NAVIGATION MENU

বৈজ্ঞানিক হাইল্যান্ড তৈরি হচ্ছে কুয়াংতুং-হংকং-ম্যাকাও বেই এলাকায়


সারা বিশ্বেই বেই এলাকা সবচেয়ে উদ্ভাবনীস্থানগুলোর অন্যতম। চীনও এর ব্যতিক্রম নয়। চীনের কুয়াংতুং-হংকং-ম্যাকাও বেই এলাকা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার সাথে সাথে একে বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নবায়ন কেন্দ্রে পরিণত করার কৌশল বাস্তবায়ন এগিয়ে চলছে। কুয়াং চৌ, হংকং ও ম্যাকাও - এই তিনটি শহরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিল্প সমন্বিত করে বেই এলাকায় তৈরি হয়েছে  উন্নয়নের নতুন প্রাণশক্তি।

সড়ক পথে হংকং থেকে এক ঘন্টার রাস্তা কুয়াং তুং প্রদেশের তুং কুয়ান শহরের একটি লিচু বাগানে চীনের সর্বোচ্চ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের অবস্থান। এটি একটি সুপার মাইক্রোস্কোপের মতো, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সম্পদ ও পরিবেশ এবং নতুন জ্বালানিসহ নানা ক্ষেত্রের গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। 

চীনা বিজ্ঞান একাডেমি উচ্চশক্তির পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণালয়ের তুং কুয়ান বিভাগের উপ-পরিচালক লিয়াং থিয়ান চিয়াও বলেন, কুয়াং তুং-হংকং-ম্যাকাও বেই এলাকা চীনের উন্নত একটি নির্মাণ শিল্প কেন্দ্র, যা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প ও স্থাপনা তৈরিতে বেশ সমর্থন যোগায়। 

তিনি বলেন, “এক দিকে আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করি, দেখি তাদের উত্পাদনে কোনও বৈজ্ঞানিক সমস্যা দেখা দেয় কি না? আমাদের পদার্থবিজ্ঞান প্রযুক্তির মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করতে পারব কি না? অন্যদিকে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করি।”

তুং কুয়ান ছাড়া, কুয়াং চৌ, শেন চেন ও হুই চৌসহ বেই এলাকার নানা শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক গবেষণার বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে  উচ্চমানের ব্যক্তিত্ব, গবেষণা প্ল্যাটফর্ম, ও শিল্প কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। 

বৈশ্বিক মানের নতুন গবেষণা কেন্দ্র তৈরির উদ্দেশ্যে সং শান হু নামে একটি পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটাও চীনের পদার্থবিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রতিষ্ঠিত হবার পর গত ৩ বছরে এখানে ১০টি প্রধান বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। তাতে দুজন শিক্ষাবিদ ও ৩৩ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ ২৫টি উদ্ভাবনী দল যোগ দিয়েছে। 

পরীক্ষাগারের উপ-পরিচালক চেন তুং মিন বলেন,“সকল মৌলিক উদ্ভাবন মৌলিক গবেষণা থেকে এসেছে। মৌলিক গবেষণা শেষ করে আমরা কিছু অংশ ফলিত গবেষণায় পরিণত করি। তারপর শুরু করব কৌশল গবেষণা, তারও পরে লব্দ কৌশল উত্পাদনে ব্যবহার করব। তার মানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের পরীক্ষাগারের মাধ্যমে সব বাস্তবায়ন হবে। প্রযুক্তি এখানে ফলাফলে পরিণত হয়।”

সং শান হু পরীক্ষাগার তুং-হংকং-ম্যাকাও বেই এলাকার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি বৈজ্ঞানিক নবায়নের মাধ্যমে উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যায়। এখানে বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং এআই, ৫জিসহ নানা ডিজিটাল অর্থনীতির প্রযুক্তি নানা শিল্পে কাজে লাগছে এবং নতুন প্রজন্মের তথ্য প্রযুক্তি, উচ্চ পর্যায়ের সরঞ্জাম উত্পাদন, নিম্ন কার্বন ও জৈবওষুধসহ নানা কৌশলগত উদীয়মান শিল্পের এখানে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। 

কুয়াং তুং প্রদেশের গভর্নর মা সিং রুই বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুয়াং তুং-হংকং-ম্যাকাওর উদ্ভাবনীসংস্থা ও সম্পদের দ্রুত সমৃদ্ধি হয়েছে, যা বেই এলাকার উন্নয়নকে আরও গতিশীল করেছে। তিনি বলেন,“প্রায় ২০০জন শিক্ষাবিদ ও ৪০ জনের বেশি হংকং ও ম্যাকাওয়ের বিজ্ঞানী কুয়াং তুংয়ে এসে গবেষণা করেন। কুয়াং তুং  প্রদেশ হংকং ও ম্যাকাওয়ের জন্য ১০ হাজারের বেশি বড় বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কুয়াংচৌ-শেনচেন-হংকং বৈজ্ঞানিক নবায়ন করিডোর নির্মাণ এগিয়ে চলছে। এটি তিনটি শহরের মধ্যে স্থাপনার আন্তঃযোগযোগ তৈরি করেছে।” – সূত্র চায়না মিডিয়া গ্রুপ