NAVIGATION MENU

বোআও এশীয় ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন ও প্রসঙ্গকথা


বোআও এশিয়া ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন বুধবার চিনের হাইনান প্রদেশে শেষ হয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “বিশ্বের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ‘এক অঞ্চল, এক পথ’-এর সুর সৃষ্টি করা”। ওইদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রেস ব্রিফিংয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা পালন করায় ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ প্রস্তাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বিভিন্ন পক্ষ। পাশাপাশি, বহুপক্ষবাদ রক্ষায় যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করার কথাও সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। 

ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে বোআও ফোরামের মহাসচিব লি পাও তুং বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরাম হিসাবে চলতি বছরের বার্ষিক সম্মেলনটি মহামারীর প্রেক্ষাপটে নজিরবিহীন ঘটনা। অফলাইনে নিবন্ধের সংখ্যা অতিক্রম করে ৪ হাজার। পনরটি দেশের শীর্ষনেতা ও সরকারপ্রধান, বহু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রধান, বিশ্বের ৫০০ শক্তিশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা এবং বহু পণ্ডিত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক সমাজের ব্যাপক মনোযোগও আকর্ষণ করে সম্মেলন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ এবং রাজনীতি ও বাণিজ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের  প্রতিনিধিরা এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। এতে কেবল যে মহামারীকে কাটিয়ে ওঠা এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে তা নয়; সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও অভিন্ন উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও মতবিনিময় হয়েছে। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, “মহামারীকালে ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ এমন একটি লাইফলাইনে পরিণত হয়েছে, যার উপর নির্ভর করা যায়। মহামারী মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ-সামগ্রীর সুষ্ঠু সরবরাহ এবং অর্থের অবিরাম যোগান সম্ভব হয়েছে এই উদ্যোগের কারণে।  বিভিন্ন পক্ষ মনে করে যে, ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ প্রাণশক্তিতে ভরপুর। এটি বিশ্বের একমাত্র গণসড়ক, যা কার্যকরভাবে অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের উন্নয়ন-পরিকল্পনা এবং বহুপাক্ষিক উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পারে।”

চলতি বছর বোআও এশীয় ফোরাম প্রতিষ্ঠার ২০তম বার্ষিকী। তাই এবারের বার্ষিক সম্মেলন ফোরামের ২০তম বার্ষিকী উদযাপনী সম্মেলনও। লি পাও তুং বলেন, ফোরাম বিশ্বজুড়ে সমস্ত ক্ষেত্রে পরিবর্তন অতিক্রম করেছে। এটি এশিয়ার মতৈক্য কাজে লাগানো, এশিয়ার উন্নয়ন টেকসই করা এবং শান্তি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই সম্পর্কে লি পাও তুং আরও বলেন, “বিগত ২০ বছরে এ ফোরাম এশিয়া ও উদীয়মান অর্থনীতির উন্নয়নের ধারা অনুসরণ করেছে, এশিয়ার উন্নয়নের জন্য একটি এশীয় কণ্ঠ দিয়েছে, একটি এশীয় পরিকল্পনা পেশ করেছে, নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়েছে, এবং বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। বিগত ২০ বছরে ফোরাম বরাবরই এশিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। বিশ্বের উন্নয়নের সাথে ইতিবাচক শক্তি একীকরণের জন্য আমরা এটিকে আমাদের লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করি, এবং এশীয় অর্থনৈতিক সংহতকরণের মূল উদ্দেশ্যটি আমরা কখনও ভুলে যাইনি। বিগত ২০ বছরে ফোরাম দৃঢ়ভাবে উন্মুক্ত ও পারস্পরিক কল্যাণের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা কাজে লাগিয়ে বহুপক্ষবাদ রক্ষা করেছে এবং জাতিসংঘের মূল ভূমিকাকে সমর্থন করে গেছে।”

লি পাও তুং বলেন, ভবিষ্যতেও ফোরামটি এশিয়াকে ভিত্তি করে বিশ্বমুখী থাকবে। বিভিন্ন পক্ষের ব্যাপক সমর্থন ও অংশগ্রহণের ফলে এটি এশিয়ার কণ্ঠ হিসেবে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি, বিশ্বের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে ফোরাম। - সূত্র: সিএমজি  বাংলা