NAVIGATION MENU

‘ল্যানসেট’-এ চীনের রিকম্পিনেন্ট প্রোটিন টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত


চীনে ইতোমধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে রিকম্পিনেন্ট প্রোটিন কোভিড-১৯ টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চিকিত্সা ম্যাগাজিন ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত হয়। এ টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা কেমন? অন্য টিকার তুলনায় তার বৈশিষ্ট কী কী?


চীনের বিজ্ঞান একাডেমির মাইক্রোবায়োলজি ইনস্টিটিউট এবং আনহুই প্রদেশের জিফেই লুংখ্যমা কম্পানি যৌথভাবে এ রিকম্বিনেস্ট প্রোটিন কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে গবেষণা করছে। গত ১০ মার্চ সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদনক্রমে জরুরি পরিস্থিতিতে এ টিকার ব্যবহার শুরু হয়। চীনের বিজ্ঞান একাডেমির মাইক্রোবায়োলজি ইনস্টিটিউটের গবেষক তাই লিয়ান ফান জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দুই পর্যায়ে মোট ৯৫০ জন ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, এ টিকা বেশ নিরাপদ ও কার্যকর।


তাই লিয়ান ফান বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর টিকায় গুরুতর কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কেবল সামান্য প্রতিক্রিয়া হয়েছে -- যেমন, টিকা নেওয়ার জায়গায় ব্যথা হওয়া, স্থানটি লাল বা শক্ত হওয়া, ইত্যাদি। এসব প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো চিকিত্সা নিতে হয় না। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। কার্যকারিতার দিক থেকে দেখলে, ২ ডোজ টিকা নেওয়া ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ৩ ডোজ টিকা নেওয়া ৯৭ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তাদের শরীরে অ্যান্টিবডির সংখ্যা আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হওয়া রোগীদের প্রায় দ্বিগুণ।”


বর্তমান উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ইকুয়েডরে এ টিকার আন্তর্জাতিক তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চলছে। পয়লা মার্চ টিকাটি উজবেকিস্তানে ব্যবহারের অনুমোদন পায়।


গবেষক তাই লিয়ান ফান বলেন, “টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়নি বা হলেও অল্প হয়েছে।”


রিকম্বিনেন্ট প্রোটিন টিকা জিনতত্ত্ব প্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এটি তৈরিতে একটা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।


এ টিকা কিভাবে কাজ করে, তা গবেষক তাই লিয়ান ফান এভাবে বর্ণনা করেন, “আমরা সাপ মারার সময় তার হার্ট বা হৃদযন্ত্র লক্ষ্য করে আঘাত করি। এ টিকাও একই পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমরা ভাইরাসের কোষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বের করে বাইরের একটি কোষের ভিতরে তা উত্পাদন করি। একটি ফার্মেন্টার দিয়ে একে উত্পাদন করা হয়। প্রোটিন মানুষের শরীরে প্রবেশ করাতে খুব বেশি জটিল প্রক্রিয়া লাগে না। সাধারণ কারখানাতেও উত্পাদিত হতে পারে। এটা খুব দ্রুত উত্পাদন করা যায়। উত্পাদিত হওয়ার পর ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তা সংরক্ষণ করা যায়। এতে এই টিকা সরবরাহ করা খুব সুবিধাজনক।”


এ পর্যন্ত চীনে মোট ৪টি কোভিড-১৯ টিকা বাজারে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটার জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


গবেষক তাই লিয়ান ফান মনে করেন, চীন টিকা গবেষণার ক্ষেত্রে মৌলিক মেধাগত সমর্থন যুগিয়েছে।


তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আর্থিক বিনিয়োগ এবং সমর্থন, বিশেষ করে মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে সমর্থন যুগিয়েছে। এর ফলে মৌলিক প্রযুক্তি গবেষণার প্রাথমিক পর্যায় থেকে ব্যবহারের জন্য কম্পানির সাথে সহযোগিতা করা যায়। সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে এখন টিকাগুলো এতো দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।” - ইয়াং ওয়েই মিং