NAVIGATION MENU

জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত


গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে জেনেভাস্থ জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন।

দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

তারপর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধুঃ বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং জাতির জনকের জীবন ও কর্মের উপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

আলোচনা অনুষ্ঠানের পর দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতা ও প্রবন্ধ পাঠ করে শোনান।  

রাষ্ট্রদূত আহসান তার বক্তব্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং শৃঙ্খল ও শোষণ মুক্তির প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের মূল দিক হিসেবে বর্ণণা করেন। 

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে বাঙালি জাতিসত্তায় রূপান্তরিত করেছিলেন। নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতীয় স্বার্থের তরে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাই তিনি বাংলার সব বর্ণের, সব ধর্মের, সব মানুষের এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। সেজন্যই আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি।”

বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর পরিচালিত নির্মম হত্যাযজ্ঞকে বাঙ্গালি জাতির অস্তিত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “যে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঘাতকেরা সেই নীতি ও আদর্শকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু, ঘাতকের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবহমান থাকবে।” 

রাষ্ট্রদূত জাতির পিতার মহান আদর্শ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে সকলকে তাদের প্রয়াস অব্যাহত রাখতে বলেন।   

এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘটনাবহুল জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু আলোকচিত্র নিয়ে একটি বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত আহসান  এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীটি এবারের জাতীয় শোক দিবসের আয়োজনে এক ব্যতিক্রমী মাত্রা যোগ করে। 

পরিশেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা এ সকল অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এডিবি/