NAVIGATION MENU

স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সকালের নাস্তায় আটার রুটি


আমরা সকলেই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি একটু যত্নশীল হয়ে থাকি। আর তাই স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রতিদিন সকালে আটার রুটি খাওয়া উচিত। কারণ আটার রুটি আপনার ওজন হ্রাস করার পাশাপাশি কর্মশক্তি বৃদ্ধি করবে।

আটার রুটি উপকারীতা-

১. অ্যানার্জির মাত্রা বৃদ্ধি পায়

একাধিক কেস স্টাডি এবং গবেষণা করে দেখা গেছে রাতে রুটি খেলে শরীরে অ্যানার্জির মাত্রা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়, ফলে ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর একেবারে চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

২. ওজন হ্রাসে সাহায্য করেও

রুটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে। মাত্র ৭০। তাই তো রাতে রুটি খেলে ওজন বৃদ্ধিও কমে যায়। তাই তো যারা ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর, তারা ইচ্ছা হলে ডিনারের মেন্যুতে রুটি রাখতেই পারেন।

প্রসঙ্গত, যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে রাত যত বাড়তে থাকে, তত আমাদের শরীরের মেটাবলিজম রেট কমতে শুরু করে। তাই তো রাতে বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এবার নিশ্চয় বুঝতে পরেছেন রাতে রুটি খাওয়ার উপকারতা কতটা।

৩. শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝড়ায়

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রুটি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝড়তে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে। আর্থাৎ রাতে রুটি খেলে ওজন তো বাড়েই না। উল্টে কমতে শুরু করে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

রুটিতে উপস্থিত ফাইবার শরীরে প্রবেশ করা মাত্র হজম ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বল এবং বদ-হজমের মতো সমস্যাও কমিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, পুষ্টি মূল্য বিচারে দেখা গেছে রাতে ভাত এবং রুটির মধ্যে রুটি তাড়াতাড়ি হজম হয়। ফলে বদ-হজমের আশঙ্কা কমে।

৫. রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে

যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম হওয়ার কারণে এটি খাওয়া মাত্র রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা থাকে না। ফলে ডায়াবেটিকরা নিশ্চিন্তে সকাল-বিকাল রুটি খেতেই পারেন।

প্রসঙ্গত, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও রুটির কোনও বিকল্প হয় না, তাই যাদের পরিবারে এই মরণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা রাতে রুটি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

৬. মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রুটি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে রুটিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৭. খনিজের ঘাটতি পূরণ করে

শরীরকে সুস্থ রাখতে যে ভিটামিন এবং খনিজের প্রতিনিয়ত প্রয়োজন পরে, সেগুলি সবই রয়েছে রুটিতে। তাই তো রাতে হোক কী দিনে রুটির মত উপকারি খাবার অবহেলা করা যাবে না।

৮. ত্বকের জন্য উপকারি

রুটিতে প্রচুর মাত্রায় জিঙ্ক রয়েছে, যা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৯. ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে

রুটিতে উপস্থিত সেলেনিয়াম এবং ফাইবার একাধিক ক্যান্সার রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের পরিবারে এমন রোগের ইতিহাস রয়েছে তারা রাতে রুটি খাওয়ার বিষয় ভেবে দেখতে পারেন।

১০. আঁশযুক্ত শস্য

লাল আটার রুটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। লাল আটায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান থাকে। লাল আটার রুটি পছন্দ না করলে সাদা আটার রুটিই খেতে পারেন। কারণ সাদা আটাতেও প্রচুর পুষ্টিগুণ আছে যা শরীরে শক্তি বাড়ায় এবং রক্ত চলাচল বাড়িয়ে শরীরকে সচল রাখে।

১১. কোষ্ঠ্যকাঠিন্য কমায়

রুটির দ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। দ্রবণীয় ফাইবার পায়খানাকে নরম করে এবং সহজেই বের হতে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়।

১২. কম ক্যালোরি

রুটি ভাজতে কোনো তেল না ঘি লাগে না। শুধু মাত্র তাওয়ায় সেঁকেই রুটি তৈরি করে ফেলা যায়। ফলে রুটিতে অতিরিক্ত কোনো ক্যালোরি যুক্ত হয় না। যারা ওজন সমস্যায় ভুগছেন তারা পরোটার বদলে সকালের নাস্তায় নিয়মিত রুটি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। সঙ্গে মাংসের বদলে বেছে নিন সবজি ভাজি। তাহলে ওজন কমে যাবে সহজেই।

সিবি/এমআইআর