NAVIGATION MENU

বৈশ্বিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে বোআও এশিয়া ফোরাম


বোআও এশীয় ফোরাম প্রতিষ্ঠার ২০তম বার্ষিকী এ বছর। উনিশ বছর আগে ফোরামের প্রথম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বোআও এশীয় ফোরামের ব্যাপকতা ও প্রভাব বেড়ে চলেছে। এর ফলে বিভিন্ন পক্ষের মতের মিলন হয়েছে, এশীয় অঞ্চলের অর্থনীতির অখণ্ডতা এগিয়ে যাচ্ছে, অভিন্ন উন্নয়ন বেগবান হচ্ছে এবং এশিয়া ও বোয়াও বিশ্বের সমস্যা সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

বোআও এশীয় ফোরামের সদরদপ্তর চীনে। উনত্রিশটি সদস্য দেশের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বেসরকারি ও অলাভজনক সংস্থা। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইনান প্রদেশে বোআও আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। নিয়মিত এ সংস্থার বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। 

এশিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ফোরাম হিসেবে বোআও এশীয় ফোরাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো এশিয়ার অর্থনৈতিক অখণ্ডতাকে বেগবান করা। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুকুদা ইয়াসুও বোআও এশীয় ফোরামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার অর্থনীতির একীকরণ হলো আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য আমরা বিভিন্ন দেশের পণ্ডিত ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানাই।’

প্রতি বছর বোআও এশীয় ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে বিশ্বের আলোচিত বিষয় নির্ধারণ করা হয়। ফোরাম ও বার্ষিক সম্মেলনের সাফল্য দিন দিন এশিয়া তথা বিশ্বে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে। এক্ষেত্রে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

চীনের আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পরিক্ত গবেষণালয়ের গবেষক ইয়াং সি ইউ মনে করেন, বোআও এশীয় ফোরাম এশিয়ার মতের মিলন ঘটানোর পর থেকে ‘এশিয়ার কণ্ঠ’ হয়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মহলের চিন্তাধারা বিনিময়ের প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ বছরের উন্নয়নের পর বোআও এশীয় ফোরামের দুটি গতিধারা তৈরি হয়েছে। একটি গতিধারার মাধ্যমে বহু পদ্ধতি ও বহু পর্যায়ে চীন ও এশিয়া, এশিয়া ও বিশ্ব এবং চীন ও বিশ্বের বেসরকারি বিনিময় এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্বিতীয় গতিধারা সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে। চীনের কূটনৈতিক অবস্থা সমন্বয় করা এবং এশিয়ার অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি প্রতিষ্ঠার মূল ধারা প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

বহির্বিশ্ব মনে করে, এশিয়ার প্রথম ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক সত্তা হিসেবে চীন বোআও এশীয় ফোরামের এই প্লাটফর্মকে গুরুত্ব দেয়। এর মাধ্যমে এশীয় অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য ‘চীনের কণ্ঠ’ তুলে ধরা হয় এবং ‘চীনের বুদ্ধি’ দিয়ে অবদান রাখা হয়। এশিয়া ও বিশ্বের নানা সমস্যা সমাধানে চীন আরও বেশি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা ও অভিন্ন কল্যাণ বেগবান হয়েছে এবং বিশ্বায়নে এশীয় অঞ্চলের যোগদানের গতি বেড়েছে। 

আগামী রোববার থেকে হাইনান প্রদেশের বোআওতে ‘বোআও এশীয় ফোরামের’ ২০২১ সালের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিশ্বের বড় পরিবর্তন: যৌথভাবে বিশ্ব পরিচালনা করা এবং ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া’। 

এতে ‘চীনকে জানা’, ‘বিশ্বের পরিবর্তন মোকাবিলা করা’ এবং ‘এক অঞ্চল, এক পথের সহযোগিতা’সহ ৬টি অংশের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন পক্ষ গভীর আলোচনার মাধ্যমে মহামারী পরবর্তী বিশ্বের উন্নয়ন ও বিশ্ব পরিচালনার জন্য আরো বেশি মতের মিলন ঘটাবে এবং মহামারী দূর করা, বিশ্ব পরিচালনা পূর্ণাঙ্গ করে তোলা আর বিশ্ব অর্থনীতি চাঙ্গা করে তোলার জন্য ‘বোআও পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করবে। -  সূত্র: চায়না মিডিয়া গ্রুপ