NAVIGATION MENU

বোরকা কিনে দেওয়ার কথা বলে হোটেলে নিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ


রংপুরে বোরকা কিনে দেওয়ার কথা বলে এক কলেজছাত্রীকে  আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে তারই প্রেমিক।

এদিকে মাগুরায় গভীর রাতে একটি মাঠে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। সিলেটের বিশ্বনাথে ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিয়েছে বিবাদীর পরিবার।

অপরদিকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও শেরপুরে পৃথক দুটি ধর্ষণ মামলায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উত্তরের জেলা রংপুরে বোরকা কিনে দেওয়ার কথা বলে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কলেজছাত্রীকে নিয়ে যায় তারই প্রেমিক। সেখানে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরলে স্বজনরা ঘটনা জেনে শনিবার রাতে তাকে রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি করেন। রবিবার সকালে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রী জানান, শনিবার বিকেলে কোচিং করতে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বৈরিগঞ্জে যান তরুণী। সেখানে দেখা করে প্রেমিক মিজানুর রহমান।

তাকে একটি বোরকা কিনে দেওয়ার কথা বলে রংপুর নগরীর সালেক মার্কেটে নিয়ে যায়। এর পর জোর করে পাশের আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে সটকে পড়ে। ধর্ষণে বাঁধা দিলে মিজানুর তাকে প্রচণ্ড মারপিট করে।

দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এ নির্যাতিতার বাবা ও ভাই জানান, পুলিশকে তারা অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল নগরীর আবাসিক হোটেল হওয়ায় মহানগর পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

আরপিএমপির মিডিয়া সেলের প্রধান ও মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, এরই মধ্যে ওই আবাসিক হোটেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বেতার বার্তায় মিঠাপুকুর থানাকে অবগত করা হয়েছে।

এদিকে মাগুরায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে এ ঘটনা ঘটায় পাঁচ দুষ্কৃতী। শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার জাগলা গ্রামের একটি মাঠে এ ঘটনা । এ বিষয়ে অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেছেন নির্যাতিতা নারী।

নির্যাতিতার স্বামী জানান, তিনি ও তার স্ত্রী গ্রামে গ্রামে গিয়ে ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে কামলা দিয়ে ধান সংগ্রহের কাজ করেন। গত প্রায় বিশ দিন আগে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বইনদেখালী থেকে মাগুরা সদরের জাগলা গ্রামে আসেন।

থাকার জায়গা না থাকায় তারা জাগলা এলাকার মাঠে পলিথিনের তাঁবু খাটিয়ে থাকছিলেন। শনিবার রাতে অপরিচিত ৫ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। তারপর স্ত্রীকে পার্শ¦বর্তী একটি পুকুরের কাছে মাঠে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, নির্যতিতার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ষকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

অপরদিকে  দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা বন্দোবস্ত করে দেওয়ার নাম করে এক গৃহবধূকে ধান ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা নারী। অভিযুক্তরা হলেন ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের হানিফা হাজীর ছেলে মো. বুদু ও একই গ্রামের মোকলেছার রহমানের ছেলে মো. সাগর।

গত ২০ নভেম্বর বিকালে ঘটনাটি ঘটে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এছাড়া সিলেটে জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের কান্দিগ্রাম গ্রামের সবজি বিক্রেতার কিশোরী মেয়ে ধর্ষণ মামলার এক সাক্ষী ও তার সন্তানদের হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছে ধর্ষণের অভিযোগে কারান্তরীণ যুবক ফয়সল আহমদের পরিবারের লোকজন।

হুমকি পেয়ে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন ওই সাক্ষী। তিনি একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী আকলুছ আলীর স্ত্রী জোসনা বেগম। গত ১৫ নভেম্বর এ হুমকি পাওয়ার পর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন।

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়ার পল্লীতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ শনিবার রাতে আতিক হাসান ওরফে আইয়ুব নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

আতিক হাসান উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের আটগ্রাম বেলোহালি গ্রামের প্রবাসী আবদুর রহমানের ছেলে। রাতে  বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আতিক হাসান মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।

বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বনমরিচা পশ্চিমপাড়া গ্রামে চার বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় শেরপুর থানায় মামলা হয়েছে।

এ মামলায় পুলিশ রবিবার দুপুরে অভিযুক্ত আবদুল আলিমকে গ্রেপ্তার করে। গত শনিবার শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, আবদুল আলিমকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এক বাক-প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তিন সন্তানের জনক উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের তাঁতখানা গ্রামের মৃত মরম আলীর ছেলে সাগর। প্রতিবন্ধী নারী ও অভিযুক্ত সাগর মিয়া একে অপরের প্রতিবেশী।

এ ঘটনায় ওই নারীর ভাই নিকলী থানায় অভিযোগ করেছেন। গত ১৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশী নূরু মিয়ার বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাগর মিয়ার বাড়ির টিউবওয়েলে হাত-মুখ ধুতে যান ওই প্রতিবন্ধী নারী।

এ সময় সাগর তাকে ধর্ষণ করে। নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম সিদ্দিকী জানান, অভিযোগ পেয়েছি। সত্যতা যাচাই করতে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই প্রতিবন্ধী নারীকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামি ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এস এস