NAVIGATION MENU

জৈব নিরাপত্তায় নতুন আইন হলো চিনে


চিনের ষষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে ১৬ এপ্রিল দেশটি জৈব নিরাপত্তা আইন জারি করেছে।

জৈব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চিনের প্রথম মৌলিক আইন হিসেবে নতুন এ আইন এ ক্ষেত্রে মহামারী প্রতিরোধ,জৈবপ্রযুক্তির উন্নয়ন, পরীক্ষাগারের নিরাপত্তা, মানুষের জিনগত সম্পদও জৈবিক সম্পদ সুরক্ষা, চিনের বাইরে থেকে প্রজাতির আক্রমণ ও জীববৈচিত্র্য, জীবাণু প্রতিরোধ, জৈব সন্ত্রাসী আক্রমণ এবং জীবাণু অস্ত্রের হুমকি -এ আটটি হুমকি মোকাবিলা করবে। এ আইনের মধ্য দিয়ে চিনের জৈব নিরাপত্তা আইনগত ভিত্তি পেয়েছে।

চিনের জাতীয় গণকংগ্রেসের সংবিধান ও আইন কমিটির উপপ্রধান ছোং বিন বলেন, ‘জৈব নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন ও বিধির ভিত্তিতে জৈব নিরাপত্তা আইনে জৈব নিরাপত্তার ঝুঁকি প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা সংকলিত করা হয়েছে। আগের দুর্বলতা দূর করতে- বিশেষ করেন করোনাভাইরাস মহামারী প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় দেখা দেওয়া সমস্যা সমাধানের জন্য এই আইনটি জারি করা হয়েছে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সার্সের সংক্রমণ থেকে শুরু করে বার্ডফ্লু ও আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু এবং কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবে চিনের জৈব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। চিনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জ্বালানি আইন বিষয়ক গবেষণালয়ের প্রধান ইউ ওয়েন সুয়েন বলেন, ‘জৈব নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, মহামারী পর্যবেক্ষণ জাল ও তত্ত্বাবধান-ব্যবস্থা জাতীয় জৈব নিরাপত্তার হুমকি পর্যবেক্ষণে পূর্বসতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া, মহামারী প্রতিরোধের পেশাদার সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের আইনগত দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনটিতে জৈব নিরাপত্তা আইনে প্রধান প্রাণী ও উদ্ভিদের মহামারী রোধের জন্য একটি যৌথ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন, মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা গড়ে তোলা এবং মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। এই বিধিগুলো মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি দিয়েছে।’

চিনের বাইরে থেকে আসা ধরন চিনের জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি আঘাত হানে। প্রাকৃতিক পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জারি করা‘ চিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিষয়ক ইস্তাহার-২০১৯’ অনুসারে, চিনে ৬৬০টিরও বেশি বাইরে থেকে আসা আক্রমণাত্মক ধরনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭১টি ধরন প্রতিবেশের জন্য ইতোমধ্যেই হুমকি সৃষ্টি করেছে বা সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বায়োটেকনোলজির কারণে সৃষ্ট নৈতিক সমস্যাগুলো নিয়ে নিয়মিত বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে জৈব নিরাপত্তা আইন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জৈব-প্রযুক্তি গবেষণা, বিকাশ ও প্রয়োগের কাজে নৈতিক নীতিমালা মেনে চলতে হবে; নতুন বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তির বিষয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণায় নৈতিকতা রক্ষা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পদ্ধতিতে মেডিকেল প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে।

উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আইনবিষয়ক গবেষণালয়ের প্রধান ছিন থিয়েন পাও বলেন, ‘নীতিশাস্ত্র নৈতিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। জৈব-প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা প্রায়োগিক কাজ চালালে সাধারণ নীতিশাস্ত্র ও নৈতিকতা মেনে চলতে হবে। যেসব কাজ করা নিষেধ, আমরা সে সব কাজ করতে পারি না।’ – সূত্র: চায়না মিডিয়া গ্রুপ