NAVIGATION MENU

অগ্নিঝরা মার্চ

২২ মার্চ ১৯৭১: এদিন বৈঠকে বসেন ইয়াহিয়া, বঙ্গবন্ধু ও ভুট্টো


ড. আসাদুজ্জামান খান 

আজকের সংবাদপত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার প্রতিকৃতি ছাপা হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ মার্চ সকালে ঘরে ঘরে এই পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানায়। 

এদিন বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে জনতার আগমন সম্পর্কে বলা হয় ‘এত মিছিল একদিনে এর আগে কখনও ৩২ নম্বর রোডে যায়নি। 

বাসভবনের সম্মুখে আগত শোভাযাত্রাকারী জাগ্রত বীর বাঙালির উদ্দেশ্যে একদিনে এতবার বক্তৃতা বঙ্গবন্ধুকে দিতে হয়নি। মিছিলের সেকি দুরন্ত দোলা, কণ্ঠের সে কি উত্তাপ, স্লোগানের শপথের সে কি বজ্র নির্ঘোষ। 

(দৈনিক পাকিস্তান, ২৩ মার্চ ১৯৭১)

এদিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সকালে ২৫ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে বলেন, পাকিস্তানের উভয় অংশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনাক্রমে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের পরিবেশ সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ২৫ মার্চের অধিবেশন স্থগিত রাখা হয়েছে। 

সকালে রমনার প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জুলফিকার আলী ভুট্টো আলোচনা বৈঠকে মিলিত হন। আজ ছিল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ষষ্ঠ দফা বৈঠক। বৈঠক প্রায় সোয়াঘণ্টা স্থায়ী হয়।

প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে নিজ বাসভবনে ফিরে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আন্দোলনে আছি এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

দুপুরে প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে কড়া সামরিক প্রহরায় হোটেলে ফিরে ভুট্টো তার উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠক শেষে ভুট্টোর নেতৃত্বে পিপলস পার্টি নেতৃবৃন্দ সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভবনে যান। 

রাতে সেখান থেকে ফিরে ভুট্টো হোটেল লাউঞ্জে এক অনির্ধারিত সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং আওয়ামী লীগ প্রধান বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের জন্য একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

তবে ওই ঐকমত্য অবশ্যই পিপলস পার্টির কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। পিপলস পার্টির অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত পশ্চিম পাকিস্তানিরা মেনে নিতে পারে না।

জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হাজার হাজার মানুষ বঙ্গবন্ধু বাসভবনের দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যায়। বাসভবনে সমবেত জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার বক্তৃতা দেন। 

সংগ্রামী জনতার গগণবিদারী ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনি ও করতালির মধ্যে জনগণের নেতা ঘোষণা করেন, বন্দুক, কামান, মেশিনগান কিছুই জনগণের স্বাধীনতা রোধ করতে পারবে না। 

বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে শিশুকিশোরদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে শিশুকিশোররা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। পল্টন ময়দানে সশস্ত্র বাহিনীর প্রাক্তন বাঙালি সৈনিকরা এক সমাবেশ এবং কুচকাওয়াজের আয়োজন করেন। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছে তাতে প্রাক্তন সৈনিকরা আর প্রাক্তন হিসেবে বসে থাকতে পারে না। আমাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মূল্যবান সম্পদ। 

আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পালনে প্রস্তুত।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাতে ২৩ মার্চ ‘পাকিস্তান দিবস’ উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মিলে-মিশে একসঙ্গে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। 

পাকিস্তান এখন এক ক্রান্তিলগ্নে উপনীত। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের পথে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। তবে আমরা যদি আমাদের লক্ষ্যে অবিচল থাকি তাহলে কোনো কিছুই আমরা হারাবো না।

ও আ/ এস এস

সম্পর্কিত বিষয়: