NAVIGATION MENU

১ম স্বামীকে দিয়ে হাত পাকিয়ে মা-বাবা-বোনকে হত্যা তরুণী মুনের


খোদ রাজধানী ঢাকার কদমতলীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা করেছে বাড়ির বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুন। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ঘাতকের দ্বিতীয় স্বামী ও সন্তান। পুলিশ সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে না গেলে দ্বিতীয় স্বামী শফিকুল ইসলাম ও আগের ঘরের মেয়ে তৃপ্তিয়াকে মেরে ফেলত, তিন খুনে অভিযুক্ত মেহজাবিন ইসলাম মুন।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে বাবা-মা ও বোনকে হত্যা করে মেহজাবিন মুন। এরপর আজ শনিবার সকালে  ৯৯৯-এ ফোন করে মুন জানায়, পুলিশ দ্রুত না আসলে দ্বিতীয় স্বামী ও সন্তানকে সে মেরে ফেলবে। এরপরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।

আর জখম অবস্থায় মুনের দ্বিতীয় স্বামী ও সতীনের মেয়েকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। মুনকে আটক করেছে কদমতলী থানা পুলিশ। এদিন দুপুরে তাকে আটকের পর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরআগে সকালে ঢাকার মুরাদপুর এলাকার ২৮, লালমিয়া সরকার রোডের ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মেহজাবিনের মা মৌসুমী ইসলাম (৪০) বাবা মাসুদ রানা (৫০) ও বোন জান্নাতুলের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়। জখম অবস্থায় মুনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও তার আগের ঘরের মেয়ে মারজান তাবাসসুম তৃপ্তিয়াকে (৬) ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

 পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় মুন। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে মা-বাবা ও বোনকে গলায় রশি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামী ও শিশু সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে তারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। 

ঘাতকের চাচাতো বোন শিলা জানান, মুন তার পরিবারের সবাইকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। সে তার আগের ঘরের স্বামীকেও খুন করেছিল। সেই মামলায় মেহজাবিনসহ তার নিহত বাবা-মা ও বোনের জেল হয়েছিল। পাঁচ বছর জেল খেটে তারা জামিনে ছাড়া পায়।

তিনি জানান, দুদিন আগে স্বামী সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে মুন। এসেই তার ছোট বোনের জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অভিযোগ করে। এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে ধরেই ঘটে তিন হত্যাকাণ্ড। প্রতিবেশীর জানিয়েছেন, জায়গা-সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য বাবা-মাকে অনেকদিন ধরেই চাপ দিচ্ছিল মুন।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শফিকুল বলেন, শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। গতকাল রাতে খাবার ও চা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার মেয়েও অচেতন হয়ে যায়।

এস এস