ন্যাভিগেশন মেনু

স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছে এক প্রবাসী


স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছে এক প্রবাসী। তার কাছে পাসপোর্ট নবায়নের ফিঙ্গার নেয়ার জন্য ১৩ হাজার ৫’শ ইউরো ঘুষ দাবি করেন দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম কল্যাণ) মোঃ মুতাসিমুল ইসলাম। পরে ওই কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী ইউরো না দিতে পারায় আজও পাসপোর্ট নবায়ন হয়নি এই প্রবাসীর।


এমনকি তাকে জাপানী নাগরিক বলে আখ্যায়িত করেন দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা। যার প্রেক্ষিতে দেশে আসতে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। এমনকি স্পেনের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি ভার্চুয়ালী সংবাদ সম্মেলনে। এ সময় তিনি এ সমস্যার সমাধান না হলে আত্মহত্যা করবেন বলে জানিয়েছেন।


আজ শনিবার সকালে স্পেন থেকে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে ফরিদপুরের সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এ অভিযোগ করেন প্রকাশ ছানা নামে ওই স্পেন প্রবাসী। তিনি ফরিদপুর জেলা সদরের ঈশাণগোপানপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মৃত সুভাষ সাহার পুত্র। এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি গত ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্পেনে বাংলাদেশের দূতাবাসে আমার পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে তারা আমার থেকে পাসপোর্টের ফি বাবদ ১০০ ইউরো নেয় এবং আমাকে রশিদ প্রদান করে। কিন্তু তারপর তারা আমার ফিঙ্গার নেয় না। এক পর্যায়ে দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারী মোঃ মুতাসিমাউল ইসলাম আমার কাছে স্পেন মুদ্রায় ১৩ হাজার ৫০০ ইউরো দাবি করতেছে।


তারা বলছে আমি যদি তাদের শর্ত পূরণ করি তাহলে তারা আমার পাসপোর্টের ফিঙ্গার নেবে। আমি যখন তাদের প্রশ্ন করি কেন আপনাদের আমি টাকা দেবো তখন তারা বলে কোন কথা নাই আপনাকে যে শর্ত দেয়া হয়েছে তা পূরণ করুন তারপর পাসপোর্ট বই।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর সাথে জড়িত রয়েছেন সাব রহমান নামে এক স্পেন প্রবাসী। আমি করোনা কালীন সময়ে সুদে তার কাছ থেকে ১৫ হাজার ইউরো নিই। সময় মত সেই টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছি ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে। তিনি এখন দাবি করতেছেন, আমি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার ইউরো ধার নিয়েছি, যার কোন প্রমান নেই। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ঝামেলার কারনে সে আমার নামে মামলা করে এবং আমিও তার নামে মামলা করি কারন আমি তার থেকে যেই ১৫ হাজার ইউরো নিয়েছি তা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছি। যদিও এখন উনি তা অস্বীকার করতেছেন এবং বিষয়টি আদালতে আছে। আদালত যে রায় দিবে তা আমি মাথা পেতে নিবো। এখন আমার প্রশ্নে হচ্ছে যেই বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে তা বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা যার নাম মোতাসিমুল ইসলাম উনি কি ভাবে হস্তক্ষেপ করেন। উনার কি এমন স্বার্থ যে উনি প্রবাসে আমাদের অভিভাবক হয়ে দূতাবাসের উচ্চ কর্মকর্তা হওয়া স্বত্ত্বেও আদালত অবমাননা করতেছেন। উনার কাজ হচ্ছে পাসপোর্টের ফিংগার নেওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট রেডি হয়ে আসলে তা আমাদের প্রদান করা। কিন্তু না, উনি নিজেকে বিক্রি করে দিলেন টাকার কাছে। একটি বার ভাবলেন না একজন প্রবাসীর কত বড় ক্ষতি করছেন। রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে আমার মত অসহায় কার কাছে যাবে।


প্রকাশ ছানা ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে স্পেনেন পৌঁছান। তিনবছর ক্যাম্পে কাটিয়ে পাঁচবছর অবস্থানের পর তিনি স্পেনের রেসিডেন্স কার্ড লাভ করেন। এখন সেই কার্ডের মেয়াদও শেষ। নিজের পাসপোর্টটি জমা রয়েছে স্পেন বাংলাদেশ দূতাবাসে। এমন অবস্থায় চরম অমানবিক জীবন যাপন করছেন বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।


কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমার রেসিডেন্স কার্ডের মেয়াদও শেষ। পাসপোর্ট নেই, পাসপোর্ট ছাড়া কার্ড উঠানো যায় না। আমি যে কতটা মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তারা বলে আমি নাকি জাপানি। যার কারনে আমি এখানে চিকিৎসাও নিতে পারছি না। এমনকি ব্যবসাও করতে পারছি না, দেশে যেতে পারছি না। এই পরিস্থিতিতে আমি যদি আত্মহত্যা করি তার সম্পূর্ণ দায় বাংলাদেশ এম্বাসি স্পেনের উপর।

এ বিষয়ে জানতে স্পেন দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম কল্যাণ) মোঃ মুতাসিমুল ইসলামের সাথে ই-মেইলে  যোগাযোগ করা হলে এই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে পাসপোর্ট ইস্যু হয় ডিপার্টমেন্ট অফ ইফিগ্রেশন ও পাসপোর্ট থেকে, এখানে দূতাবাসের আটকানোর ক্ষমতা নেই। আর মাদ্রিদ ছাড়াও আরো অনেক দূতাবাস আছে, বা বাংলাদেশেও পাসপোর্ট করানো যায়, সুতরাং চাইলেই যে কেউ পাসপোর্ট আটকাতে পারে না। DIP থেকে পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে না আসলে আমাদের কিছু করার থাকে না। নানা কারণে, পাসপোর্ট সংশোধন, ডুপ্লিকেট পাসপোর্ট ইত্যাদি কারণে আমাদের ৩ শতাধিক পাসপোর্ট আটকে আছে। তার সমস্যাও এমনই। মূল সমস্যা অন্যটা।