NAVIGATION MENU

টিকটক দম্পত্তির টার্গেট থাকতো ১৫ থেকে ২৫ বছরের সুন্দরী তরুণী

বাংলাদেশ থেকে কিশোরী-তরুণী পাচার করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ে দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগ প্রকাশের পরেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে এক তরুণীকে টিকটকে যুক্ত ও ভারতে ভালো কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাঙ্গালুরুতে নিয়ে যৌন নির্যাতন ছাড়াও দৈহিকভাবে চরম অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশ পায়।

এই ঘটনা সামনে আসার পরেই সর্বত্র শোরগোল শুরু হয়ে যায়। দাবি ওঠে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত:  নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে   আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী রিফাদুল ইসলাম হৃদয় গ্রুপের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী।

শুধু ভারত নয়- মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে তরুণী ও যুবতী  পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযানে নেমেছে দেশের আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। টিকটকের  মডেল বানানো ও ভালো চাকরীর লোভ দেখিয়ে ভারতে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গত পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব।

ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার ৭৭ দিন পর কৌশলে দেশে ফিরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করে এক কিশোরী। মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় মেহেদী হাসান, মহিউদ্দিন ও আব্দুল কাদেরকে। আদালত প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তার মগবাজারের টিকটক হৃদয় বাবু এই নারী পাচারকারীচক্রের হোতা। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে প্রায় দেড় হাজার নারী পাচারের শিকার হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। ওই কিশোরী দেশে ফিরে হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করে। এরআগে মঙ্গলবার তিনজনকে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী দাবকপাড়া কালিয়ানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামি মেহেদী হাসান স্বীকার করেছে, ওই কিশোরীসহ দেড় হাজারের বেশি নারীকে তারা ভারতে পাচার করেছে। গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামি মহিউদ্দিন ও আব্দুল কাদের মামলার বাদী ভুক্তভোগীসহ পাঁচ শতাধিক নারীকে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যেতে সহায়তার কথা স্বীকার করে।

পাচারের শিকার ওই কিশোরীর সঙ্গে ২০১৯ সালে হাতিরঝিলে মধুবাগ ব্রিজে টিকটক হৃদয় বাবুর পরিচয় হয়। টিকটক স্টার বানানো বা ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দিয়ে ওই কিশোরীকে প্রলুব্ধ করে বাবু।

শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া রুবেল সরকার ওরফে রাহুল (৩২) ও তার স্ত্রী সোনিয়া (২৫) আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী সুন্দরী তরুণীদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে পাচার করে।

প্রাথমিক অবস্থায় তরুণীরা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে রাজি না হলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জোরপূর্বক প্রয়োগ করে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করতো। রুবেল সরকার রাহুল ও তার স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

এস এস