NAVIGATION MENU

‘১৮ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হবে মুক্তিযোদ্ধাপত্নী ধর্ষণ মামলা’


দীর্ঘ ১৮ বছর পর সাতক্ষীরা কলারোয়ার মুক্তিযোদ্ধাপত্নীর ধর্ষণ মামলা পুনরুজ্জীবিত হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাপত্নী ১৮ বছর আগে সংঘটিত এই ধর্ষণকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার নতুন করে শুরু করার আহবান জানান। একইসাথে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলারও বিচার চেয়েছেন।

শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু উপহার নিয়ে ধর্ষিতার সাথে তার বাড়িতে এসে সাক্ষাৎ করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, ডেপুটি এটর্নি জেরারেল সুজিত চ্যাটার্জী, হাশেম আলী ও তাদের সঙ্গীরা। তিনি এসময় তার কাছে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খোঁজখবর ও শুভেচ্ছা উপহার দিতে এসেছি। ‘২০০২ সালে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেখতে এসেছিলেন। তখন বিএনপি এবং এখানকার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাকে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিলো। ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো।

তিনি বলেন, ‘এখানকার জনগণই তাকে বাঁচিয়েছিলেন। আপনারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে বাঁচিয়েছিলেন। সেজন্য আজকে আমরা তাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের বলেছেন যে ধর্ষিতা ওই নারীকে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য এবং তিনি কী অবস্থায় আছেন, তার মামলা কী অবস্থায় আছে এই সব কিছুর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য আমাদের বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা তাকে উপহার প্রদান করেছি।’

২০০২ সালের ২৬ আগস্ট হিজলদী গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী। গভীর রাতে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিকটস্থ একটি জঙ্গলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনার পর ৩০ আগস্ট খুলনা সফররত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা খুলনা থেকে তাকে দেখতে সাতক্ষীরা হাসপাতালে আসেন। পরে তিনি যশোর অভিমুখে ফিরে যাবার সময় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। সে সময় শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও তার সফরসঙ্গীদের কয়েকজন আহত হন। এ সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

ওই ধর্ষণ মামলার সাতক্ষীরার আদালতে আমিরুল বৈদ্য, আসাদুজ্জামান, তোজাম্বর ও হাসানের বিরুদ্ধে পুলিশ ২০০২ সালের ২১ নভেম্বর চার্জশিট দেয়। এতে সবাই খালাস হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি চলে যান যশোরের মনিরামপুরে। এরপর দীর্ঘসময় ঢাকায় কাটিয়ে সম্প্রতি তিনি বাড়ি ফিরেছেন।

সিবি/এডিবি