জাতি তাদের একজন পরীক্ষিত অভিভাবককে হারিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাঁকে শুধু একজন শিল্পপতি হিসেবে দেখলে চলবেনা; তিনি ছিলেন মানবিকতায় ভরপুর সার্বিকভাবে একজন পরিপূর্ণ মানুষ।” একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও দানবীর মানুষ হিসেবে সকল মহলে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে সমাদৃত। এছাড়া একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি শুধু দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী ছিলেন সুপরিচিত।

রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় জয়নুল হক সিকদারের নিজ হাতে গড়া প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ঢাকার রায়েরবাজারে অবস্থিত জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

সেদিন সকালে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার মধুপুর গ্রামে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান এই কৃতি সন্তানকে।

সেখানে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদানের পর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, অ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ আব্দুল আওয়াল শামীম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান, শরিয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার প্রমূখ।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

গত শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৫টা ১০মিনিটে একটি বিশেষ প্লেনে জয়নুল হক সিকদারের মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হয়।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ যোহর রাজধানীর রায়েরবাজারে জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিক্যাল কলেজের পাশে সিকদার রিয়েল এস্টেটের ফাঁকা মাঠে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদানের মাধ্যমে জয়নুল হক সিকদারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি জেড এইচ শিকদার মৃত্যুকালে স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম শিল্প উদ্যোক্তা জয়নুল হক সিকদার ১৯৩০ সালের ১২ আগস্ট ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সাথে বাংলাদেশে চলে আসেন।

জয়নুল হক সিকদার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অন্যতম অংশীদার হিসেবে দীর্ঘ সাত দশকের বেশ সময় ধরে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পর্যটন, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকের তাদের ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে জয়নুল হক সিকদারের সহায়তা পেয়েছেন।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও একজন দানশীল মানুষ হিসেবে জয়নুল হক সিকদার বিশেষভাবে সুপরিচিত। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ব্যক্তিগত আগ্রহে তিনি দারিদ্র দূরীকরণ এবং সমাজের পিছিয়েপড়া প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সহায়তা করেছেন।

জয়নুল হক সিকদার সেই ১৯৪৫ সাল থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তাঁর পাশে থেকেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার চারদিন পর ১৯ আগস্ট রায়েরবাজারে কুলখানির আয়োজন করেন। এজন্য সে সময়ের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে নানানভাবে হয়রানি করে এবং ভয়-ভীতি দেখায়, এমনকি তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত এই লম্বা সময় জয়নুল হক সিকদার তাঁর প্রিয় “মুজিব ভাই” এর প্রতি ভালবাসা থেকে খাটে না ঘুমিয়ে ঘরের মেঝেতেই ঘুমাতেন।

এমআইআর/ওআ