NAVIGATION MENU

মানুষকে সুরক্ষা দেব, ভ্যাকসিন থেকে কেউ বাদ যাবে না: শেখ হাসিনা


দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌করোনা থেকে মানুষকে সুরক্ষায় কোনো মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে বাদ না থাকে, সেজন্য আমরা সেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি।

আজ রবিবার ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিন দিতে শুরু করেছি। ভ্যাকসিন আসছে। আমাদের দেশের সবাই যেন ভ্যাকসিনটা নিতে পারে, সে জন্য যতো দরকার, আমরা তা কিনবো এবং আমরা সেই ভ্যাকসিনটা দেব।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার এ পরিস্থিতিতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলে, সেদিক দৃষ্টি দিতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন, যদি ভারতে করোনাভাইরাসের টিকার জোগান বেড়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশকেও টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। আজ রবিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের আগরতলা যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ভারতে উৎপাদন ও জোগান বেড়ে থাকলে  যতো দ্রুতসম্ভব আমরা বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহ করবো।

গত একদিনে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭ হাজার ৮৯৪ জনে। এর আগে, ১১ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

১৮ জুলাই দেশে ভাইরাসটিতে শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৭৮ জন। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৮৯ জন। গত ১১ জুলাই থেকে প্রতিদিনই দুই শতাধিক ব্যক্তি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

দেশে করোনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ। বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৯ জন, সিলেট বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ১৪ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪ জন মারা গেছেন।

আটকানো যাচ্ছে না করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। মাঝে সংক্রমণের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে দেশে ভাইরাসটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। সে হিসেবে বর্তমানে সংক্রমণের হার দৈনিক প্রতিদিনই প্রায় ৩০ শতাংশের মতো। ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ হাজার ৫৯৩ জন।

মৃত্যুহার ৪৮ দশমিক ০২ শতাংশ।ঢাকার পর চট্টগ্রামে ৩ হাজার ২৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে যেখানে মৃত্যুহার ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হিসেবে বিশ্বে শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (৯ জুলাই পর্যন্ত) বিশ্বে যে সব দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দশম।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে ব্রাজিল। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। আর নতুন রোগী শনাক্তের দিক থেকে বিশ্বে দ্বাদশ অবস্থানে বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতেও ইদকে সামনে রেখে ১৫ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে দেশব্যাপী চলছে গণপরিবহন, খোলা থাকছে দোকানপাট ও শপিংমল। সরকার করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সবাইকে টিকার আওতায় আনতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে।

সেই হিসেবে বর্তমানে দেশটিতে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য গন টিকাদান শুরু করেছে।

এস এস