NAVIGATION MENU

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল স্বাধীনতার মূল প্রেরণা শক্তি: মোজাম্মেল হক


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী   আ.ক. ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন,  একাত্তরের ছাব্বিশে  মার্চ  স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু  হলেও, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের  ভাষণটি ছিল স্বাধীনতা ঘোষণার  উজ্জীবিত হওয়ার মূল প্রেরণা শক্তি।

মুক্তিকামী বাঙ্গালীরা  ৭ মার্চের ভাষণের  পর থেকেই সারাদেশে প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছিল। তারই অংশ হিসেবে জয়দেবপুরে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়।

তিনি বলেন, একাত্তরের ওই  সময় দেশী বিদেশী গণমাধ্যম এবং  গণমাধ্যম কর্মীরা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সপক্ষে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। যা মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের স্বাধীনতা অর্জন করতে বিশেষ অনুপ্রেরণা যুগয়েছিল। 

আজ শনিবার (৬ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঊনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ও বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের (বিজেআরএফের) ও গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সহায়তায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বঙ্গবন্ধুর  ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ  ভাষণ  দিবস উপলক্ষে  আয়োজিত  এক আলোচনা  সভায়  প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন,  বাঙালি জাতির মহান স্বাধীনতার পথে প্রতিটি ঘটনা ইতিহাসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনার তৃণমূল চিত্র এবং জাতীয় ইতিহাস রচনায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সকল তথ্য, সকল ঘটনা  সঠিকভাবে  জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও  মুক্তিযুদ্ধের সূচনার তৃণমূল চিত্র এবং  মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে সংঘটিত দেশের তৃণমূল পর্যায়ে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তা সঠিকভাবে তুলে ধরে যার যার অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে  প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ হয়েছিল '৭১-এর  ১৯ মার্চ গাজীপুরের জয়দেবপুর ও চৌরাস্তায়।  স্বাধীনতার  আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পূর্বে  ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় এই সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ইতিহাসের স্বার্থে ১৯ মার্চের প্রথম সশস্ত্র  প্রতিরোধের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি  প্রয়োজন ।

প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস  সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির  আহবায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুনের সভাপতিত্ব করেন।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশের খবরের সম্পাদক ও  বিজেআরএফ সভাপতি  মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, উনিশে মার্চের অন্যতম সংগঠক ও    মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবুদল বারী , ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন, থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শামিম আল মামুন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামিম আরা, ১৯ মার্চের অন্যতম ছাত্র সংগঠক আবুল হোসেন মণ্ডল, সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী আতাউর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক আয়ুউব ভুঁইয়া।

সভায় বক্তারা বলেন,  মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা যাবেনা। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আরও তথ্য বহুল সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। 

আমরা ঊনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবসকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি চাই। সভায় গাজীপুরে একটি ঊনিশে মার্চ যাদুঘর ও একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং ঊনিশে মার্চ নামে জয়দেবপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত  যাতায়াতকারী ট্রেনের নামকরণ করার জন্যও সভায়  দাবি জানানো হয়।

সভায় বক্তারা ৭ মার্চের ভাষণের পর ১৯ মার্চের প্রেক্ষাপট ও জাতীয় ইতিহাসের অংশ জয়দেবপুরের গৌরবগাঁথা ঊনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও ‘মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের বছরে ঊনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় তৃণমুল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সারাদেশে যে সংগ্রাম কমিটি গঠন করেছিল তারই অংশ হিসেবে ঢাকার উপকন্ঠে জয়দেবপুর, চৌরাস্তা ও টঙ্গিতে গণপ্রতিরোধ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।

তৃণমূল পর্যায়ে গড়ে ওঠা গণপ্রতিরোধ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবসের মধ্যে জয়দেবপুর ও চৌরাস্তার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাঙ্গালী জাতিকে বিশেষভাবে উদ্বেলিত করেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ থেকে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালী জাতি যার যা কিছু আছে তা নিয়েই শত্রু বাহিনীকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এরই অংশ হিসেবে ১৯ মার্চ ৭১-এর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব-এর বিরুদ্ধে বর্তমান গাজীপুরের  জয়দেবপুর ও চৌরাস্তার সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে ওঠে।

পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জাহান জেব-এর  নেতৃত্বে জয়দেবপুর ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশে জয়দেবপুর আসার আগে ও পরে সংঘটিত জয়দেবপুরবাসীর প্রতিরোধ যুদ্ধের গৌরবোউজ্জ¦ল ভূমিকার ঘটনা জাতীয় ইতিহাসের অংশ ।

এই ঘটনার পর সারাদেশে  ‘‘জয়দেবপুরের পথ ধর’, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন কর’’ এই শ্লোগান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি সারাদেশে তৃণমুল পর্যায়ে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তারই অংশ হিসেবে ঊনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবসটি একটি খুবই গুরুত্বর্পূর্ণ দিবস ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও ‘মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ উদযাপনের বছরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনাক্ষেত্র জয়দেবপুরের গৌরবগাঁথা ঊনিশে মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবসটি  জাতীয়ভাবে  উদযাপন করার দাবিতে গাজীপুরের সর্বস্তরের জনতা আবেদন জানিয়ে আসছে।

এই দিবসটি পালন উপলক্ষে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীরা বিশেষ অবদান রাখতে পারে। যেভাবে ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর থেকে দেশী বিদেশী গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীরা  বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিরাট  ভূমিকা রেখেছিল। যা মুক্তিকামী বাঙ্গালী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার দেশের  স্বাধীনতা অর্জন  করতে বিশেষ অনুপ্রেরণা যুগয়েছিল। 

এস এস