NAVIGATION MENU

বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক মশালের ডিজাইন প্রকাশিত


গত বৃহস্পতিবার রাতে ২০২২ বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের এক বছরের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান চিনের রাষ্ট্রীয় সাঁতারকেন্দ্র ওয়ার্টার কিউবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক গেমস এবং শীতকালীন প্রতিবন্ধী গেমসের মশালের ডিজাইন প্রকাশিত হয়। 

মশালে বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের চেতনা এবং চিনের সংস্কৃতির প্রতিফলন রয়েছে। পাশাপাশি এতে বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের সদিচ্ছা প্রতিফলিত হয়েছে।

বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের মশালের রং রূপালী ও লাল। দুটি রং বরফ ও আগুনের প্রতীক। এর মানে উদ্যমের সঙ্গে বরফ ও তুষারের বিশ্বকে জ্বালিয়ে দেওয়া এবং বিশ্বকে উষ্ণ করা। প্রতিবন্ধী অলিম্পিক গেমসের মশালের ডিজাইন শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের মতোই। তবে তার রং রূপালী ও সোনালী, যার অর্থ উজ্জ্বলতা ও স্বপ্ন। এতে ‘সাহস, দৃঢ়তা, উত্সাহ ও সমতার মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে। তাছাড়া, এ মশালের নিচে প্রতিবন্ধীদের ভাষায় লেখা হয়েছে ‘বেইজিং ২০২২ সালের প্রতিবন্ধী অলিম্পিক গেমস’। মশালটি একে অপরকে দেওয়ার সময় দু’টি মশালের মাথা যুক্ত করা যায়, যার মানে দু’ধরনের সভ্যতার বিনিময় ও মিশ্রণ।

বেইজিং হবে অলিম্পিক ইতিহাসের প্রথম নগর, যেখানে দু’বার অলিম্পিক আয়োজিত হচ্ছে। তাই এ গেমসের মশালের রূপ অনেকটা ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের মশালের মতো। নিচ থেকে উপরে চিনের ঐতিহ্যবাহী পেপার কাটিংয়ের শৈলীতে তুষারের ডিজাইন করা হয়েছে।

মশালের ডিজাইনার লি চিয়ান ইয়ে বলেন, মশালে কোনও একটি সোজা লাইন নেই। বাকা লাইন পরিবর্তনশীল, যা প্রাণচঞ্চলের প্রতীক। এটা যেন উদ্ভিদের মতো অন্তহীন। এতে ‘মানুষ ও প্রকৃতির সম্প্রীতিময় সহাবস্থানের চেতনা তুলে ধরা হয়েছে। নকশার অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে লি চিয়ান ইয়ে বলেন, একটি পাতা থেকে এ ডিজাইনের ধারণা এসেছে।

তিনি বলেন, “আমরা সে সময় একটি পাতা দেখেছি। পাতায় যে সৌন্দর্য্য দেখা যায়, তা ঐতিহ্যবাহী শৈল্পিক ডিজাইনের মতো নয়। এ ডিজাইন খুব প্রাকৃতিক, তবে উদ্ভাবনের উপাদানও রয়েছে। আমরা আগেকার মশালের সম্পূর্ণতা ও রুদ্ধতা ভেঙে খোলা রূপে ডিজাইন করেছি। এতে ফিতার রূপে আগুন জ্বালানো হয়। আগের মশালে শুধু আগুন দেখা যেতো। এ মশালে আগুন ঘুরে ঘুরে উপরের দিকে যায়। তাছাড়া, এ আগুন ছোট থেকে বড় করা যায়, দেখতে অনেক চিত্তাকর্ষক। পুরো ডিজাইন আলাদা হয়ে উঠেছে।”

মশালটিতে উচ্চপ্রযুক্তির উপাদানও রয়েছে।  আগেকার ধাতুর পরিবর্তে এবারে হালকা তবে শক্তিশালী কার্বন ফাইবার ও রজনের উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। ডিজাইনে অনেক উদ্ভাবন রয়েছে। কার্বন ফাইবার বিশেষজ্ঞ ও সিনোপেক শাংহাই পেট্রো কেমিক্যাল কর্পোরেশনের উপমহাব্যবস্থাপক হুয়াং ইয়াং ইয়ু বলেন,

 “ত্রি-মাত্রিক বয়নের পদ্ধতিতে (মশালটি) তৈরি করেছি আমরা। এটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিতে ডিজাইনারের যে কোনও সাইজে  যে কোনো রূপে তৈরি করা যায়। এটি কার্বন সাইবার প্রযুক্তির উন্নতি।”

 “দ্বিতীয়ত, আমরা বিভিন্ন নকশার মডেল ব্যবহার করেছি। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের বাকা পৃষ্ঠের চাহিদা মেটাতে সম্ভব হয়েছি। তৃতীয়ত, এক বিশেষ এবং উচ্চ তাপমাত্রার সহযোগে রজন ব্যবহার করা হয়েছে। চতুর্থত, রজনের রূপ নেওয়ার জন্য একে রূপান্তর করা হয়েছে। বিশেষ পদ্ধতিতে রজনকে মশালের রূপ দেওয়া হয়েছে, যাতে এটি আগুন ও উচ্চ তাপমাত্রা-সহনীয় হয়। তাছাড়া, মশালে সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বলার পর কেবল পানি সৃষ্টি হয় কোনো কার্বন ডাই অক্সাইড থাকে না।”

- সূত্র: চায়না মিডিয়া গ্রুপ